বাংলাদেশ ০১:৪২ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ২১ জুন ২০২৬, ৬ আষাঢ় ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

চায়ের আভিজাত্যে অনন্য মৌলভীবাজার : জাতীয় মঞ্চে সেরা স্থানীয় দুই বাগান

যথাযোগ্য মর্যাদায় ও উৎসবমুখর পরিবেশে মৌলভীবাজারে উদ্যাপিত হয়েছে জাতীয় চা দিবস-২০২৬। এ উপলক্ষে চা শিল্পের বিকাশ, রপ্তানি এবং শ্রমিক কল্যাণে বিশেষ অবদানের জন্য বিভিন্ন ক্যাটাগরিতে ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানকে ‘জাতীয় চা পুরস্কার-২০২৬’ প্রদান করা হয়েছে।

​শনিবার (২০ জুন) দুপুরে মৌলভীবাজার জেলা পরিষদ অডিটরিয়ামে আয়োজিত এক জমকালো অনুষ্ঠানে বিজয়ীদের হাতে এই পুরস্কার তুলে দেওয়া হয়।

​এ বছর ‘শ্রেষ্ঠ চা-পাতা চয়নকারী’ ক্যাটাগরিতে জাতীয় পুরস্কার অর্জন করেছেন ইস্পাহানি কোম্পানির নেপচুন চা-বাগানের স্থায়ী শ্রমিক জেসমিন আক্তার। চট্টগ্রামের ফটিকছড়ি উপজেলার এই নারী শ্রমিক গত ২০২৫ সালে রেকর্ড পরিমাণ মোট ২৫ হাজার ৬২১ কেজি চা-পাতা চয়ন করে এই অনন্য স্বীকৃতি লাভ করেন।

​এর আগে সকালে অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি মৌলভীবাজার-৪ আসনের সংসদ সদস্য মুজিবুর রহমান চৌধুরী পায়রা ও বেলুন উড়িয়ে চা দিবসের আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করেন। বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের সচিব মো. আতাউর রহমান খান, এনডিসি-এর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশ চা বোর্ডের চেয়ারম্যান মেজর জেনারেল মো. মেসবাহ উদ্দিন আহমেদ, এসপিপি, এনডিসি, এএফডব্লিউসি, পিএসসি, বাংলাদেশীয় চা সংসদের সভাপতি কামরান টি রহমান এবং টি ট্রেডার্স অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশের সভাপতি শাহ মঈনুদ্দিন হাসান।

​অনুষ্ঠানে অন্যান্যদের মধ্যে বক্তব্য দেন বাংলাদেশ চা শ্রমিক ইউনিয়নের ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদক নৃপেন পাল, বাংলাদেশ বটলিফ টি ফ্যাক্টরি ওনার্স অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি মো. নিয়াজ আলী চিশতী এবং চা শ্রমিক নেত্রী সনতকি রায়।

​প্রধান অতিথির বক্তব্যে সংসদ সদস্য মুজিবুর রহমান চৌধুরী বলেন, “বাণিজ্যিকভাবে চা চাষের ক্ষেত্রে বাংলাদেশের দীর্ঘ ও গৌরবময় ইতিহাস রয়েছে। বর্তমানে দেশের ১৬০টিরও বেশি বড় বাগান এবং হাজার হাজার ক্ষুদ্র চা-বাগান জাতীয় অর্থনীতিতে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখছে। দেশের অভ্যন্তরীণ চাহিদা মিটিয়ে আমাদের চা বিদেশেও রপ্তানি হচ্ছে, যা পুরো জাতির জন্য গর্বের।”
​তিনি চা শিল্পের নেপথ্যের কারিগরদের প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়ে বলেন, “চা শিল্পের এই অগ্রগতির পেছনে শ্রমিকদের, বিশেষ করে নারী শ্রমিকদের ভূমিকা অনস্বীকার্য। তাদের ন্যায্য মজুরি, উন্নত আবাসন, শিক্ষা, স্বাস্থ্যসেবা ও সামাজিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করা আমাদের সবার দায়িত্ব।”

​এমপি মুজিবুর রহমান আরও উল্লেখ করেন যে, শ্রীমঙ্গল ও কমলগঞ্জ হলো দেশের চা শিল্পের মূল প্রাণকেন্দ্র। এ অঞ্চলের সবুজ চা-বাগান, লাউয়াছড়া জাতীয় উদ্যান, হাইল হাওর এবং ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠীর বৈচিত্র্যময় সংস্কৃতিকে কাজে লাগিয়ে পর্যটন শিল্পের এক বিশাল সম্ভাবনা উন্মোচন করা সম্ভব। সেই সঙ্গে তিনি জলবায়ু পরিবর্তনের চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা করে আধুনিক প্রযুক্তির ব্যবহারে উন্নত জাতের চা উৎপাদন, গবেষণা, মানসম্মত প্যাকেজিং ও আন্তর্জাতিক বাজারে ব্র্যান্ডিং বাড়ানোর আহ্বান জানান।

