গত ১২ জুলাই মৌলভীবাজার জেলা শিল্পকলা একাডেমিতে একটি ধর্মীয় সভায় আনজুমানে আল ইসলাহ-এর সভাপতি ও আওয়ামী আমলের সাবেক সংসদ সদস্য মাওলানা হুছামউদ্দিন চৌধুরী ফুলতলী ময়মনসিংহের একটি সাম্প্রতিক হত্যাকাণ্ড নিয়ে একটি বক্তব্য দিয়েছেন। ৪৪ মিনিট ৪৭ সেকেন্ডের ভিডিওর ২ মিনিট ১১ সেকেন্ডে তিনি দাবি করেছেন, “সপ্তাহ দিন আগে যে নেক্কারজনক ঘটনা বাংলাদেশে ঘটেছে। চার ভাই মিলে এক ভাইকে হত্যা করেছে। হত্যার পেছনের কারণ হচ্ছে, সে ভাইটি তার মাকে বেইজ্জত করেছে।”
তবে অনুসন্ধানে দেখা যায়, মাওলানা হুছামউদ্দিন চৌধুরীর এই দাবিটি সম্পূর্ণ তথ্যবিকৃত এবং বিভ্রান্তিকর।
গত ৫ জুলাই ময়মনসিংহে ঘটে যাওয়া উক্ত হত্যাকাণ্ডটি কোনো পারিবারিক বা ভাইয়ে-ভাইয়ে বিরোধের ঘটনা ছিল না; বরং এটি ছিল বাসা ভাড়া ও মাদকের আসর বসানোকে কেন্দ্র করে বাড়িওয়ালা পরিবারের সাথে একজন বহিরাগত ভাড়াটিয়ার দ্বন্দ্বের ফল।
দেশের মূলধারার গণমাধ্যম প্রথম আলো, এনটিভি অনলাইন, যুগান্তর এবং ময়মনসিংহ জেলা পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশনের (পিবিআই) প্রেস ব্রিফিং থেকে জানা যায়, গত ৫ জুলাই (রবিবার) ময়মনসিংহ নগরীতে রাজিব আহমেদ রুবেল ওরফে কাইল্যা রুবেল (৪০) নামের এক ভাড়াটিয়াকে হত্যা করা হয়।
পিবিআই সূত্র জানায়, নিহত রুবেল এলাকায় মাদকসেবী হিসেবে পরিচিত। এর আগে তার নামে থানায় মামলাও রয়েছে। ময়মনসিংহ নগরীর রামকৃষ্ণ মিশন রোডের পারুল নামে এক নারীর বাসায় ভাড়া থাকতেন রুবেল। সেখানে নিয়মিত মাদক সেবন ও মাদক কেনাবেচার কাজ করতেন রুবেল। এসব টের পেয়ে তাকে বাসা ছাড়তে বলেন বাড়িওয়ালা পারুল। একপর্যায়ে বাগ্বিতণ্ডার জেরে ভাড়াটিয়া রুবেল ক্ষিপ্ত হয়ে বাড়িওয়ালা পারুল বেগমকে রবিবার (৫জুলাই) সকালে মারধর ও শ্লীলতাহানি করেন। পারুলের ছেলে জনি এসব দেখছিলেন। বিষয়টি তিনি অন্য তিন ভাইকে জানান। এরপর চার ভাই (জনি, রকি, রহমত, ইমরোজ) রুবেলের ঘরে গিয়ে তাকে প্রথমে বাঁশ দিয়ে মারধর করেন। পরে তার গলা কেটে পালিয়ে যান। ঘটনার পর রবিবার (৫ জুলাই) রাতেই পুলিশ ওই চার ভাইকে গ্রেপ্তার করেছে এবং তারা স্বীকারও করেছে।
এদিকে আওয়ামী আমলের সাংসদ মাওলানা হুছামউদ্দিন চৌধুরী তার বক্তব্যে ঘটনার মূল প্রেক্ষাপট সম্পূর্ণ বদলে দিয়েছেন, তবে প্রকৃত সত্য হচ্ছে—
•বহিরাগত ভাড়াটিয়া (রাজিব আহমেদ রুবেল ওরফে কাইল্যা রুবেল), তিনি বাড়িওয়ালার ছেলে বা আপন ভাই ছিলেন না।
•বাড়িওয়ালা নারী পারুলকে শ্লীলতাহানি করেছে ভাড়াটিয়া রাজিব আহমেদ রুবেল ওরফে কাইল্যা রুবেল, পারুলের কোনো সন্তান পারুলকে শ্লীলতাহানি করেনি।
•চার ভাই মিলে তাদের নিজেদের কোনো আপন ভাইকে হত্যা করেনি, বরং মায়ের ওপর হামলাকারী বহিরাগত ভাড়াটিয়াকে হত্যা করেছে।
ময়মনসিংহ নগরীর আর কে মিশন রোডে ভাড়াটিয়া কর্তৃক বাড়িওয়ালা নারীকে শ্লীলতাহানি ও তার জেরে চার ভাইয়ের হাতে ভাড়াটিয়া খুনের বাস্তব ঘটনাটিকে মাওলানা হুছামউদ্দিন চৌধুরী ফুলতলী সম্পূর্ণ ভুলভাবে এবং তথ্য বিকৃত করে ‘নিজের ভাইকে হত্যার ঘটনা’ হিসেবে প্রচার করেছেন। তার এই দাবিটি মিথ্যা ও বিভ্রান্তিকর।
















