যুক্তরাষ্ট্রের আরোপিত নৌ-অবরোধ উপেক্ষা করে একটি তেলবাহী ট্যাঙ্কার হরমুজ প্রণালি অতিক্রম করেছে। জাহাজটি মার্কিন নিষেধাজ্ঞার তালিকায় থাকা একটি চীনা মালিকানাধীন প্রতিষ্ঠান দ্বারা পরিচালিত।
ব্লুমবার্গের বরাত দিয়ে আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমগুলো এই তথ্য জানিয়েছে।
শিপিং ডাটা অনুযায়ী, ‘রিচ স্টারি’ নামক এই ট্যাঙ্কারটি গত মঙ্গলবার হরমুজ প্রণালি অতিক্রম করে। চীনা ক্রু দ্বারা পরিচালিত এই জাহাজটি ২০২৩ সালে ইরানকে জ্বালানি নিষেধাজ্ঞা এড়াতে সহায়তার অভিযোগে যুক্তরাষ্ট্রের কালো তালিকায় অন্তর্ভুক্ত হয়েছিল। এর আগে জাহাজটি ‘ফুল স্টার’ নামে পরিচিত ছিল।
জাহাজ চলাচলের তথ্য অনুযায়ী, মাঝারি আকারের জাহাজটি ‘সাংহাই জুয়ানরুন শিপিং কোম্পানি লিমিটেড’-এর মালিকানাধীন। জাহাজটি সংযুক্ত আরব আমিরাতের হামরিয়া বন্দর থেকে প্রায় ২ লাখ ৫০ হাজার ব্যারেল মিথানল নিয়ে যাচ্ছিল।
প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, অবরোধ কার্যকর হওয়ার ২৪ ঘণ্টার মধ্যে এটি ছিল জাহাজটির দ্বিতীয় প্রচেষ্টা। শুরুতে জাহাজটি ইরানের কেশম দ্বীপের কাছে এসে ফিরে গেলেও কয়েক ঘণ্টা পর পুনরায় যাত্রা শুরু করে। এ সময় এটি তার অবস্থান ও চীনা মালিকানার তথ্য প্রচার করে। বিশ্লেষকরা একে মার্কিন অবরোধ কার্যকরের সক্ষমতার একটি পরীক্ষা হিসেবে দেখছেন।
প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প কর্তৃক ঘোষিত এই নৌ-অবরোধ গত সোমবার থেকে কার্যকর হয়েছে, যার মূল লক্ষ্য ইরানের তেল রপ্তানি বন্ধ করা। এই পদক্ষেপের ফলে বিশ্বজুড়ে শিপিং কোম্পানি এবং জ্বালানি ব্যবসায়ীদের মধ্যে অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে। অনেক প্রতিষ্ঠান তাদের কার্যক্রম সাময়িকভাবে স্থগিত রেখেছে।
এদিকে ‘এলপিস’ নামের আরো একটি ট্যাঙ্কার এই সময়ে ওমান উপসাগরে প্রবেশ করেছে বলে জানা গেছে। জাহাজ ট্র্যাকিং প্ল্যাটফর্মগুলোর তথ্য অনুযায়ী, জাহাজটি আগে ইরানের একটি বন্দরে নোঙর করেছিল।
হরমুজ প্রণালির এই অস্থিরতায় মধ্যপ্রাচ্যের তেলের ওপর নির্ভরশীল এশীয় দেশগুলোর মধ্যে উদ্বেগ বাড়ছে। উদ্ভূত পরিস্থিতিতে চীনের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ওয়াং ই তেহরান ও ওয়াশিংটনের মধ্যে আলোচনার মাধ্যমে কূটনৈতিক সমাধানের আহ্বান জানিয়েছেন।
উল্লেখ্য, ‘রিচ স্টারি’ জাহাজটি মালাউই-এর পতাকাবাহী হিসেবে নিবন্ধিত বলে জানানো হলেও দেশটি সমুদ্রগামী জাহাজের কোনো রেজিস্ট্রি সংরক্ষণের তথ্য অস্বীকার করেছে।
নথিপত্র অনুযায়ী, ট্যাঙ্কারটির মালিকানা সাংহাই-ভিত্তিক একটি কোম্পানির সঙ্গে যুক্ত, যেটি নিজেও মার্কিন নিষেধাজ্ঞার তালিকায় রয়েছে।
সূত্র : দ্য ইকোনমিক টাইমস

















