মৌলভীবাজার জেলার কুলাউড়া উপজেলার রাউৎগাঁও ইউনিয়নের পালগ্রাম-মুকুন্দপুর সড়কের ফানাই নদীর ওপর পাকার সেতুটি বন্যার পানির স্রোতে ভেঙে তলিয়ে যাওয়ায়, তিনটি ইউনিয়নের ৩০টি গ্রামের কয়েক হাজার মানুষ ও শত শত স্কুল, কলেজ ও মাদরাসাগামী শিক্ষার্থীরা চরম দুর্ভোগে পড়েছেন। ভেঙে যাওয়া ব্রিজের পাশে এলাকাবাসীর অর্থায়নে তৈরি করা নড়বড়ে বাঁশের সাঁকোটি এখন মানুষ পারাপারের একমাত্র ভরসা হয়ে উঠেছে। পাহাড়ি ঢলে নদীর পানি বৃদ্ধি পেলে শেষ ভরসার সাঁকোটিও তলিয়ে যায়। এতে চরম দুর্ভোগে পড়েছেন এলাকাবাসী ।
সরেজমিন এলাকায় গেলে স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, ১০ বছর আগে নির্মিত পালগ্রাম-মুকুন্দপুর সড়কের পাকা সেতুটি গত ৫ বছর আগে বন্যার পানির স্রোতে ভেঙে ভেসে যায়। এরপর থেকে পালগ্রাম, বাগাজুরা, একিদত্তপুর, কবিরাজি, মিনারমহল, প্রতাবী, গুতগুতি, শংকরপুর, কালিটি চা বাগান, রাঙ্গিছড়া চা বাগান, গাজিপুর চা বাগান, বনগাঁও, লক্ষ্মীপুর, করেরগ্রাম, রুস্তমপুর, বাবনিয়া, হাসিমপুর ও বেরীসহ প্রায় ৩০টি গ্রামের মানুষ চরম দুর্ভোগে পড়েছেন। এছাড়াও অন্তত ছয়-সাতটি ঘনবসতি গ্রামের শতাধিক স্কুল-কলেজ ও মাদরাসাগামী শিক্ষার্থী যাতায়াতের ক্ষেত্রে চরম বিপাকে পড়েছে।শিক্ষার্থীরা ওই সড়ক ব্যবহার করে ফানাই নদীর সেতু অতিক্রম করে স্থানীয় লংলা আধুনিক ডিগ্রি কলেজ, মাস্টার শরাফত আলী উচ্চ বিদ্যালয়, চৌধুরী বাজার আলিম মাদরাসাসহ বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে যাতায়াত করেন। পরবর্তীতে গ্রামবাসীর অর্থায়নে নির্মিত হয় বাঁশের সাঁকো। বর্ষা মৌসুম এলে আকস্মিক বন্যা ও পাহাড়ি ঢলে বাঁশের সাঁকোও পানিতে ডুবে যায়। ফলে শিক্ষার্থীসহ এলাকাবাসী পারাপারে প্রবল ঝুঁকির মধ্যে পড়ে যান। বর্তমানে বন্ধ হয়ে গেছে যানবাহন চলাচল। বিয়ে-শাদির গাড়ি, রোগী বহনকারী অ্যাম্বুলেন্স, ধান-চাল, গরু, মহিষ, শাকসবজিসহ নানা পণ্য বাজারজাত করার যানবাহন চলাচল বন্ধ হওয়ায়, ৩০ গ্রামের মানুষ চরম দুর্ভোগ ও হতাশায় নিমজ্জিত হয়েছেন। তারা এই সহজ রাস্তায় যাতায়াত না করে, বর্তমানে অনেক দূরবর্তী রাস্তা ব্যবহার করছেন।
স্থানীয় শিক্ষার্থীরা জানায়, আমরা খুব কষ্ট করে জীবনের ঝুঁকি নিয়ে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে যাতায়াত করছি। আমাদের মধ্যে অনেকেই স্কুল-কলেজ ও মাদরাসায় এই বাঁশের নড়বড়ে সাঁকো পার হয়ে যেতে আগ্রহ হারাতে বসেছে।
নদী তীরবর্তী স্থানীয় বাসিন্দারা বলেন: পালগ্রাম-মুকুন্দপুর সড়কের ফানাই নদীর ওপর সেতুটি ভেঙে বন্যার পানিতে তলিয়ে গেছে। নির্মাণ হওয়ার ১০ বছর পার হতেই সেতুটি ভেঙে পানিতে ভেসে গেল।
এ ব্যাপারে কুলাউড়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা সানজিদা আক্তার বলেন, কুলাউড়া উপজেলায় নতুন যোগদান করেছি। তাই বিষয়টি সম্পর্কে আমি অবগত নই। খোঁজ নিয়ে যত দ্রুত সম্ভব সেতু নির্মাণের ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
TCV/- কুলাউড়া












