বাংলাদেশ ১২:৩৪ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ৩০ জুন ২০২৬, ১৫ আষাঢ় ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

রাজনগরে ইজারা ছাড়াই বালু উত্তোলন, বিপুল রাজস্ব হারাচ্ছে সরকার

রাজনগর উপজেলায় প্রভাবশালী রাজনৈতিক চক্রের ছত্রছায়ায় সরকারি বালু লুটের মহোৎসব চলছে। রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের সঙ্গে সঙ্গে বালু মহালের নিয়ন্ত্রণকারী বদলালেও থামেনি অবৈধ উত্তোলন। আগে এই খাতটি আওয়ামী লীগ ও যুবলীগ নেতাদের কবজায় থাকলেও, ৫ আগস্টের পর এর নিয়ন্ত্রণ চলে গেছে বিএনপি ও যুবদল নেতাদের হাতে।

‎স্থানীয় প্রশাসনের উদাসীনতার সুযোগ নিয়ে যুবদল নেতাদের একটি পক্ষ অবাধে এই সরকারি সম্পদ লুটে নিচ্ছে বলে অভিযোগ উঠেছে। গত এক দশকেরও বেশি সময় ধরে এসব মহাল থেকে বালু পাচার হওয়ায় সরকার কোটি কোটি টাকার রাজস্ব থেকে বঞ্চিত হচ্ছে। স্থানীয় সূত্র জানায়, এই বালু মহালগুলোর দখল ও ভাগাভাগি নিয়ে বিভিন্ন গ্রুপের মধ্যে প্রায়ই ছোটখাটো সংঘাতের ঘটনা ঘটছে।

‎দিনের আলোতে এভাবে বালু লুট হলেও উপজেলা ভূমি অফিসসহ সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ নির্বিকার ভূমিকা পালন করছে। প্রশাসনের এমন রহস্যজনক নীরবতা নিয়ে স্থানীয় জনগণের মনে নানা প্রশ্ন ও ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে।

‎সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, রাজনগর উপজেলায় মোট ৮টি বালু মহাল রয়েছে। এগুলো হলো— উদনা ছড়া, কালুমুহা, ধামাইছড়া, মারুয়া ছড়া, জমিলা ছড়া, হাড়ছড়া এবং মনু নদ। এর মধ্যে কেবল মনু নদী ও উদনা ছড়া মহাল দুটি বৈধভাবে ইজারা দেওয়া হয়েছে। অন্যদিকে, উত্তরভাগ চা বাগান কর্তৃপক্ষের আপত্তির কারণে মারুয়া ও কালুমুহা বালু মহালের ইজারা কার্যক্রম স্থগিত রাখা হলেও সেখানে অবৈধভাবে বালু তোলা থামেনি।

‎বর্তমানে এসব মহালে থাবা বসিয়েছে স্থানীয় যুবদলের নেতারা। উত্তরভাগ ইউনিয়নের যুবদল নেতা কয়েছ আহমদ এবং মুন্সিবাজার ইউনিয়নের কয়েকজন নেতার নেতৃত্বে কালুমুহা, ধামাইছড়া, মারুয়া ছড়া, জমিলা ছড়া ও হাড়ছড়া থেকে দেদারসে বালু লুট করা হচ্ছে।

‎অবশ্য বালু উত্তোলনের অভিযোগ অস্বীকার করে যুবদল নেতা কয়েছ আহমদ দাবি করেন, “এখানে ছোট ভাইয়েরা কয়েক দিন মাত্র দুই-তিন গাড়ি বালু তুলেছিল। বর্তমানে নানাবিধ কারণে তা পুরোপুরি বন্ধ রয়েছে।”

‎এই বিষয়ে উপজেলা যুবদলের আহ্বায়ক জুসেফ খান জানান, “সরকারি মহাল থেকে অবৈধভাবে বালু তোলার সম্পূর্ণ বিপক্ষে আমি। আগেও আমি এই অনিয়মের তীব্র বিরোধিতা করেছি এবং এখনো করছি।”

‎সার্বিক বিষয়ে রাজনগর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা বিপুল সিকদার বলেন, “উপজেলা প্রশাসন এসব বালু মহাল থেকে কোনো ধরনের সুবিধা নিচ্ছে না। অন্য কেউ সুবিধা নিচ্ছে কি না তা আমাদের জানা নেই। তবে খুব দ্রুতই অবৈধ বালু উত্তোলনের বিরুদ্ধে অভিযান চালানো হবে। পাশাপাশি বালু মহালগুলো দ্রুত ইজারা দেওয়ার প্রক্রিয়া নিয়ে সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে আলোচনা হয়েছে।”

