বাংলাদেশ ১২:৫৯ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ১৬ জুন ২০২৬, ১ আষাঢ় ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

তরুন উদ্ভাবক সাজ্জাদকে রাষ্ট্রীয় সহযোগিতার আশ্বাস প্রধানমন্ত্রীর

পরিত্যক্ত সবজি থেকে পরিবেশবান্ধব পলিথিন এবং কলাগাছের আশ বা তন্তু প্রক্রিয়াজাত করে টাইলস ও ঢেউ টিনের মতো প্লাস্টিক, কার্বন ও সিলিকন পণ্যের বিকল্প আবিষ্কার করে চমক লাগিয়েছেন শ্রীমঙ্গলের ১৮ বছর বয়সী তরুণ সাজ্জাদুল ইসলাম। নজরকাড়া এই উদ্ভাবনের পর এবার সরাসরি প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের কাছ থেকে রাষ্ট্রীয় সহায়তার আশ্বাস পেলেন তিনি।

গত রোববার (১৪ জুন) দুপুরে বাংলাদেশ সচিবালয়ে প্রধানমন্ত্রীর সাথে সাক্ষাতের সুযোগ পান এই তরুণ গবেষক। এ সময় তিনি ‘পচা ও পরিত্যক্ত সবজি থেকে পচনশীল পলিথিন এবং কলাগাছের তন্তু ব্যবহার করে টাইলস, ঢেউটিন ও বোর্ড তৈরির প্রযুক্তি’র সার্বিক সম্ভাবনা প্রধানমন্ত্রীর কাছে তুলে ধরেন। সম্পূর্ণ দেশীয় কাঁচামালনির্ভর এই পরিবেশবান্ধব উদ্যোগের ভূয়সী প্রশংসা করেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। একই সাথে সাজ্জাদের এই গবেষণামূলক কার্যক্রম এগিয়ে নিতে রাষ্ট্রীয় পৃষ্ঠপোষকতার আশ্বাস দেন এবং তাকে উৎসাহিত করেন।

তরুণ উদ্ভাবক সাজ্জাদুল ইসলাম জানান, প্রায় দুই সপ্তাহ আগে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের অতিরিক্ত প্রেস সচিব আতিকুর রহমান রুমন তাঁর সাথে যোগাযোগ করেন। তিনি জানান, ২০২৪ সালে সাজ্জাদের করা ‘কলাগাছের তন্তু থেকে ঢেউটিন ও টাইলস’ সংক্রান্ত গবেষণা সম্পর্কে প্রধানমন্ত্রী অবগত হয়েছেন এবং তাঁর সাথে দেখা করতে চান। সেই ধারাবাহিকতায় গত ১ জুন সাক্ষাতের সম্ভাব্য তারিখ নির্ধারিত হয়। রোববার বাবা মো. নজরুল ইসলামকে সাথে নিয়ে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে গিয়ে সাক্ষাৎ করেন সাজ্জাদ।

সাক্ষাৎ শেষে উচ্ছ্বসিত সাজ্জাদ বলেন, “মাননীয় প্রধানমন্ত্রী আমার গবেষণার অগ্রগতি ও ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা নিয়ে গভীর আগ্রহ দেখিয়েছেন। তিনি এই কাজকে এগিয়ে নিতে সব ধরনের সহযোগিতা ও অনুপ্রেরণা দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন। প্রধানমন্ত্রীর আন্তরিকতা ও মূল্যবান সময় দেওয়ার জন্য আমি তাঁর প্রতি কৃতজ্ঞ। এই দিনটি আমার জীবনে স্মরণীয় হয়ে থাকবে।”

