বাংলাদেশ ০২:২৯ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ০৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১৯ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

পিএফের টাকা আত্মসাতের ঘটনায় উত্তেজনা, চা-শ্রমিকদের বিক্ষোভ

মৌলভীবাজারের কুলাউড়ায় মৃত চা শ্রমিকের প্রভিডেন্ট ফান্ডের (পিএফ) টাকা আত্মসাতের অভিযোগে বিক্ষুব্ধ হয়ে উঠেছেন শ্রমিকেরা। এর প্রতিকার চেয়ে গত মঙ্গল ও বুধবার দুদফায় বাগান ব্যবস্থাপকের কার্যালয়ের সামনে বিক্ষোভ করেন তারা। পরে ব্যবস্থাপকের আশ্বাসে শ্রমিকেরা কাজে ফিরে যান।

জানা যায়, উপজেলার জয়চণ্ডী ইউনিয়নে অবস্থিত ন্যাশনাল টি কোম্পানির (এনটিসি) অধীন বিজয়া চা বাগানের নিয়মিত শ্রমিক ছিলেন জারিয়া খাড়িয়া। বার্ধক্যজনিত ও নানা অসুস্থতায় ২০২২ সালে তিনি মারা যান। এর পর জারিয়ার পিএফের টাকার জন্য আবেদন করেন তাঁর স্ত্রী ও সন্তান। আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে ২০২৩ সালের শেষের দিকে জারিয়া খাড়িয়ার পেনশনের দুই লাখ ২৪ হাজার ৩৬০ টাকা বিজয়া চা বাগানের অ্যাকাউন্টে জমা করে ন্যাশনাল টি কোম্পানি।

ওই সময় বিজয়া চা বাগানে কেরানির দায়িত্বে ছিলেন কিশোল চন্দ্র দাস (ছনা বাবু)। তিনি নিজেই বিজয়া চা বাগানের বাসিন্দা। বর্তমানে তিনি ন্যাশনাল টি কোম্পানির মাধবপুর উপজেলার পারকুল চা-বাগানে কেরানির দায়িত্বে আছেন।

অভিযোগ রয়েছে, ছনা বাবু পিএফের টাকাগুলো উত্তোলন করে জারিয়াকে না দিয়ে আত্মসাৎ করেন। এ দিকে জারিয়ার পরিবারকে ছনা বাবু বলতে থাকেন, টাকা এখনও আসেনি, আসলেই দেওয়া হবে– এভাবে সময়ক্ষেপণ করতে থাকেন। এভাবে চলতে চলতে ২০২৬ সালের শুরুর দিকে ছনা বাবু বিজয়া চা বাগান থেকে পারকুল চা বাগানে বদলি হয়ে যান। নিরুপায় হয়ে জারিয়ার স্ত্রী ও সন্তান গিয়ে বাগানের শ্রমিক কানু লায়েক, রফিক মিয়া ও লছমন পাসিকে বিষয়টি জানান। তারা বিষয়টি গিয়ে বাগান ব্যবস্থাপক হুমায়ুন কবীরকে জানালে থলের বিড়াল বেরিয়ে আসে।

বাগান শ্রমিক কানু লায়েক, রফিক মিয়া, লছমন পাসিসহ অনেকেই জানান, বাগানের শ্রমিক জারিয়ার পিএফের টাকা ২০২৩ সালে জমা হয়েছে। কিন্তু বাগানের সাবেক কেরানি ছনা বাবু, ক্লার্ক শিপ্রা বুনার্জী ও বাগান পঞ্চায়েত কমিটির সভাপতি কিরণ শুক্ল বৈদ্য মিলে টাকাগুলো উত্তোলন করে আত্মসাৎ করেছেন। এখন ধরা পড়ে উল্টাপাল্টা কথা বলছেন। তাই বাগানের সব শ্রমিক বিক্ষুব্ধ হয়ে পঞ্চায়েত কমিটির সভাপতি কিরণ শুক্ল বৈদ্যকে দায়িত্ব থেকে অপসরণ করে লছমন পাসিকে আহ্বায়ক করে কমিটি গঠন করেছেন।

‎পাশাপাশি সাবেক কেরানি ছনা বাবু ও ক্লার্ক শিপ্রা বুনার্জীর বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য কর্তৃপক্ষের কাছে আবেদন করেছেন। বাগান ব্যবস্থাপকের আশ্বাসে তারা সাময়িকভাবে আন্দোলন স্থগিত করেছেন। যথাযথ ব্যবস্থা গ্রহণে দেরি করলে কঠোর আন্দোলন করবেন বলে হুঁশিয়ারি দেন শ্রমিকেরা।

