বাংলাদেশ ০৭:২১ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ১৬ জুন ২০২৬, ২ আষাঢ় ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

বিএনপির হাজারো মামলা প্রত্যাহার, জামায়াতের ক্ষেত্রে নীরবতা,ফ্যাসিবাদের পথে হাটছে সরকার

রাজনৈতিক কারণে দায়ের করা হয়রানিমূলক মামলা প্রত্যাহারের প্রক্রিয়া চলমান থাকলেও বাস্তব চিত্রে বৈষম্যের অভিযোগ উঠেছে। সংসদে আইন, বিচার ও সংসদ বিষয়ক মন্ত্রী মো. আসাদুজ্জামান জানিয়েছেন, ইতোমধ্যে ২৩ হাজার ৮৬৫টি মামলা প্রত্যাহার করা হয়েছে। তবে এসব মামলার বড় অংশই বিএনপির নেতা-কর্মীদের বিরুদ্ধে দায়ের করা ছিল বলে সংশ্লিষ্ট মহলে ধারণা করা হচ্ছে। অন্যদিকে, জামায়াতে ইসলামী সংশ্লিষ্ট কোনো মামলার প্রত্যাহারের তথ্য পাওয়া যায়নি, যা নতুন করে বিতর্কের জন্ম দিয়েছে।
রোববার জাতীয় সংসদে পাবনা-৩ আসনের বিরোধী দলের সদস্য মুহাম্মাদ আলী আছগারের এক প্রশ্নের লিখিত উত্তরে আইনমন্ত্রী এ তথ্য দেন। অধিবেশনে সভাপতিত্ব করেন ডেপুটি স্পিকার ব্যারিস্টার কায়সার কামাল।
আইনমন্ত্রী তার বক্তব্যে বলেন, মামলা দায়েরের সময় এজাহারে অভিযুক্তদের দলীয় পরিচয় উল্লেখ না থাকায় নির্দিষ্টভাবে কোন দলের কতজন নেতা-কর্মীর বিরুদ্ধে মিথ্যা মামলা হয়েছে তার সুনির্দিষ্ট সরকারি পরিসংখ্যান নেই। তবে বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ২০০৭ সাল থেকে ২০২৫ সালের ১১ জানুয়ারি পর্যন্ত দলটির নেতা-কর্মীদের বিরুদ্ধে ১ লাখ ৪২ হাজার ৯৮৩টি মামলা দায়ের করা হয়েছে, যেগুলোকে তারা “মিথ্যা ও হয়রানিমূলক” বলে দাবি করেছে।
এদিকে, জামায়াতে ইসলামী নেতা-কর্মীদের বিরুদ্ধে দায়ের করা মামলার সংখ্যা সম্পর্কেও সরকারের কাছে কোনো পরিসংখ্যান নেই বলে জানিয়েছেন মন্ত্রী। এই বক্তব্যই প্রশ্ন তুলছে—যেখানে বিএনপির মামলার তথ্য দলীয় সূত্র থেকে গ্রহণ করে তা আলোচনায় আনা হচ্ছে, সেখানে জামায়াতের ক্ষেত্রে একই ধরনের উদ্যোগ কেন দেখা যাচ্ছে না?
সরকার জানিয়েছে, রাজনৈতিক উদ্দেশ্যে দায়ের করা মামলা চিহ্নিত করে প্রত্যাহারের জন্য জেলা পর্যায়ে চার সদস্যের কমিটি এবং কেন্দ্রীয় পর্যায়ে ছয় সদস্যের কমিটি কাজ করছে। এসব কমিটি মামলার নথি, এজাহার, চার্জশিট এবং পাবলিক প্রসিকিউটরের মতামত পর্যালোচনা করে সুপারিশ দিচ্ছে।
তবে সংশ্লিষ্ট বিশ্লেষকরা বলছেন, বাস্তবে এই প্রক্রিয়ার প্রয়োগে সমতা নিশ্চিত হয়নি। বিএনপির হাজার হাজার মামলা প্রত্যাহারের খবর এলেও জামায়াতের একটি মামলাও প্রত্যাহারের নজির না থাকা রাজনৈতিক নিরপেক্ষতা নিয়ে প্রশ্ন তৈরি করছে।
তাদের মতে, যদি সরকার সত্যিই “রাজনৈতিক হয়রানি” বিবেচনায় মামলা প্রত্যাহারের উদ্যোগ নিয়ে থাকে, তাহলে সব দলের ক্ষেত্রেই সমান মানদণ্ড প্রয়োগ করা প্রয়োজন। অন্যথায় এটি নির্বাচনী বা রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত পদক্ষেপ হিসেবে বিবেচিত হতে পারে।
এ বিষয়ে সরকারের পক্ষ থেকে এখনো জামায়াত সংশ্লিষ্ট মামলাগুলোর অগ্রগতি নিয়ে কোনো স্পষ্ট ব্যাখ্যা পাওয়া যায়নি। এটাকে অনেকে পুরোনো মামলায় নতুন করে রাজনৈতিকভাবে হয়রানির হাতিয়ার হিসেবেও উল্লেখ করেছেন সংশ্লিষ্টরা। ফলে বিষয়টি রাজনৈতিক অঙ্গনে নতুন করে আলোচনা ও সমালোচনার জন্ম দিচ্ছে।

