বাংলাদেশ ০৫:০৪ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ০২ অগাস্ট ২০২৬, ১৭ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

মৌলভীবাজার, শেরপুরে সড়ক অবরোধে স্থবির ঢাকা-সিলেট মহাসড়ক, চরম ভোগান্তিতে যাত্রীরা

মৌলভীবাজারের শ্রীমঙ্গল-শেরপুর সড়কে ফিটনেসবিহীন ‘হবিগঞ্জ-সিলেট এক্সপ্রেস’ বিরতিহীন বাস চলাচল বন্ধের দাবিতে সড়ক অবরোধ করেছেন এসএমএস পরিবহনের বাস-মিনিবাস মালিক ও শ্রমিক সংগঠনের নেতাকর্মীরা। এতে ঢাকা-সিলেট মহাসড়কে অন্তত নয় ঘণ্টা ধরে যান চলাচল কার্যত বন্ধ হয়ে পড়ে। দুই পাশে শত শত যানবাহন আটকা পড়ে চরম দুর্ভোগে পড়েন যাত্রীরা।

রোববার (১০ মে) সকাল থেকে মহাসড়কের শেরপুর মুক্তিযোদ্ধা চত্বরে এ অবরোধ কর্মসূচি শুরু হয়। অবরোধের কারণে সিলেট থেকে ঢাকাগামী ও ঢাকামুখী সব ধরনের যান চলাচল বন্ধ হয়ে যায়। দীর্ঘ যানজটে আটকে থাকা অনেক যাত্রীকে পরে গাড়ি থেকে নেমে হেঁটে গন্তব্যের উদ্দেশ্যে রওনা দিতে দেখা গেছে।

প্রত্যক্ষদর্শী আব্দুস সামাদ আজাদ জানান, কোনো পূর্বঘোষণা ছাড়াই হঠাৎ অবরোধ শুরু হওয়ায় সাধারণ যাত্রীরা বিপাকে পড়েন। বিশেষ করে নারী, শিশু ও বয়স্ক যাত্রীরা সবচেয়ে বেশি দুর্ভোগে পড়েন। দূরপাল্লার বাসে আটকে থাকা যাত্রীরা ঘণ্টার পর ঘণ্টা খাবার ও বিশ্রাম সংকটে ছিলেন। শিশুসন্তান নিয়ে অনেক পরিবারকে চরম ভোগান্তি পোহাতে দেখা যায়।

অবরোধকারীদের অভিযোগ, ‘হবিগঞ্জ-সিলেট এক্সপ্রেস’ নামে কিছু বাস দীর্ঘদিন ধরে প্রয়োজনীয় ফিটনেস ও বৈধ কাগজপত্র ছাড়াই সড়কে চলাচল করছে। এতে যেমন দুর্ঘটনার ঝুঁকি বাড়ছে, তেমনি স্থানীয় পরিবহন মালিক ও শ্রমিকেরা আর্থিক ক্ষতির মুখে পড়ছেন। দ্রুত এসব বাসের বিরুদ্ধে প্রশাসনিক ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানান তারা।

মৌলভীবাজার বাস-মিনিবাস মালিক ও শ্রমিক সংগঠনের নেতারা বলেন, বিষয়টি নিয়ে একাধিকবার প্রশাসনের কাছে অভিযোগ জানানো হলেও কার্যকর কোনো পদক্ষেপ নেওয়া হয়নি। বাধ্য হয়েই তারা সড়ক অবরোধ কর্মসূচিতে নেমেছেন।

এদিকে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে পুলিশ ও সেনাবাহিনী কাজ করছে বলে জানিয়েছেন শেরপুর হাইওয়ে থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. আনিছুর রহমান। তিনি বলেন, “সড়কে আটকে থাকা যানবাহন দ্রুত চলাচলের ব্যবস্থা করতে পুলিশ কাজ করছে। পাশাপাশি সেনাবাহিনীর সদস্যরাও পরিস্থিতি স্বাভাবিক করতে সহযোগিতা করছেন। আমরা সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে আলোচনা চালিয়ে যাচ্ছি, যাতে দ্রুত অবরোধ তুলে নেওয়া যায়।”