পঞ্চায়েত কমিটির সাবেক সভাপতি কিরণ শুক্ল বৈদ্য বলেন, জারিয়ার পিএফের টাকার বিষয়ে তিনি কিছুই জানেন না। যদি কেউ তাঁর সম্পৃক্ততা প্রমাণ করতে পারতেন, তবে সব শাস্তি তিনি মাথা পেতে মেনে নিতেন।

‎এ বিষয়ে বিজয়া চা-বাগানের সাবেক কেরানি কিশোল চন্দ্র দাস (ছনা বাবু) বলেন, জারিয়া খাড়িয়ার পিএফের কোনো টাকা তিনি নেননি। টাকাগুলো বাগানের কাজেই ব্যয় করা হয়েছে। আগামী রোববার তাদের টাকাগুলো দেওয়া হবে।

একজন শ্রমিকের টাকা বাগানের কাজে ব্যয় করার কোনো নিয়ম আছে কিনা এবং বিষয়টি এতদিন কেন গোপন রাখা হলো– এমন প্রশ্নের কোনো উত্তর না দিয়ে ব্যস্ত আছেন বলে ফোনকল কেটে দেন ছনা বাবু।

‎এ ব্যাপারে বাগান ব্যবস্থাপক হুমায়ুন কবীর বলেন, তিনি আসার কিছুদিন পরেই ছনা বাবু এখান থেকে বদলি হয়ে যান। শ্রমিকদের কাছ থেকে তথ্য পেয়ে তিনি পুরোনো ফাইলপত্র তল্লাশি করে দেখেন, জারিয়া খাড়িয়ার পিএফের টাকা উত্তোলন করা হয়েছে প্রায় দুই বছর আগে। সাবেক কেরানি ছনা বাবুও সেটি স্বীকার করেছেন। কিন্তু জারিয়া সময় মতো তাঁর টাকাগুলো পাননি– এটি সত্যিই দুঃখজনক। এটার সঙ্গে জড়িতদের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে অবহিত করা হচ্ছে বলে জানান তিনি ।

TCV/- কুলাউড়া

পিএফের টাকা আত্মসাতের ঘটনায় উত্তেজনা, চা-শ্রমিকদের বিক্ষোভ

প্রকাশিত: ০১:১২:৪৮ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬

মৌলভীবাজারের কুলাউড়ায় মৃত চা শ্রমিকের প্রভিডেন্ট ফান্ডের (পিএফ) টাকা আত্মসাতের অভিযোগে বিক্ষুব্ধ হয়ে উঠেছেন শ্রমিকেরা। এর প্রতিকার চেয়ে গত মঙ্গল ও বুধবার দুদফায় বাগান ব্যবস্থাপকের কার্যালয়ের সামনে বিক্ষোভ করেন তারা। পরে ব্যবস্থাপকের আশ্বাসে শ্রমিকেরা কাজে ফিরে যান।

জানা যায়, উপজেলার জয়চণ্ডী ইউনিয়নে অবস্থিত ন্যাশনাল টি কোম্পানির (এনটিসি) অধীন বিজয়া চা বাগানের নিয়মিত শ্রমিক ছিলেন জারিয়া খাড়িয়া। বার্ধক্যজনিত ও নানা অসুস্থতায় ২০২২ সালে তিনি মারা যান। এর পর জারিয়ার পিএফের টাকার জন্য আবেদন করেন তাঁর স্ত্রী ও সন্তান। আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে ২০২৩ সালের শেষের দিকে জারিয়া খাড়িয়ার পেনশনের দুই লাখ ২৪ হাজার ৩৬০ টাকা বিজয়া চা বাগানের অ্যাকাউন্টে জমা করে ন্যাশনাল টি কোম্পানি।

ওই সময় বিজয়া চা বাগানে কেরানির দায়িত্বে ছিলেন কিশোল চন্দ্র দাস (ছনা বাবু)। তিনি নিজেই বিজয়া চা বাগানের বাসিন্দা। বর্তমানে তিনি ন্যাশনাল টি কোম্পানির মাধবপুর উপজেলার পারকুল চা-বাগানে কেরানির দায়িত্বে আছেন।