সাজ্জাদুল ইসলাম জানান, তাঁর এই উদ্ভাবনের সার্বিক ফান্ডিং ও স্টার্টআপের দেখভালের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের আইসিটি বিষয়ক উপদেষ্টা রিহান আসিফ আসাদকে। পাশাপাশি এই গবেষণাকে আরও এগিয়ে নিতে শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে (শাবিপ্রবি) তাঁকে যুক্ত করার সুপারিশ করা হয়েছে। এছাড়া দেশের প্রতিষ্ঠিত ইকো-ফাইবার কোম্পানিগুলো পরিদর্শন ও বাংলাদেশ পাট গবেষণা ইনস্টিটিউটে পর্যবেক্ষণের সুযোগও পাচ্ছেন তিনি।
গবেষণা কার্যক্রম সুন্দরভাবে পরিচালনার জন্য ৩ সদস্যের একটি উপদেষ্টা দল গঠন করা হয়েছে। এই দলে রয়েছেন:
শেখ ফরিদুল ইসলাম: বন, পরিবেশ ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রণালয়ের মাননীয় প্রতিমন্ত্রী।
ড. এস এম আব্দুল আওয়াল: প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রা (SDG) বিষয়ক প্রধান সমন্বয়ক।
রিহান আসিফ মাহমুদ: ডাক, টেলিযোগাযোগ ও তথ্যপ্রযুক্তি মন্ত্রণালয় এবং বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি মন্ত্রণালয়ের দায়িত্বপ্রাপ্ত উপদেষ্টা।

সাজ্জাদের পরিচয় ও উদ্ভাবনের নেপথ্য গল্প
মৌলভীবাজারের শ্রীমঙ্গল উপজেলার সদর ইউনিয়নের মোহাজেরাবাদ এলাকার কৃষক মো. নজরুল ইসলাম ও সাহেরা খাতুনের বড় সন্তান সাজ্জাদুল ইসলাম। সে ২০২৫ সালে শ্রীমঙ্গল সরকারি কলেজের বিজ্ঞান বিভাগ থেকে এইচএসসি পাস করেছে। ২০২৪ সালেই এই পরিবেশবান্ধব পলিথিন ও টাইলস উদ্ভাবন করে দেশজুড়ে আলোচনায় আসে সে।

উদ্ভাবনের কারিগরি দিক নিয়ে সাজ্জাদ জানায়, পরিত্যক্ত সবজির শ্বেতসার (স্টার্চ) দিয়ে পচনশীল পলিথিন এবং কলাগাছের তন্তু দিয়ে প্লাস্টিক-সিলিকনের বিকল্প টেকসই পণ্য তৈরি সম্ভব। তাঁর আবিষ্কৃত ৩০০ গ্রাম ওজনের একটি টাইলসে রয়েছে ২০০ গ্রাম কলাগাছের তন্তু, ৬০ গ্রাম হাইড্রোক্সাইড এবং ৪০ গ্রাম রেজিন। রেজিন ব্যবহারের ফলে পণ্যটি দীর্ঘদিন ধরে অক্ষত থাকে এবং পচে না। এই কাঁচামাল দিয়ে শুধু টাইলস বা ঢেউটিনই নয়, গাড়ির যন্ত্রাংশ এমনকি বুলেটপ্রুফ দরজা-জানালাও তৈরি করা সম্ভব।

এই প্লাস্টিক পণ্যটি উচ্চ তাপে গলিয়ে রাসায়নিক উপাদান ও তন্তু সহজেই আলাদা করা যায়। অন্যদিকে, সবজির শ্বেতসার থেকে তৈরি পলিথিন মাটিতে এক মাস এবং পানিতে তিন মাসের মধ্যে মিশে যাবে, যা মাটিতে জৈব সার এবং পানিতে মাছের খাদ্য হিসেবে কাজ করবে। এই যৌগ তৈরিতে ৬৫ শতাংশ কলাগাছের আশ এবং ৩৫ শতাংশ কেমিক্যাল ব্যবহার করা হয়েছে।

শ্রীমঙ্গল সরকারি কলেজের অধ্যক্ষের কার্যালয় থেকে দেওয়া এক প্রত্যয়নপত্রেও সাজ্জাদের এই গবেষণার সত্যতা নিশ্চিত করা হয়েছে। সেখানে উল্লেখ রয়েছে, সাজ্জাদুল ইসলাম সৃজনশীল মেধা অন্বেষণ প্রতিযোগিতা-২০২৪ এ জেলা পর্যায়ে বছরের সেরা মেধাবী নির্বাচিত হয়েছিল।

কলেজের রসায়ন বিভাগের শিক্ষকরা জানান, সাজ্জাদ কলাগাছের সেলুলোজ সমৃদ্ধ আশ, হাইড্রোক্সাইড ও রেজিন ব্যবহার করে টাইলস এবং আলুর শ্বেতসার থেকে পলিথিন তৈরি করে দারুণ সাড়া ফেলেছে। ব্যবহৃত কাঁচামালগুলো সম্পূর্ণ পরিবেশবান্ধব। উন্নত গবেষণার সুযোগ পেলে এটি দেশের জন্য বড় সম্পদ হতে পারে।

