আগামী ১৭ জুন প্রধানমন্ত্রীর বহুল প্রতীক্ষিত মৌলভীবাজার সফর ঘিরে জেলাজুড়ে শেষ মুহূর্তের প্রস্তুতি এখন তুঙ্গে। এ সফরকে কেন্দ্র করে জনসভার ভেন্যুতে হঠাৎ বড় পরিবর্তন এসেছে। পূর্বনির্ধারিত রাজনগর উপজেলার পরিবর্তে এবার জেলা সদরের ঐতিহ্যবাহী মৌলভীবাজার সরকারি উচ্চ বিদ্যালয় মাঠে (গভমেন্ট স্কুল মাঠ) জনসভা আয়োজনের সিদ্ধান্ত চূড়ান্ত করা হয়েছে।
ভেন্যু পরিবর্তনের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন জেলা বিএনপির আহ্বায়ক মো. ফয়জুল করিম ময়ূন।
শনিবার (১৩ জুন) দুপুরে ভেন্যু চূড়ান্ত হওয়ার পর জনসভাস্থল পরিদর্শনে যান বিএনপির শীর্ষ নেতারা। পরিদর্শন দলে ছিলেন জেলা বিএনপির আহ্বায়ক মো. ফয়জুল করিম ময়ূন, সদস্য সচিব আব্দুর রহিম রিপন, সাবেক সহ-সভাপতি ও আহ্বায়ক কমিটির সদস্য আলহাজ্ব আব্দুল মুকিত, কানাডা বিএনপির সাবেক সভাপতি ফয়সল আহমদ চৌধুরী, জেলা পরিষদের প্রশাসক মিজানুর রহমান,রাজনগর উপজেলা বিএনপির সভাপতি নুরুল ইসলাম শেলুন সহ জেলা ও উপজেলা পর্যায়ের নেতৃবৃন্দ।
পরিদর্শনকালে নেতারা মাঠের সার্বিক প্রস্তুতি, মঞ্চ নির্মাণ, নিরাপত্তা, যানবাহন চলাচল এবং জনসমাগম ব্যবস্থাপনা নিয়ে সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে মতবিনিময় করেন। পুরো এলাকা ঘিরে এখন চলছে ব্যাপক প্রস্তুতি কার্যক্রম।
ফয়জুল করিম ময়ূন বলেন-
“মাননীয় প্রধান মন্ত্রীর দুইটি প্রোগ্রাম একটা শ্রীমঙ্গলে ও একটা রাজনগর ডিগ্রী কলেজ মাঠে ছিল। সেখানে জায়গা কম থাকায় আমরা বড় পরিসরে করার জন্য মৌলভীবাজার জেলা শহরে সরকারি উচ্চ বিদ্যালয় মাঠে আমরা এখানে নিয়ে আসছি। এবং আমরা আজ মাঠ পরিদর্শন করেছি। পরবর্তীতে সরকারের সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ তারাও দেখবেন। আমরা প্রাথমিকভাবে এ জায়গা সিলেকশন করেছি। এবং এখানে বিপুল জনসাধারণের উপস্থিতি হবে। প্রধান মন্ত্রীর আগমনের কথা শুনে মানুষের মধ্যে ব্যাপক উৎসাহ উদ্দীপনা ইতিমধ্যেই শুরু হয়ে গেছে। জেলা জুড়ে ব্যাপক সাড়া পড়ে গেছে। আর রাজনগরের টেংরা ইউনিয়নের একটি ওয়ার্ডে ফ্যামেলি কার্ড যারা পাবেন তারাও এখানে চলে আসবেন। সুতরাং আমাদের ভেন্যু পরিবর্তন হলেও নেতাকর্মী ও সাধারণ মানুষের আগ্রহ আরও বেড়েছে। আমরা আশা করছি ১৭ জুনের জনসভা মৌলভীবাজারের ইতিহাসে অন্যতম বৃহৎ রাজনৈতিক সমাবেশে পরিণত হবে ইনশাল্লাহ।”
আব্দুর রহিম রিপন বলেন-
“রাজনগরের মাঠ অতিরিক্ত ছোট এবং এখানে বর্ষার মাস সেখানের মাঠ অনুপযুক্ত থাকার কারণে প্রচন্ড বৃষ্টির কারণে আমরা মৌলভীবাজার সরকারি উচ্চ বিদ্যালয় মাঠে নিয়ে এসেছি। মাননীয় প্রধান মন্ত্রী কে জেলা বাসী স্বাগত জানানোর জন্য অধীর আগ্রহে অপেক্ষা করছেন।”
দলীয় সূত্রে জানা গেছে, জনসভায় প্রধানমন্ত্রীর গুরুত্বপূর্ণ রাজনৈতিক বক্তব্যের পাশাপাশি জেলার অবকাঠামোগত উন্নয়ন, কৃষি খাতের আধুনিকায়ন, চা শিল্প ও শ্রমিক কল্যাণসহ বিভিন্ন বিষয়ে বড় ধরনের ঘোষণা আসতে পারে।
এদিকে ভেন্যু পরিবর্তনের পর মৌলভীবাজার শহরে উৎসবমুখর পরিবেশ বিরাজ করছে। গুরুত্বপূর্ণ সড়ক, মোড় ও জনবহুল এলাকায় তোরণ, ব্যানার ও ফেস্টুন স্থাপনের কাজ চলছে। আইন-শৃঙ্খলা বাহিনী ও প্রশাসনের সমন্বয়ে পুরো এলাকায় নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করা হয়েছে।
সব মিলিয়ে আসন্ন এই জনসভাকে ঘিরে পুরো মৌলভীবাজার এখন এক উৎসবের নগরীতে পরিণত হয়েছে।