বিএনপির হাজারো মামলা প্রত্যাহার, জামায়াতের ক্ষেত্রে নীরবতা,ফ্যাসিবাদের পথে হাটছে সরকার

প্রকাশিত: ১১:৩৯:২৭ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ৬ মে ২০২৬

রাজনৈতিক কারণে দায়ের করা হয়রানিমূলক মামলা প্রত্যাহারের প্রক্রিয়া চলমান থাকলেও বাস্তব চিত্রে বৈষম্যের অভিযোগ উঠেছে। সংসদে আইন, বিচার ও সংসদ বিষয়ক মন্ত্রী মো. আসাদুজ্জামান জানিয়েছেন, ইতোমধ্যে ২৩ হাজার ৮৬৫টি মামলা প্রত্যাহার করা হয়েছে। তবে এসব মামলার বড় অংশই বিএনপির নেতা-কর্মীদের বিরুদ্ধে দায়ের করা ছিল বলে সংশ্লিষ্ট মহলে ধারণা করা হচ্ছে। অন্যদিকে, জামায়াতে ইসলামী সংশ্লিষ্ট কোনো মামলার প্রত্যাহারের তথ্য পাওয়া যায়নি, যা নতুন করে বিতর্কের জন্ম দিয়েছে।
রোববার জাতীয় সংসদে পাবনা-৩ আসনের বিরোধী দলের সদস্য মুহাম্মাদ আলী আছগারের এক প্রশ্নের লিখিত উত্তরে আইনমন্ত্রী এ তথ্য দেন। অধিবেশনে সভাপতিত্ব করেন ডেপুটি স্পিকার ব্যারিস্টার কায়সার কামাল।
আইনমন্ত্রী তার বক্তব্যে বলেন, মামলা দায়েরের সময় এজাহারে অভিযুক্তদের দলীয় পরিচয় উল্লেখ না থাকায় নির্দিষ্টভাবে কোন দলের কতজন নেতা-কর্মীর বিরুদ্ধে মিথ্যা মামলা হয়েছে তার সুনির্দিষ্ট সরকারি পরিসংখ্যান নেই। তবে বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ২০০৭ সাল থেকে ২০২৫ সালের ১১ জানুয়ারি পর্যন্ত দলটির নেতা-কর্মীদের বিরুদ্ধে ১ লাখ ৪২ হাজার ৯৮৩টি মামলা দায়ের করা হয়েছে, যেগুলোকে তারা “মিথ্যা ও হয়রানিমূলক” বলে দাবি করেছে।
এদিকে, জামায়াতে ইসলামী নেতা-কর্মীদের বিরুদ্ধে দায়ের করা মামলার সংখ্যা সম্পর্কেও সরকারের কাছে কোনো পরিসংখ্যান নেই বলে জানিয়েছেন মন্ত্রী। এই বক্তব্যই প্রশ্ন তুলছে—যেখানে বিএনপির মামলার তথ্য দলীয় সূত্র থেকে গ্রহণ করে তা আলোচনায় আনা হচ্ছে, সেখানে জামায়াতের ক্ষেত্রে একই ধরনের উদ্যোগ কেন দেখা যাচ্ছে না?
সরকার জানিয়েছে, রাজনৈতিক উদ্দেশ্যে দায়ের করা মামলা চিহ্নিত করে প্রত্যাহারের জন্য জেলা পর্যায়ে চার সদস্যের কমিটি এবং কেন্দ্রীয় পর্যায়ে ছয় সদস্যের কমিটি কাজ করছে। এসব কমিটি মামলার নথি, এজাহার, চার্জশিট এবং পাবলিক প্রসিকিউটরের মতামত পর্যালোচনা করে সুপারিশ দিচ্ছে।
তবে সংশ্লিষ্ট বিশ্লেষকরা বলছেন, বাস্তবে এই প্রক্রিয়ার প্রয়োগে সমতা নিশ্চিত হয়নি। বিএনপির হাজার হাজার মামলা প্রত্যাহারের খবর এলেও জামায়াতের একটি মামলাও প্রত্যাহারের নজির না থাকা রাজনৈতিক নিরপেক্ষতা নিয়ে প্রশ্ন তৈরি করছে।
তাদের মতে, যদি সরকার সত্যিই “রাজনৈতিক হয়রানি” বিবেচনায় মামলা প্রত্যাহারের উদ্যোগ নিয়ে থাকে, তাহলে সব দলের ক্ষেত্রেই সমান মানদণ্ড প্রয়োগ করা প্রয়োজন। অন্যথায় এটি নির্বাচনী বা রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত পদক্ষেপ হিসেবে বিবেচিত হতে পারে।
এ বিষয়ে সরকারের পক্ষ থেকে এখনো জামায়াত সংশ্লিষ্ট মামলাগুলোর অগ্রগতি নিয়ে কোনো স্পষ্ট ব্যাখ্যা পাওয়া যায়নি। এটাকে অনেকে পুরোনো মামলায় নতুন করে রাজনৈতিকভাবে হয়রানির হাতিয়ার হিসেবেও উল্লেখ করেছেন সংশ্লিষ্টরা। ফলে বিষয়টি রাজনৈতিক অঙ্গনে নতুন করে আলোচনা ও সমালোচনার জন্ম দিচ্ছে।