সাজ্জাদের মাধ্যমিক বিদ্যালয় মোহাজিরাবাদ স্কুলের প্রাক্তন প্রধান শিক্ষক এবং বর্তমানে হাজী মনছব উল্লাহ উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মো. কামরুল হাছান বলেন, “ছোটবেলা থেকেই বিজ্ঞানের নানা বিষয়ে সাজ্জাদের প্রবল কৌতুহল ছিল। সেই আগ্রহ থেকেই আজ সে এই সাফল্য পেয়েছে।”

সমাপনী আলাপে তরুণ এই বিজ্ঞানী বলেন, “বাংলাদেশে প্রতি বছর প্রায় তিন হাজার কোটি টাকার ফল ও সবজি অপচয় হয়। এই অপচয় হওয়া শস্যকে কাজে লাগিয়ে যদি পরিবেশবান্ধব পণ্য উৎপাদন করা যায়, তবে দেশের অর্থনীতিতে এক বৈপ্লবিক পরিবর্তন আসবে এবং পরিবেশ দূষণও অনেকাংশে কমে যাবে।”

নিজের অনুপ্রেরণার কথা জানাতে গিয়ে সাজ্জাদ বলে, “আমি বিজ্ঞান বিভাগের ছাত্র হওয়ায় গবেষণার দিকেই আমার ঝোঁক ছিল। বিশেষ করে দেশের প্রখ্যাত বিজ্ঞানী ড. মোবারক আহমদ খান স্যারের পাট থেকে সোনালী ব্যাগ ও ঢেউটিন তৈরির গবেষণা আমাকে গভীরভাবে অনুপ্রাণিত করেছে। ইউটিউব ও পত্রিকায় স্যারের কাজ দেখেই আমি এই পরিবেশবান্ধব উদ্ভাবন নিয়ে কাজ করার সাহস পাই।”

তরুন উদ্ভাবক সাজ্জাদকে রাষ্ট্রীয় সহযোগিতার আশ্বাস প্রধানমন্ত্রীর

প্রকাশিত: ০২:৪৫:৪৬ অপরাহ্ন, সোমবার, ১৫ জুন ২০২৬

পরিত্যক্ত সবজি থেকে পরিবেশবান্ধব পলিথিন এবং কলাগাছের আশ বা তন্তু প্রক্রিয়াজাত করে টাইলস ও ঢেউ টিনের মতো প্লাস্টিক, কার্বন ও সিলিকন পণ্যের বিকল্প আবিষ্কার করে চমক লাগিয়েছেন শ্রীমঙ্গলের ১৮ বছর বয়সী তরুণ সাজ্জাদুল ইসলাম। নজরকাড়া এই উদ্ভাবনের পর এবার সরাসরি প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের কাছ থেকে রাষ্ট্রীয় সহায়তার আশ্বাস পেলেন তিনি।

গত রোববার (১৪ জুন) দুপুরে বাংলাদেশ সচিবালয়ে প্রধানমন্ত্রীর সাথে সাক্ষাতের সুযোগ পান এই তরুণ গবেষক। এ সময় তিনি ‘পচা ও পরিত্যক্ত সবজি থেকে পচনশীল পলিথিন এবং কলাগাছের তন্তু ব্যবহার করে টাইলস, ঢেউটিন ও বোর্ড তৈরির প্রযুক্তি’র সার্বিক সম্ভাবনা প্রধানমন্ত্রীর কাছে তুলে ধরেন। সম্পূর্ণ দেশীয় কাঁচামালনির্ভর এই পরিবেশবান্ধব উদ্যোগের ভূয়সী প্রশংসা করেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। একই সাথে সাজ্জাদের এই গবেষণামূলক কার্যক্রম এগিয়ে নিতে রাষ্ট্রীয় পৃষ্ঠপোষকতার আশ্বাস দেন এবং তাকে উৎসাহিত করেন।

