বাংলাদেশ ০২:৪২ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ১৭ জুলাই ২০২৬, ১ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

মৌলভীবাজারে ১০ হাজার পরিবার পানিবন্দি, খাবার-বিশুদ্ধ পানি সংকট

টানা বর্ষণ ও ভারতের উজান থেকে নেমে আসা পাহাড়ি ঢলে মৌলভীবাজারে গত তিনদিন ধরে বন্যা পরিস্থিতি সৃষ্টি হয়েছে। জেলার চারটি উপজেলায় ১০ হাজার পরিবার পানিবন্দি হয়ে পড়েছে। আশ্রয়কেন্দ্রে আশ্রয় নিয়েছে মানুষজন।

এদিকে বন্যা কবলিত এলকায় খাবার ও বিশুদ্ধ পানির তীব্র সংকট দেখা দিয়েছে। তবে সময় যত যাচ্ছে বন্য পরিস্থিতি উন্নতি হচ্ছে। জেলার নদ-নদীর পানি কমতে শুরু করেছে।

জানা যায়, মনু ও ধলাই নদীর প্রতিরক্ষা বাঁধের ভাঙনে জেলা সদর, কমলগঞ্জ, রাজনগর ও কুলাউড়া উপজেলার ২৮টি ইউনিয়নের প্রায় ১০ হাজার পরিবার পানিবন্দি হয়ে পড়েছে। রাজনগর ও সদর উপজেলার ১৯টি আশ্রয়কেন্দ্রে ২ হাজার মানুষ আশ্রয় নিয়েছেন। জেলায় প্রায় ৫০ হাজার মানুষ বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত হলেও খাবার বা সহযোগিতা মেলেনি এখনো। হাতেগোনা কিছু মানুষ খাবার পেলেও বেশিরভাগ বন্যার্তরা এখনও ত্রাণ পাননি।

জেলা প্রশাসক সূত্রে জানা যায়, জেলায় ৫টি উপজেলায় প্রায় ১০ হাজার পরিবার পানিবন্দি, ৩৮ হাজার মানুষ ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন। বন্যাদুর্গত মানুষের জন্য ১ হাজার ৭৫০ প্যাকেট শুকনো খাবার, ৯০ মেট্রিক টন চাল ও ৫ লাখ টাকা বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে।

সরেজমিনে জেলার কমলগঞ্জ উপজেলার পতনঊষার, রহিমপুর ও রাজনগর উপজেলার টেংরা, কামারচাক, প্রেমনগরসহ বিভিন্ন বন্যা কবলিত এলাকা ঘুরে দেখা যায়, বন্যার পানি কমতে শুরু করেছে। তবে এখনো মানুষের ঘর ও বাইরে পানি রয়েছে। বন্যা কবলিত বেশিরভাগ এলাকায় সরকারি বা ব্যক্তি উদ্যোগে কোনো শুকনো খাবার বা কোনো সহযোগিতা পৌঁছায়নি। যাদের ঘরে পানি উঠেছে তারা মানবেতর জীবনযাপন করছেন।

রাজনগর উপজেলার কামারচাক ইউনিয়নের বন্যাকবলিত এলাকার সাইফুর রহমান, হাওয়া বেগম, সইফুল মিয়া বলেন, আমরা তিনদিন ধরে পানিবন্দি। আমাদের এলাকায় অনেকের ঘরে হাঁটুপানি। সরকারি বেসরকারি কেউ কোনো খাবার দেয়নি। যাদের ঘরে পানি তারা খুবই কষ্ট করে আছে।

মৌলভীবাজার পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী খালেদ বিন ওয়ালিদ বলেন, জেলার নদ-নদীর পানি গতকাল রাত থেকে কমতে শুরু করেছে। আশা করি পানি দ্রুত নেমে যাবে।

মৌলভীবাজারের জেলা প্রশাসক তৌহিদুজ্জামান পাভেল বলেন, বন্যার্তদের জন্য এরইমধ্যে খাবার, চাল ও টাকা বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে। সেনাবাহিনীসহ সকল ধরনের আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে প্রস্তুত রাখা হয়েছে। প্রয়োজনে তাদের সহযোগিতা গ্রহণ করা হবে।