জাতীয় চা পুরস্কারের বিভিন্ন ক্যাটাগরিতে সম্মাননাপ্রাপ্তদের মধ্যে একরপ্রতি সর্বোচ্চ উৎপাদনকারী চা-বাগান হিসেবে মৌলভীবাজারের কমলগঞ্জের শ্রীগোবিন্দপুর চা-বাগান এবং সর্বোচ্চ গুণগত মানসম্পন্ন চা উৎপাদনকারী বাগান হিসেবে হবিগঞ্জের বাহুবলের মধুপুর চা-বাগান পুরস্কার লাভ করে। শ্রেষ্ঠ চা রপ্তানিকারক ক্যাটাগরিতে পুরস্কার পেয়েছে দি কনসোলিডেটেড টি অ্যান্ড ল্যান্ডস কোম্পানি (বাংলাদেশ) লিমিটেড এবং শ্রেষ্ঠ ক্ষুদ্রায়তন চা উৎপাদনকারী হিসেবে সম্মাননা অর্জন করেন পঞ্চগড়ের আটোয়ারীর মো. মতিয়ার রহমান। এছাড়া শ্রমিক কল্যাণের ভিত্তিতে শ্রেষ্ঠ চা-বাগান নির্বাচিত হয়েছে মৌলভীবাজারের শ্রীমঙ্গলের ইস্পাহানি মির্জাপুর চা-বাগান। বৈচিত্র্যময় চা পণ্য বাজারজাতকরণ এবং দৃষ্টিনন্দন ও মানসম্পন্ন চা মোড়কজাতকরণ—উভয় ক্যাটাগরিতেই শ্রেষ্ঠ প্রতিষ্ঠান হিসেবে ডাবল পুরস্কার অর্জন করেছে কাজী অ্যান্ড কাজী টি এস্টেট লিমিটেড এবং শ্রেষ্ঠ বটলিফ চা কারখানা ক্যাটাগরিতে পুরস্কার পেয়েছে পঞ্চগড়ের সুপ্রিম টি লিমিটেড।

ট্যাগ :

চায়ের আভিজাত্যে অনন্য মৌলভীবাজার : জাতীয় মঞ্চে সেরা স্থানীয় দুই বাগান

প্রকাশিত: ১১:২৪:৪৯ অপরাহ্ন, শনিবার, ২০ জুন ২০২৬

যথাযোগ্য মর্যাদায় ও উৎসবমুখর পরিবেশে মৌলভীবাজারে উদ্যাপিত হয়েছে জাতীয় চা দিবস-২০২৬। এ উপলক্ষে চা শিল্পের বিকাশ, রপ্তানি এবং শ্রমিক কল্যাণে বিশেষ অবদানের জন্য বিভিন্ন ক্যাটাগরিতে ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানকে ‘জাতীয় চা পুরস্কার-২০২৬’ প্রদান করা হয়েছে।

​শনিবার (২০ জুন) দুপুরে মৌলভীবাজার জেলা পরিষদ অডিটরিয়ামে আয়োজিত এক জমকালো অনুষ্ঠানে বিজয়ীদের হাতে এই পুরস্কার তুলে দেওয়া হয়।

​এ বছর ‘শ্রেষ্ঠ চা-পাতা চয়নকারী’ ক্যাটাগরিতে জাতীয় পুরস্কার অর্জন করেছেন ইস্পাহানি কোম্পানির নেপচুন চা-বাগানের স্থায়ী শ্রমিক জেসমিন আক্তার। চট্টগ্রামের ফটিকছড়ি উপজেলার এই নারী শ্রমিক গত ২০২৫ সালে রেকর্ড পরিমাণ মোট ২৫ হাজার ৬২১ কেজি চা-পাতা চয়ন করে এই অনন্য স্বীকৃতি লাভ করেন।

​এর আগে সকালে অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি মৌলভীবাজার-৪ আসনের সংসদ সদস্য মুজিবুর রহমান চৌধুরী পায়রা ও বেলুন উড়িয়ে চা দিবসের আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করেন। বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের সচিব মো. আতাউর রহমান খান, এনডিসি-এর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশ চা বোর্ডের চেয়ারম্যান মেজর জেনারেল মো. মেসবাহ উদ্দিন আহমেদ, এসপিপি, এনডিসি, এএফডব্লিউসি, পিএসসি, বাংলাদেশীয় চা সংসদের সভাপতি কামরান টি রহমান এবং টি ট্রেডার্স অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশের সভাপতি শাহ মঈনুদ্দিন হাসান।