তরুণ উদ্ভাবক সাজ্জাদুল ইসলাম জানান, প্রায় দুই সপ্তাহ আগে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের অতিরিক্ত প্রেস সচিব আতিকুর রহমান রুমন তাঁর সাথে যোগাযোগ করেন। তিনি জানান, ২০২৪ সালে সাজ্জাদের করা ‘কলাগাছের তন্তু থেকে ঢেউটিন ও টাইলস’ সংক্রান্ত গবেষণা সম্পর্কে প্রধানমন্ত্রী অবগত হয়েছেন এবং তাঁর সাথে দেখা করতে চান। সেই ধারাবাহিকতায় গত ১ জুন সাক্ষাতের সম্ভাব্য তারিখ নির্ধারিত হয়। রোববার বাবা মো. নজরুল ইসলামকে সাথে নিয়ে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে গিয়ে সাক্ষাৎ করেন সাজ্জাদ।

সাক্ষাৎ শেষে উচ্ছ্বসিত সাজ্জাদ বলেন, “মাননীয় প্রধানমন্ত্রী আমার গবেষণার অগ্রগতি ও ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা নিয়ে গভীর আগ্রহ দেখিয়েছেন। তিনি এই কাজকে এগিয়ে নিতে সব ধরনের সহযোগিতা ও অনুপ্রেরণা দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন। প্রধানমন্ত্রীর আন্তরিকতা ও মূল্যবান সময় দেওয়ার জন্য আমি তাঁর প্রতি কৃতজ্ঞ। এই দিনটি আমার জীবনে স্মরণীয় হয়ে থাকবে।”

সাজ্জাদুল ইসলাম জানান, তাঁর এই উদ্ভাবনের সার্বিক ফান্ডিং ও স্টার্টআপের দেখভালের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের আইসিটি বিষয়ক উপদেষ্টা রিহান আসিফ আসাদকে। পাশাপাশি এই গবেষণাকে আরও এগিয়ে নিতে শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে (শাবিপ্রবি) তাঁকে যুক্ত করার সুপারিশ করা হয়েছে। এছাড়া দেশের প্রতিষ্ঠিত ইকো-ফাইবার কোম্পানিগুলো পরিদর্শন ও বাংলাদেশ পাট গবেষণা ইনস্টিটিউটে পর্যবেক্ষণের সুযোগও পাচ্ছেন তিনি।
গবেষণা কার্যক্রম সুন্দরভাবে পরিচালনার জন্য ৩ সদস্যের একটি উপদেষ্টা দল গঠন করা হয়েছে। এই দলে রয়েছেন:
শেখ ফরিদুল ইসলাম: বন, পরিবেশ ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রণালয়ের মাননীয় প্রতিমন্ত্রী।
ড. এস এম আব্দুল আওয়াল: প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রা (SDG) বিষয়ক প্রধান সমন্বয়ক।
রিহান আসিফ মাহমুদ: ডাক, টেলিযোগাযোগ ও তথ্যপ্রযুক্তি মন্ত্রণালয় এবং বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি মন্ত্রণালয়ের দায়িত্বপ্রাপ্ত উপদেষ্টা।

সাজ্জাদের পরিচয় ও উদ্ভাবনের নেপথ্য গল্প
মৌলভীবাজারের শ্রীমঙ্গল উপজেলার সদর ইউনিয়নের মোহাজেরাবাদ এলাকার কৃষক মো. নজরুল ইসলাম ও সাহেরা খাতুনের বড় সন্তান সাজ্জাদুল ইসলাম। সে ২০২৫ সালে শ্রীমঙ্গল সরকারি কলেজের বিজ্ঞান বিভাগ থেকে এইচএসসি পাস করেছে। ২০২৪ সালেই এই পরিবেশবান্ধব পলিথিন ও টাইলস উদ্ভাবন করে দেশজুড়ে আলোচনায় আসে সে।

