বাংলাদেশ ০১:২১ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ০৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১৯ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

কুকুরকে বাঘ বলে এআই দিয়ে বানানো ভিডিও ছড়ালেন সিনিয়র সাংবাদিক উমেদ আলী

গত ৩১ই আগস্ট মৌলভীবাজার পৌর শহরের ধরকাপন এলাকায় বাঘ দেখা গেছে দাবিতে ভয়েস ওভারসহ একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে ছড়িয়েছেন সিনিয়র সাংবাদিক উমেদ আলী।

দেখুন এখানে

তাঁর ছড়িয়ে দেয়া এই ভিডিও ফেসবুকে প্রকাশিত হওয়ার পর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে একাধিক সাংবাদিক ও স্থানীয় মিডিয়ায়ও এটা ছড়িয়ে পড়ে।

দেখুন এখানে, এখানে এবং এখানেও

তবে যাচাইয়ে দেখা যায়, সিনিয়র সাংবাদিক উমেদ আলীর ছড়ানো ভিডিওটি মূলত গুগলের এআই টুল জেমিনি দিয়ে তৈরি করা। ভিডিওটির কি-ফ্রেম বিশ্লেষণ করলে নিচের ডানের অংশে গুগলের এআই টুল জেমিনির লোগো স্পষ্টভাবে দেখা যায়।

প্রকৃত ঘটনা অনুসন্ধানে প্রতিবেদক ধরকাপন এলাকায় সরেজমিনে গিয়ে সংশ্লিষ্ট বাড়ির সিসিটিভি ক্যামেরার ফুটেজ সংগ্রহ করে।

মূল সিসি ক্যামেরা ফুটেজে দেখা যায়, ৩১ আগস্ট ভোররাত ৪টা ১৭ মিনিট ৪০ থেকে ৪৯ সেকেন্ড পর্যন্ত স্থানীয় আলহাজ্ব সৈয়দ আব্দুল খালিকের বাড়ির (সাহেব বাড়ি) গেটের সামনে দিয়ে একটি সাধারণ বেওয়ারিশ কুকুর স্বাভাবিকভাবে হেঁটে যাচ্ছিল। সেই সিসিটিভি ফুটেজ থেকে কুকুরের হেঁটে যাওয়ার ভিডিওকে গুগলের এআই টুল জেমিনি দিয়ে কুকুরটিকে বাঘে রূপান্তর করা হয়। পরবর্তীতে এই এআই ভিডিওর সঙ্গে ভয়েস ওভার জুড়ে দিয়ে ছড়িয়ে দেওয়া হলে তা দ্রুত ভাইরাল হয়ে পড়ে এবং মৌলভীবাজার শহরজুড়ে তীব্র আতঙ্ক ছড়িয়ে দেয়।

সিসি ক্যামেরার ফুটেজটি কীভাবে অন্যদের কাছে গেল জানতে চাইলে সৈয়দ আব্দুল খালিকের পরিবারের সদস্য সৈয়দ এনায়েত হোসেন জানান, সিসি ক্যামেরার ফুটেজ চেক করার জন্য তাঁকে সিরাজুল আরেফিন জিনাছ বলেছিলেন।

সিরাজুল আরেফিন জিনাছকে স্থানীয় দোকানদার লিটন বলেছিলেন ক্যামেরা চেক করার জন্য, কারণ পাহারাদার আলামিন নাকি দেখেছিলেন গেটের সামনে দিয়ে বড় কিছু একটা হেঁটে গেছে।

এনায়েত হোসেন আরও জানান, “পরে আমি ক্যামেরা চেক করে ভিডিও ফুটেজ সিরাজুল আরেফিন জিনাছ এবং পাহারাদার আলামিনকে দিয়ে বলি বড় কিছু ছিল না, বরং গেটের সামনে দিয়ে একটি কুকুর গেছে। এরপর হয়তো কোনোভাবে ভিডিওটি বাইরে ছড়িয়ে পড়ে এবং এআই দিয়ে বাঘ বানিয়েও ছড়িয়ে দেওয়া হয়।”

এবিষয়ে সৈয়দ আব্দুল খালিকের পরিবারের সদস্য আব্দুল কাহির সোহেলের ছেলে সৈয়দ ইয়াসির আরাফাত বলেন, সিসি ক্যামেরায় আমরা দেখেছি কুকুর গেছে। কিন্তু কিছু সাংবাদিকরা এআই দিয়ে বানিয়ে ভিডিওটি ছড়িয়ে দেন। ফলে একধরনের আতংক বিরাজ করছে এলাকায় এবং আমাদের আত্মীয়স্বজনরা আমাদেরকে ফোন দিয়ে বারবার জানতে চাচ্ছেন বিষয়টা কি। আমরা সবাইকে বলবো আপনারা যেন বিভ্রান্ত না হন। এটা কুকুর ছিল, বাঘ নয়।