​অনুষ্ঠানে অন্যান্যদের মধ্যে বক্তব্য দেন বাংলাদেশ চা শ্রমিক ইউনিয়নের ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদক নৃপেন পাল, বাংলাদেশ বটলিফ টি ফ্যাক্টরি ওনার্স অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি মো. নিয়াজ আলী চিশতী এবং চা শ্রমিক নেত্রী সনতকি রায়।

​প্রধান অতিথির বক্তব্যে সংসদ সদস্য মুজিবুর রহমান চৌধুরী বলেন, “বাণিজ্যিকভাবে চা চাষের ক্ষেত্রে বাংলাদেশের দীর্ঘ ও গৌরবময় ইতিহাস রয়েছে। বর্তমানে দেশের ১৬০টিরও বেশি বড় বাগান এবং হাজার হাজার ক্ষুদ্র চা-বাগান জাতীয় অর্থনীতিতে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখছে। দেশের অভ্যন্তরীণ চাহিদা মিটিয়ে আমাদের চা বিদেশেও রপ্তানি হচ্ছে, যা পুরো জাতির জন্য গর্বের।”
​তিনি চা শিল্পের নেপথ্যের কারিগরদের প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়ে বলেন, “চা শিল্পের এই অগ্রগতির পেছনে শ্রমিকদের, বিশেষ করে নারী শ্রমিকদের ভূমিকা অনস্বীকার্য। তাদের ন্যায্য মজুরি, উন্নত আবাসন, শিক্ষা, স্বাস্থ্যসেবা ও সামাজিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করা আমাদের সবার দায়িত্ব।”

​এমপি মুজিবুর রহমান আরও উল্লেখ করেন যে, শ্রীমঙ্গল ও কমলগঞ্জ হলো দেশের চা শিল্পের মূল প্রাণকেন্দ্র। এ অঞ্চলের সবুজ চা-বাগান, লাউয়াছড়া জাতীয় উদ্যান, হাইল হাওর এবং ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠীর বৈচিত্র্যময় সংস্কৃতিকে কাজে লাগিয়ে পর্যটন শিল্পের এক বিশাল সম্ভাবনা উন্মোচন করা সম্ভব। সেই সঙ্গে তিনি জলবায়ু পরিবর্তনের চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা করে আধুনিক প্রযুক্তির ব্যবহারে উন্নত জাতের চা উৎপাদন, গবেষণা, মানসম্মত প্যাকেজিং ও আন্তর্জাতিক বাজারে ব্র্যান্ডিং বাড়ানোর আহ্বান জানান।

জাতীয় চা পুরস্কারের বিভিন্ন ক্যাটাগরিতে সম্মাননাপ্রাপ্তদের মধ্যে একরপ্রতি সর্বোচ্চ উৎপাদনকারী চা-বাগান হিসেবে মৌলভীবাজারের কমলগঞ্জের শ্রীগোবিন্দপুর চা-বাগান এবং সর্বোচ্চ গুণগত মানসম্পন্ন চা উৎপাদনকারী বাগান হিসেবে হবিগঞ্জের বাহুবলের মধুপুর চা-বাগান পুরস্কার লাভ করে। শ্রেষ্ঠ চা রপ্তানিকারক ক্যাটাগরিতে পুরস্কার পেয়েছে দি কনসোলিডেটেড টি অ্যান্ড ল্যান্ডস কোম্পানি (বাংলাদেশ) লিমিটেড এবং শ্রেষ্ঠ ক্ষুদ্রায়তন চা উৎপাদনকারী হিসেবে সম্মাননা অর্জন করেন পঞ্চগড়ের আটোয়ারীর মো. মতিয়ার রহমান। এছাড়া শ্রমিক কল্যাণের ভিত্তিতে শ্রেষ্ঠ চা-বাগান নির্বাচিত হয়েছে মৌলভীবাজারের শ্রীমঙ্গলের ইস্পাহানি মির্জাপুর চা-বাগান। বৈচিত্র্যময় চা পণ্য বাজারজাতকরণ এবং দৃষ্টিনন্দন ও মানসম্পন্ন চা মোড়কজাতকরণ—উভয় ক্যাটাগরিতেই শ্রেষ্ঠ প্রতিষ্ঠান হিসেবে ডাবল পুরস্কার অর্জন করেছে কাজী অ্যান্ড কাজী টি এস্টেট লিমিটেড এবং শ্রেষ্ঠ বটলিফ চা কারখানা ক্যাটাগরিতে পুরস্কার পেয়েছে পঞ্চগড়ের সুপ্রিম টি লিমিটেড।