উদ্ভাবনের কারিগরি দিক নিয়ে সাজ্জাদ জানায়, পরিত্যক্ত সবজির শ্বেতসার (স্টার্চ) দিয়ে পচনশীল পলিথিন এবং কলাগাছের তন্তু দিয়ে প্লাস্টিক-সিলিকনের বিকল্প টেকসই পণ্য তৈরি সম্ভব। তাঁর আবিষ্কৃত ৩০০ গ্রাম ওজনের একটি টাইলসে রয়েছে ২০০ গ্রাম কলাগাছের তন্তু, ৬০ গ্রাম হাইড্রোক্সাইড এবং ৪০ গ্রাম রেজিন। রেজিন ব্যবহারের ফলে পণ্যটি দীর্ঘদিন ধরে অক্ষত থাকে এবং পচে না। এই কাঁচামাল দিয়ে শুধু টাইলস বা ঢেউটিনই নয়, গাড়ির যন্ত্রাংশ এমনকি বুলেটপ্রুফ দরজা-জানালাও তৈরি করা সম্ভব।

এই প্লাস্টিক পণ্যটি উচ্চ তাপে গলিয়ে রাসায়নিক উপাদান ও তন্তু সহজেই আলাদা করা যায়। অন্যদিকে, সবজির শ্বেতসার থেকে তৈরি পলিথিন মাটিতে এক মাস এবং পানিতে তিন মাসের মধ্যে মিশে যাবে, যা মাটিতে জৈব সার এবং পানিতে মাছের খাদ্য হিসেবে কাজ করবে। এই যৌগ তৈরিতে ৬৫ শতাংশ কলাগাছের আশ এবং ৩৫ শতাংশ কেমিক্যাল ব্যবহার করা হয়েছে।

শ্রীমঙ্গল সরকারি কলেজের অধ্যক্ষের কার্যালয় থেকে দেওয়া এক প্রত্যয়নপত্রেও সাজ্জাদের এই গবেষণার সত্যতা নিশ্চিত করা হয়েছে। সেখানে উল্লেখ রয়েছে, সাজ্জাদুল ইসলাম সৃজনশীল মেধা অন্বেষণ প্রতিযোগিতা-২০২৪ এ জেলা পর্যায়ে বছরের সেরা মেধাবী নির্বাচিত হয়েছিল।

কলেজের রসায়ন বিভাগের শিক্ষকরা জানান, সাজ্জাদ কলাগাছের সেলুলোজ সমৃদ্ধ আশ, হাইড্রোক্সাইড ও রেজিন ব্যবহার করে টাইলস এবং আলুর শ্বেতসার থেকে পলিথিন তৈরি করে দারুণ সাড়া ফেলেছে। ব্যবহৃত কাঁচামালগুলো সম্পূর্ণ পরিবেশবান্ধব। উন্নত গবেষণার সুযোগ পেলে এটি দেশের জন্য বড় সম্পদ হতে পারে।

সাজ্জাদের মাধ্যমিক বিদ্যালয় মোহাজিরাবাদ স্কুলের প্রাক্তন প্রধান শিক্ষক এবং বর্তমানে হাজী মনছব উল্লাহ উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মো. কামরুল হাছান বলেন, “ছোটবেলা থেকেই বিজ্ঞানের নানা বিষয়ে সাজ্জাদের প্রবল কৌতুহল ছিল। সেই আগ্রহ থেকেই আজ সে এই সাফল্য পেয়েছে।”

সমাপনী আলাপে তরুণ এই বিজ্ঞানী বলেন, “বাংলাদেশে প্রতি বছর প্রায় তিন হাজার কোটি টাকার ফল ও সবজি অপচয় হয়। এই অপচয় হওয়া শস্যকে কাজে লাগিয়ে যদি পরিবেশবান্ধব পণ্য উৎপাদন করা যায়, তবে দেশের অর্থনীতিতে এক বৈপ্লবিক পরিবর্তন আসবে এবং পরিবেশ দূষণও অনেকাংশে কমে যাবে।”

নিজের অনুপ্রেরণার কথা জানাতে গিয়ে সাজ্জাদ বলে, “আমি বিজ্ঞান বিভাগের ছাত্র হওয়ায় গবেষণার দিকেই আমার ঝোঁক ছিল। বিশেষ করে দেশের প্রখ্যাত বিজ্ঞানী ড. মোবারক আহমদ খান স্যারের পাট থেকে সোনালী ব্যাগ ও ঢেউটিন তৈরির গবেষণা আমাকে গভীরভাবে অনুপ্রাণিত করেছে। ইউটিউব ও পত্রিকায় স্যারের কাজ দেখেই আমি এই পরিবেশবান্ধব উদ্ভাবন নিয়ে কাজ করার সাহস পাই।”