মৌলভীবাজারে ১০ হাজার পরিবার পানিবন্দি, খাবার-বিশুদ্ধ পানি সংকট

প্রকাশিত: ১১:৪২:৪৭ অপরাহ্ন, শনিবার, ১১ জুলাই ২০২৬

টানা বর্ষণ ও ভারতের উজান থেকে নেমে আসা পাহাড়ি ঢলে মৌলভীবাজারে গত তিনদিন ধরে বন্যা পরিস্থিতি সৃষ্টি হয়েছে। জেলার চারটি উপজেলায় ১০ হাজার পরিবার পানিবন্দি হয়ে পড়েছে। আশ্রয়কেন্দ্রে আশ্রয় নিয়েছে মানুষজন।

এদিকে বন্যা কবলিত এলকায় খাবার ও বিশুদ্ধ পানির তীব্র সংকট দেখা দিয়েছে। তবে সময় যত যাচ্ছে বন্য পরিস্থিতি উন্নতি হচ্ছে। জেলার নদ-নদীর পানি কমতে শুরু করেছে।

জানা যায়, মনু ও ধলাই নদীর প্রতিরক্ষা বাঁধের ভাঙনে জেলা সদর, কমলগঞ্জ, রাজনগর ও কুলাউড়া উপজেলার ২৮টি ইউনিয়নের প্রায় ১০ হাজার পরিবার পানিবন্দি হয়ে পড়েছে। রাজনগর ও সদর উপজেলার ১৯টি আশ্রয়কেন্দ্রে ২ হাজার মানুষ আশ্রয় নিয়েছেন। জেলায় প্রায় ৫০ হাজার মানুষ বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত হলেও খাবার বা সহযোগিতা মেলেনি এখনো। হাতেগোনা কিছু মানুষ খাবার পেলেও বেশিরভাগ বন্যার্তরা এখনও ত্রাণ পাননি।

জেলা প্রশাসক সূত্রে জানা যায়, জেলায় ৫টি উপজেলায় প্রায় ১০ হাজার পরিবার পানিবন্দি, ৩৮ হাজার মানুষ ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন। বন্যাদুর্গত মানুষের জন্য ১ হাজার ৭৫০ প্যাকেট শুকনো খাবার, ৯০ মেট্রিক টন চাল ও ৫ লাখ টাকা বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে।

সরেজমিনে জেলার কমলগঞ্জ উপজেলার পতনঊষার, রহিমপুর ও রাজনগর উপজেলার টেংরা, কামারচাক, প্রেমনগরসহ বিভিন্ন বন্যা কবলিত এলাকা ঘুরে দেখা যায়, বন্যার পানি কমতে শুরু করেছে। তবে এখনো মানুষের ঘর ও বাইরে পানি রয়েছে। বন্যা কবলিত বেশিরভাগ এলাকায় সরকারি বা ব্যক্তি উদ্যোগে কোনো শুকনো খাবার বা কোনো সহযোগিতা পৌঁছায়নি। যাদের ঘরে পানি উঠেছে তারা মানবেতর জীবনযাপন করছেন।

রাজনগর উপজেলার কামারচাক ইউনিয়নের বন্যাকবলিত এলাকার সাইফুর রহমান, হাওয়া বেগম, সইফুল মিয়া বলেন, আমরা তিনদিন ধরে পানিবন্দি। আমাদের এলাকায় অনেকের ঘরে হাঁটুপানি। সরকারি বেসরকারি কেউ কোনো খাবার দেয়নি। যাদের ঘরে পানি তারা খুবই কষ্ট করে আছে।

মৌলভীবাজার পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী খালেদ বিন ওয়ালিদ বলেন, জেলার নদ-নদীর পানি গতকাল রাত থেকে কমতে শুরু করেছে। আশা করি পানি দ্রুত নেমে যাবে।

মৌলভীবাজারের জেলা প্রশাসক তৌহিদুজ্জামান পাভেল বলেন, বন্যার্তদের জন্য এরইমধ্যে খাবার, চাল ও টাকা বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে। সেনাবাহিনীসহ সকল ধরনের আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে প্রস্তুত রাখা হয়েছে। প্রয়োজনে তাদের সহযোগিতা গ্রহণ করা হবে।