মৌলভীবাজারের শ্রীমঙ্গল-কমলগঞ্জ আসনে স্থানীয় রাজনীতিতে আওয়ামী লীগ পুনর্বাসনের অভিযোগের সমালোচনা করে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে পোস্ট দেওয়ায় সাইবার সুরক্ষা আইনে গ্রেপ্তার হওয়া জুলাই আন্দোলনের সক্রিয় কর্মী মো. বাবুল মিয়ার (৩৯) দীর্ঘ কারাবাসে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছে ‘হিউম্যান রাইটস ডিফেন্ডার্স সোসাইটি, মৌলভীবাজার’। একই সঙ্গে মামলাটির নিরপেক্ষ তদন্ত এবং তাঁর যথাযথ আইনি অধিকার ও জামিন পাওয়ার সুযোগ নিশ্চিত করার জোর দাবি জানিয়েছে সংগঠনটি।
শুক্রবার (৩০ অক্টোবর ২০২৬) হিউম্যান রাইটস ডিফেন্ডার্স সোসাইটি, মৌলভীবাজার জেলা শাখার সভাপতি জাবের আহমেদ স্বাক্ষরিত এক প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে এই দাবি জানানো হয়।
প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে উল্লেখ করা হয়, প্রকাশিত সংবাদ ও পরিবারের বক্তব্য অনুযায়ী, গত ৩০ সেপ্টেম্বর মধ্যরাতে বাবুল মিয়াকে আটক করা হয়। পরবর্তীতে ১ অক্টোবর শ্রীমঙ্গল থানায় তাঁর বিরুদ্ধে সাইবার সুরক্ষা আইন, ২০২৬-এর ২২, ২৫ ও ২৭ ধারায় মামলা দায়ের করা হয়। মামলার এজাহারে ডিজিটাল মাধ্যমে মানহানির তথ্য প্রচার ও ব্ল্যাকমেইলের চেষ্টার অভিযোগ আনা হলেও পরিবারের দাবি, শ্রীমঙ্গলে আওয়ামিলীগ পূনর্বাসনের সমালোচনা করে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বক্তব্য দেওয়ায় তাঁকে এই মামলায় জড়ানো হয়েছে।
সংগঠনটি মনে করে, মামলার অভিযোগ ও পরিবারের বক্তব্য—উভয় বিষয়ই গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করা প্রয়োজন। অভিযোগের সত্যতা নির্ধারণের দায়িত্ব সংশ্লিষ্ট তদন্তকারী সংস্থা ও আদালতের। তাই তদন্ত ও বিচারিক প্রক্রিয়া সম্পন্ন হওয়ার আগে কোনো পক্ষের বক্তব্যকে চূড়ান্ত সত্য হিসেবে গ্রহণ করা সমীচীন নয়।
বিজ্ঞপ্তিতে হিউম্যান রাইটস ডিফেন্ডার্স সোসাইটির পক্ষ থেকে ৫ দফা দাবি ও আহ্বান জানানো হয়েছে। দাবিগুলো হচ্ছ— ১. মো. বাবুল মিয়ার বিরুদ্ধে দায়ের করা মামলার তদন্ত স্বচ্ছ, নিরপেক্ষ ও আইনানুগভাবে সম্পন্ন করতে হবে এবং তাঁর আত্মপক্ষ সমর্থনের অধিকার নিশ্চিত করতে হবে। ২. গ্রেপ্তার, আটক ও পরবর্তী আইনি কার্যক্রমে প্রযোজ্য আইন ও যথাযথ প্রক্রিয়া অনুসরণ করা হয়েছে কি না, তা নিশ্চিত করতে হবে। ৩. আইন অনুযায়ী জামিনের সুযোগ থাকলে তাঁর আবেদন আদালতের মাধ্যমে প্রযোজ্য আইন ও মামলার প্রাসঙ্গিক বিষয় বিবেচনায় নিষ্পত্তি করার সুযোগ নিশ্চিত করতে হবে। ৪. রাজনৈতিক মতপ্রকাশ বা সমালোচনা সংক্রান্ত অভিযোগের ক্ষেত্রে প্রাসঙ্গিক তথ্য-প্রমাণ ভালোভাবে যাচাই করতে হবে এবং আইসম্মত মতপ্রকাশের অধিকার ও অন্যের আইনি অধিকার ও সুনাম রক্ষার বিষয়টি আইনের আলোকে বিবেচনা করতে হবে ও ৫. বাবুল মিয়ার পরিবারের আর্থিক ও মানবিক পরিস্থিতি বিবেচনায় তাঁর অপ্রাপ্তবয়স্ক সন্তানদের মৌলিক চাহিদা পূরণে প্রয়োজনীয় সামাজিক ও মানবিক সহায়তা নিশ্চিত করতে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ ও সমাজের দায়িত্বশীল ব্যক্তিদের এগিয়ে আসার আহ্বান জানানো হচ্ছে।
সংগঠনটি আরও আশা প্রকাশ করে যে, সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ বিষয়টি আইনানুগভাবে পর্যালোচনা করবে, বাবুল মিয়ার আইনি অধিকার সুরক্ষিত থাকবে এবং তাঁর পরিবারের মানবিক সংকট মোকাবেলায় প্রয়োজনীয় সহযোগিতা পাওয়া যাবে।
TCV/- মৌলভীবাজার






