এসএসসি /দাখিল ও সমমান পরীক্ষায় উত্তীর্ণ শিক্ষার্থীদের নিয়ে কৃতি সংবর্ধনার আয়োজন করে বাংলাদেশ ইসলামী ছাত্রশিবির, রাজনগর উপজেলা।
আজ ০৯ সেপ্টেম্বর (বুধবার) রাজনগর উপজেলার এম সাইফুর রহমান অডিটোরিয়ামে এই কৃতি সংবর্ধনার আয়োজন করা হয়।
জুবেল আহমেদের সঞ্চালনায় ও সাজ্জাদুর রহমানের সভাপতিত্বে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন সুপ্রিম কোর্টের অ্যাডভোকেট আল মামুন রাসেল। বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের সভাপতি মাসুদ রানা তুহিন এবং মৌলভীবাজার শহরের সভাপতি কাজী দাইয়ান আহমদ।
এছাড়াও উপস্থিত ছিলেন ফয়সাল আহমদ, হাফেজ হাসান আহমদ, জাবেদ আহমদ, টিপু মিয়া, আবদুল্লাহ আল আপনসহ উপজেলার নেতাকর্মীরা।
প্রধান অতিথি বলেন, “তোমাদের মধ্যে একটা হীনমন্যতা আছে যে, ‘আমি যেহেতু এ প্লাস পাইনি, সুতরাং আমাকে দিয়ে কিছু হবে না।’ আজকে যে তোমাদের সংবর্ধনা দেওয়া হচ্ছে, তাতে তোমাদের যেন কেমন কেমন লাগছে—আমরা কী এমন অর্জন করলাম! পরিবার আমাদের ধন্যবাদ দিল না, বন্ধুবান্ধব আমাদের অভিনন্দন জানাল না, অথচ শিবিরের কী এমন হয়ে গেলাম যে আজকে আমাদের এইরকম স্টেজে এনে বসিয়ে ঢাকা থেকে মেহমান এনে ফুল ও ক্রেস্ট দিয়ে সংবর্ধনা হাতে তুলে দিচ্ছে! নিজেদের মনে হচ্ছে আমরা কী এমন হয়ে গেলাম! তোমরা অনেক কিছু। এবার ১৭ লক্ষ পরীক্ষা দিয়েছে, এর মধ্যে ৭ লক্ষ ফেল করেছে। তার মানে তুমি তোমার জীবনে ৭ লক্ষ মানুষকে পেছনে ফেলে এগিয়ে আছ।
একবার একটি মেয়ে দৌড় প্রতিযোগিতায় অংশগ্রহণ করেছিল। সে প্রতিযোগিতায় ১০ম হয় এবং এতে তার মন খারাপ হয়। তার বাবা তাকে ফুল দিয়ে অভিনন্দন জানিয়ে বললেন, ‘তোমাকে নিয়ে আমি গর্ববোধ করি।’ সে বলল, ‘আমিতো প্রথম বা দ্বিতীয় কিছুই হলাম না।’ বাবা বললেন, ‘কী বলছ মা! একশো জন দৌড় প্রতিযোগিতায় অংশগ্রহণ করেছিল, তার মধ্যে ৯০ জনকে পেছনে ফেলে তুমি ১০ম হয়েছ, তোমাকে অভিনন্দন জানাব না?’ এই যে উৎসাহ মেয়েটা পেল, এই উৎসাহের কারণে পরবর্তীতে মেয়েটা প্রথম হয়েছিল। আমাদের সমাজ এই উৎসাহটা দিতে পারে না। আমাদের সমাজ মনে করে সফলতা শুধুমাত্র এ প্লাস। কিন্তু সফলতা শুধু এ প্লাস নয়।”
তিনি আরও বলেন, “ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে আমার সাথে একই রুমে যে থাকত, সে এখন পররাষ্ট্র ক্যাডার। সে এসএসসি, এইচএসসি কোনটিতেই এ প্লাস পায়নি। আবার আমার সাথে অনেকে এ প্লাস পেয়েও ইন্টারে গিয়ে ফেল করেছে। সুতরাং রেজাল্ট নিয়ে খারাপ চিন্তা করবে না। আল্লাহ তায়ালা তোমাকে-আমাকে অনর্থক সৃষ্টি করেন নাই।”
বক্তারা আরও বলেন, “এই বছর প্রায় ১৮ লক্ষ শিক্ষার্থী পরীক্ষায় অংশগ্রহণ করেছিল, এর মধ্যে ১১ লক্ষ শিক্ষার্থী পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হতে পেরেছে আর ৭ লক্ষ শিক্ষার্থী তোমাদের মতো এইরকম সংবর্ধনা নিতে পারেনি—আল্লাহ তায়ালা তাদেরকে সেই সুযোগটি করে দেননি। কিন্তু আল্লাহ তায়ালা তোমাকে সেই সুযোগটি করে দিয়েছেন তোমার পিতা-মাতা ও ভাইয়ের মাধ্যমে। তোমার বাবা হাড়ভাঙা পরিশ্রম করে, মাথার ঘাম পায়ে ফেলে, শরীরের রক্ত পানি করে তোমার জন্য পড়াশোনার সুযোগ করে দিয়েছেন। তোমার মা হয়তো বাইরে গিয়ে টাকা-পয়সা উপার্জন করে আনেননি, কিন্তু তোমাকে মানসিক সান্ত্বনা দেওয়া, রান্নাবান্না করে খাওয়ানো ও ভালো কিছুর ব্যবস্থা করার কাজগুলো তোমার মা তোমার জন্য করেছেন। তোমার একটা ভালো ফলাফলের পেছনে বাবা-মা ও ভাই-বোনের অজস্র পরিশ্রম রয়েছে।
এই ভালো ফলাফলের পেছনে শিক্ষকেরও অজস্র পরিশ্রম রয়েছে। শিক্ষক তার নিজের সন্তানের কথা, নিজের পরিবারের কথা ভুলে গিয়ে তোমাদের পেছনে শ্রম দিয়েছেন। কাজেই তোমাদের এই সফলতার জন্য তাদের সবাইকে সালাম/স্যালুট জানানো উচিত এবং তাদের জন্য আল্লাহর কাছে দোয়া করা উচিত। তাদের এই অনুপ্রেরণা না থাকলে তোমরা এত দূর আসতে পারতে না।”
পরবর্তীতে শিক্ষার্থীদের হাতে ক্রেস্ট ও গিফট বক্স তুলে দেওয়ার মাধ্যমে এই সংবর্ধনা অনুষ্ঠানের সমাপ্তি হয়।
TCV/- রাজনগর