জনপ্রিয়

মৌলভীবাজার, শেরপুরে সড়ক অবরোধে স্থবির ঢাকা-সিলেট মহাসড়ক, চরম ভোগান্তিতে যাত্রীরা

প্রকাশিত: ১০:৪৫:০০ অপরাহ্ন, রবিবার, ১০ মে ২০২৬

মৌলভীবাজারের শ্রীমঙ্গল-শেরপুর সড়কে ফিটনেসবিহীন ‘হবিগঞ্জ-সিলেট এক্সপ্রেস’ বিরতিহীন বাস চলাচল বন্ধের দাবিতে সড়ক অবরোধ করেছেন এসএমএস পরিবহনের বাস-মিনিবাস মালিক ও শ্রমিক সংগঠনের নেতাকর্মীরা। এতে ঢাকা-সিলেট মহাসড়কে অন্তত নয় ঘণ্টা ধরে যান চলাচল কার্যত বন্ধ হয়ে পড়ে। দুই পাশে শত শত যানবাহন আটকা পড়ে চরম দুর্ভোগে পড়েন যাত্রীরা।

রোববার (১০ মে) সকাল থেকে মহাসড়কের শেরপুর মুক্তিযোদ্ধা চত্বরে এ অবরোধ কর্মসূচি শুরু হয়। অবরোধের কারণে সিলেট থেকে ঢাকাগামী ও ঢাকামুখী সব ধরনের যান চলাচল বন্ধ হয়ে যায়। দীর্ঘ যানজটে আটকে থাকা অনেক যাত্রীকে পরে গাড়ি থেকে নেমে হেঁটে গন্তব্যের উদ্দেশ্যে রওনা দিতে দেখা গেছে।

প্রত্যক্ষদর্শী আব্দুস সামাদ আজাদ জানান, কোনো পূর্বঘোষণা ছাড়াই হঠাৎ অবরোধ শুরু হওয়ায় সাধারণ যাত্রীরা বিপাকে পড়েন। বিশেষ করে নারী, শিশু ও বয়স্ক যাত্রীরা সবচেয়ে বেশি দুর্ভোগে পড়েন। দূরপাল্লার বাসে আটকে থাকা যাত্রীরা ঘণ্টার পর ঘণ্টা খাবার ও বিশ্রাম সংকটে ছিলেন। শিশুসন্তান নিয়ে অনেক পরিবারকে চরম ভোগান্তি পোহাতে দেখা যায়।

অবরোধকারীদের অভিযোগ, ‘হবিগঞ্জ-সিলেট এক্সপ্রেস’ নামে কিছু বাস দীর্ঘদিন ধরে প্রয়োজনীয় ফিটনেস ও বৈধ কাগজপত্র ছাড়াই সড়কে চলাচল করছে। এতে যেমন দুর্ঘটনার ঝুঁকি বাড়ছে, তেমনি স্থানীয় পরিবহন মালিক ও শ্রমিকেরা আর্থিক ক্ষতির মুখে পড়ছেন। দ্রুত এসব বাসের বিরুদ্ধে প্রশাসনিক ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানান তারা।

মৌলভীবাজার বাস-মিনিবাস মালিক ও শ্রমিক সংগঠনের নেতারা বলেন, বিষয়টি নিয়ে একাধিকবার প্রশাসনের কাছে অভিযোগ জানানো হলেও কার্যকর কোনো পদক্ষেপ নেওয়া হয়নি। বাধ্য হয়েই তারা সড়ক অবরোধ কর্মসূচিতে নেমেছেন।

এদিকে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে পুলিশ ও সেনাবাহিনী কাজ করছে বলে জানিয়েছেন শেরপুর হাইওয়ে থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. আনিছুর রহমান। তিনি বলেন, “সড়কে আটকে থাকা যানবাহন দ্রুত চলাচলের ব্যবস্থা করতে পুলিশ কাজ করছে। পাশাপাশি সেনাবাহিনীর সদস্যরাও পরিস্থিতি স্বাভাবিক করতে সহযোগিতা করছেন। আমরা সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে আলোচনা চালিয়ে যাচ্ছি, যাতে দ্রুত অবরোধ তুলে নেওয়া যায়।”