রাজনগরে ইজারা ছাড়াই বালু উত্তোলন, বিপুল রাজস্ব হারাচ্ছে সরকার

প্রকাশিত: ০৩:৫১:০১ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২৫ জুন ২০২৬

রাজনগর উপজেলায় প্রভাবশালী রাজনৈতিক চক্রের ছত্রছায়ায় সরকারি বালু লুটের মহোৎসব চলছে। রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের সঙ্গে সঙ্গে বালু মহালের নিয়ন্ত্রণকারী বদলালেও থামেনি অবৈধ উত্তোলন। আগে এই খাতটি আওয়ামী লীগ ও যুবলীগ নেতাদের কবজায় থাকলেও, ৫ আগস্টের পর এর নিয়ন্ত্রণ চলে গেছে বিএনপি ও যুবদল নেতাদের হাতে।

‎স্থানীয় প্রশাসনের উদাসীনতার সুযোগ নিয়ে যুবদল নেতাদের একটি পক্ষ অবাধে এই সরকারি সম্পদ লুটে নিচ্ছে বলে অভিযোগ উঠেছে। গত এক দশকেরও বেশি সময় ধরে এসব মহাল থেকে বালু পাচার হওয়ায় সরকার কোটি কোটি টাকার রাজস্ব থেকে বঞ্চিত হচ্ছে। স্থানীয় সূত্র জানায়, এই বালু মহালগুলোর দখল ও ভাগাভাগি নিয়ে বিভিন্ন গ্রুপের মধ্যে প্রায়ই ছোটখাটো সংঘাতের ঘটনা ঘটছে।

‎দিনের আলোতে এভাবে বালু লুট হলেও উপজেলা ভূমি অফিসসহ সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ নির্বিকার ভূমিকা পালন করছে। প্রশাসনের এমন রহস্যজনক নীরবতা নিয়ে স্থানীয় জনগণের মনে নানা প্রশ্ন ও ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে।

‎সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, রাজনগর উপজেলায় মোট ৮টি বালু মহাল রয়েছে। এগুলো হলো— উদনা ছড়া, কালুমুহা, ধামাইছড়া, মারুয়া ছড়া, জমিলা ছড়া, হাড়ছড়া এবং মনু নদ। এর মধ্যে কেবল মনু নদী ও উদনা ছড়া মহাল দুটি বৈধভাবে ইজারা দেওয়া হয়েছে। অন্যদিকে, উত্তরভাগ চা বাগান কর্তৃপক্ষের আপত্তির কারণে মারুয়া ও কালুমুহা বালু মহালের ইজারা কার্যক্রম স্থগিত রাখা হলেও সেখানে অবৈধভাবে বালু তোলা থামেনি।

‎বর্তমানে এসব মহালে থাবা বসিয়েছে স্থানীয় যুবদলের নেতারা। উত্তরভাগ ইউনিয়নের যুবদল নেতা কয়েছ আহমদ এবং মুন্সিবাজার ইউনিয়নের কয়েকজন নেতার নেতৃত্বে কালুমুহা, ধামাইছড়া, মারুয়া ছড়া, জমিলা ছড়া ও হাড়ছড়া থেকে দেদারসে বালু লুট করা হচ্ছে।

‎অবশ্য বালু উত্তোলনের অভিযোগ অস্বীকার করে যুবদল নেতা কয়েছ আহমদ দাবি করেন, “এখানে ছোট ভাইয়েরা কয়েক দিন মাত্র দুই-তিন গাড়ি বালু তুলেছিল। বর্তমানে নানাবিধ কারণে তা পুরোপুরি বন্ধ রয়েছে।”

‎এই বিষয়ে উপজেলা যুবদলের আহ্বায়ক জুসেফ খান জানান, “সরকারি মহাল থেকে অবৈধভাবে বালু তোলার সম্পূর্ণ বিপক্ষে আমি। আগেও আমি এই অনিয়মের তীব্র বিরোধিতা করেছি এবং এখনো করছি।”

‎সার্বিক বিষয়ে রাজনগর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা বিপুল সিকদার বলেন, “উপজেলা প্রশাসন এসব বালু মহাল থেকে কোনো ধরনের সুবিধা নিচ্ছে না। অন্য কেউ সুবিধা নিচ্ছে কি না তা আমাদের জানা নেই। তবে খুব দ্রুতই অবৈধ বালু উত্তোলনের বিরুদ্ধে অভিযান চালানো হবে। পাশাপাশি বালু মহালগুলো দ্রুত ইজারা দেওয়ার প্রক্রিয়া নিয়ে সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে আলোচনা হয়েছে।”