কুকুরকে বাঘ বলে এআই দিয়ে বানানো ভিডিও ছড়ালেন সিনিয়র সাংবাদিক উমেদ আলী

প্রকাশিত: ০১:১৮:২৭ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬

গত ৩১ই আগস্ট মৌলভীবাজার পৌর শহরের ধরকাপন এলাকায় বাঘ দেখা গেছে দাবিতে ভয়েস ওভারসহ একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে ছড়িয়েছেন সিনিয়র সাংবাদিক উমেদ আলী।

দেখুন এখানে

তাঁর ছড়িয়ে দেয়া এই ভিডিও ফেসবুকে প্রকাশিত হওয়ার পর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে একাধিক সাংবাদিক ও স্থানীয় মিডিয়ায়ও এটা ছড়িয়ে পড়ে।

দেখুন এখানে, এখানে এবং এখানেও

তবে যাচাইয়ে দেখা যায়, সিনিয়র সাংবাদিক উমেদ আলীর ছড়ানো ভিডিওটি মূলত গুগলের এআই টুল জেমিনি দিয়ে তৈরি করা। ভিডিওটির কি-ফ্রেম বিশ্লেষণ করলে নিচের ডানের অংশে গুগলের এআই টুল জেমিনির লোগো স্পষ্টভাবে দেখা যায়।

প্রকৃত ঘটনা অনুসন্ধানে প্রতিবেদক ধরকাপন এলাকায় সরেজমিনে গিয়ে সংশ্লিষ্ট বাড়ির সিসিটিভি ক্যামেরার ফুটেজ সংগ্রহ করে।

মূল সিসি ক্যামেরা ফুটেজে দেখা যায়, ৩১ আগস্ট ভোররাত ৪টা ১৭ মিনিট ৪০ থেকে ৪৯ সেকেন্ড পর্যন্ত স্থানীয় আলহাজ্ব সৈয়দ আব্দুল খালিকের বাড়ির (সাহেব বাড়ি) গেটের সামনে দিয়ে একটি সাধারণ বেওয়ারিশ কুকুর স্বাভাবিকভাবে হেঁটে যাচ্ছিল। সেই সিসিটিভি ফুটেজ থেকে কুকুরের হেঁটে যাওয়ার ভিডিওকে গুগলের এআই টুল জেমিনি দিয়ে কুকুরটিকে বাঘে রূপান্তর করা হয়। পরবর্তীতে এই এআই ভিডিওর সঙ্গে ভয়েস ওভার জুড়ে দিয়ে ছড়িয়ে দেওয়া হলে তা দ্রুত ভাইরাল হয়ে পড়ে এবং মৌলভীবাজার শহরজুড়ে তীব্র আতঙ্ক ছড়িয়ে দেয়।

সিসি ক্যামেরার ফুটেজটি কীভাবে অন্যদের কাছে গেল জানতে চাইলে সৈয়দ আব্দুল খালিকের পরিবারের সদস্য সৈয়দ এনায়েত হোসেন জানান, সিসি ক্যামেরার ফুটেজ চেক করার জন্য তাঁকে সিরাজুল আরেফিন জিনাছ বলেছিলেন।

সিরাজুল আরেফিন জিনাছকে স্থানীয় দোকানদার লিটন বলেছিলেন ক্যামেরা চেক করার জন্য, কারণ পাহারাদার আলামিন নাকি দেখেছিলেন গেটের সামনে দিয়ে বড় কিছু একটা হেঁটে গেছে।

এনায়েত হোসেন আরও জানান, “পরে আমি ক্যামেরা চেক করে ভিডিও ফুটেজ সিরাজুল আরেফিন জিনাছ এবং পাহারাদার আলামিনকে দিয়ে বলি বড় কিছু ছিল না, বরং গেটের সামনে দিয়ে একটি কুকুর গেছে। এরপর হয়তো কোনোভাবে ভিডিওটি বাইরে ছড়িয়ে পড়ে এবং এআই দিয়ে বাঘ বানিয়েও ছড়িয়ে দেওয়া হয়।”

এবিষয়ে সৈয়দ আব্দুল খালিকের পরিবারের সদস্য আব্দুল কাহির সোহেলের ছেলে সৈয়দ ইয়াসির আরাফাত বলেন, সিসি ক্যামেরায় আমরা দেখেছি কুকুর গেছে। কিন্তু কিছু সাংবাদিকরা এআই দিয়ে বানিয়ে ভিডিওটি ছড়িয়ে দেন। ফলে একধরনের আতংক বিরাজ করছে এলাকায় এবং আমাদের আত্মীয়স্বজনরা আমাদেরকে ফোন দিয়ে বারবার জানতে চাচ্ছেন বিষয়টা কি। আমরা সবাইকে বলবো আপনারা যেন বিভ্রান্ত না হন। এটা কুকুর ছিল, বাঘ নয়।