অভিযোগ রয়েছে, ছনা বাবু পিএফের টাকাগুলো উত্তোলন করে জারিয়াকে না দিয়ে আত্মসাৎ করেন। এ দিকে জারিয়ার পরিবারকে ছনা বাবু বলতে থাকেন, টাকা এখনও আসেনি, আসলেই দেওয়া হবে– এভাবে সময়ক্ষেপণ করতে থাকেন। এভাবে চলতে চলতে ২০২৬ সালের শুরুর দিকে ছনা বাবু বিজয়া চা বাগান থেকে পারকুল চা বাগানে বদলি হয়ে যান। নিরুপায় হয়ে জারিয়ার স্ত্রী ও সন্তান গিয়ে বাগানের শ্রমিক কানু লায়েক, রফিক মিয়া ও লছমন পাসিকে বিষয়টি জানান। তারা বিষয়টি গিয়ে বাগান ব্যবস্থাপক হুমায়ুন কবীরকে জানালে থলের বিড়াল বেরিয়ে আসে।

বাগান শ্রমিক কানু লায়েক, রফিক মিয়া, লছমন পাসিসহ অনেকেই জানান, বাগানের শ্রমিক জারিয়ার পিএফের টাকা ২০২৩ সালে জমা হয়েছে। কিন্তু বাগানের সাবেক কেরানি ছনা বাবু, ক্লার্ক শিপ্রা বুনার্জী ও বাগান পঞ্চায়েত কমিটির সভাপতি কিরণ শুক্ল বৈদ্য মিলে টাকাগুলো উত্তোলন করে আত্মসাৎ করেছেন। এখন ধরা পড়ে উল্টাপাল্টা কথা বলছেন। তাই বাগানের সব শ্রমিক বিক্ষুব্ধ হয়ে পঞ্চায়েত কমিটির সভাপতি কিরণ শুক্ল বৈদ্যকে দায়িত্ব থেকে অপসরণ করে লছমন পাসিকে আহ্বায়ক করে কমিটি গঠন করেছেন।

‎পাশাপাশি সাবেক কেরানি ছনা বাবু ও ক্লার্ক শিপ্রা বুনার্জীর বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য কর্তৃপক্ষের কাছে আবেদন করেছেন। বাগান ব্যবস্থাপকের আশ্বাসে তারা সাময়িকভাবে আন্দোলন স্থগিত করেছেন। যথাযথ ব্যবস্থা গ্রহণে দেরি করলে কঠোর আন্দোলন করবেন বলে হুঁশিয়ারি দেন শ্রমিকেরা।

পঞ্চায়েত কমিটির সাবেক সভাপতি কিরণ শুক্ল বৈদ্য বলেন, জারিয়ার পিএফের টাকার বিষয়ে তিনি কিছুই জানেন না। যদি কেউ তাঁর সম্পৃক্ততা প্রমাণ করতে পারতেন, তবে সব শাস্তি তিনি মাথা পেতে মেনে নিতেন।

‎এ বিষয়ে বিজয়া চা-বাগানের সাবেক কেরানি কিশোল চন্দ্র দাস (ছনা বাবু) বলেন, জারিয়া খাড়িয়ার পিএফের কোনো টাকা তিনি নেননি। টাকাগুলো বাগানের কাজেই ব্যয় করা হয়েছে। আগামী রোববার তাদের টাকাগুলো দেওয়া হবে।

একজন শ্রমিকের টাকা বাগানের কাজে ব্যয় করার কোনো নিয়ম আছে কিনা এবং বিষয়টি এতদিন কেন গোপন রাখা হলো– এমন প্রশ্নের কোনো উত্তর না দিয়ে ব্যস্ত আছেন বলে ফোনকল কেটে দেন ছনা বাবু।

‎এ ব্যাপারে বাগান ব্যবস্থাপক হুমায়ুন কবীর বলেন, তিনি আসার কিছুদিন পরেই ছনা বাবু এখান থেকে বদলি হয়ে যান। শ্রমিকদের কাছ থেকে তথ্য পেয়ে তিনি পুরোনো ফাইলপত্র তল্লাশি করে দেখেন, জারিয়া খাড়িয়ার পিএফের টাকা উত্তোলন করা হয়েছে প্রায় দুই বছর আগে। সাবেক কেরানি ছনা বাবুও সেটি স্বীকার করেছেন। কিন্তু জারিয়া সময় মতো তাঁর টাকাগুলো পাননি– এটি সত্যিই দুঃখজনক। এটার সঙ্গে জড়িতদের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে অবহিত করা হচ্ছে বলে জানান তিনি ।

TCV/- কুলাউড়া