সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে মানহানিকর বক্তব্য ও ব্যঙ্গচিত্র প্রকাশের অভিযোগে আওয়ামী লীগ, যুবলীগ, ছাত্রলীগ এবং জামায়াত-শিবিরের নেতাকর্মীসহ ২৫ জনের বিরুদ্ধে সিলেটে একটি নালিশি মামলা দায়ের করা হয়েছে। বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী স্বেচ্ছাসেবক দলের একজন স্থানীয় কর্মী বাদী হয়ে বিজ্ঞ আদালতে এই নালিশি আবেদনটি পেশ করেন।
আদালত দণ্ডবিধি (পেনাল কোড) ১৮৬০-এর ৫০০, ৫০১ ও ১০৩ ধারায় অভিযোগটি আমলে নিয়ে মামলা রুজু করেছেন এবং ঘটনার সুষ্ঠু তদন্তসহ আসামিদের মোবাইল ফোন জব্দের নির্দেশ দিয়েছেন।
মামলায় আসামীগণ হলেন, ১নং আসামী মোঃ জুবেল মিয়া সিলেট মহানগর ৫নং নম্বর ওয়ার্ড যুবলীগ এর সাংগঠনিক সম্পাদক, ২নং আসামী মোঃ শাহাব উদ্দিন ফেঞ্চুগঞ্জ উপজেলার জামায়াতের অন্যতম নেতা, ৩নং আসামী মোঃ আবুল হাসান সিলেট মহানগর ১৫ নং ওয়ার্ড যুবলীগের সহ সভাপতি, ৪নং আসামী মোঃ তোফায়েল হোসেন বিশ্বনাথ উপজেলা ছাত্রলীগ নেতা, ৫নং আসামী মোঃ আব্দুল খালিক সিলেট মহানগর ৫নং ওয়ার্ড আওয়ামী লীগের সহ সভাপতি, ৬নং আসামী মোঃ মোবাশির মিয়া হবিগঞ্জ জেলা যুব লীগের সাধারণ সম্পাদক, ৭নং আসামী মাহের, আর রাহমান বাংলাদেশ ইসলামী ছাত্র শিবির গোলাপগঞ্জ থানা শাখার অন্যতম নেতা, ৮নং আসামী জাকির মিয়া বাংলাদেশ ছাত্রলীগ মদন মোহন কলেজ শাখার সহ সাংগঠনিক সম্পাদক, ৯নং আসামী রিমা আক্তার পলি বাংলাদেশ ছাত্রলীগ দক্ষিণ সুরমা সরকারি কলেজ শাখার তথ্য ও গবেষণা সম্পাদক, ১০নং মোস্তফা ফজলে এলাহী ইসলামী ছাত্র শিবিরের বিয়ানী বাজার উপজেলা শাখার সাবেক নেতা, ১১নং আসামী মোঃ মামুনুল হক ছৈলা আফজলাবাদ ইউনিয়ন যুবলীগের সাধারণ সম্পাদক, ১২নং আসামী মোছাঃ ছাবিয়া বেগম ছাতক উপজেলা মহিলা যুবলীগের অন্যতম নেত্রী, ১৩নং আসামী জাকির হোসেন অনলাইন এক্টিভিষ্ট, ১৪নং আসামী মোঃ আব্দুল হামিদ শিমুল ইসলামী ছাত্র শিবিরের সাবেক নেতা, ১৫নং আসামী রাসেল আহমদ কানাইঘাট উপজেলা ছাত্র লীগের সাবেক সহ সভাপতি, ১৬নং আসামী আমিনুল ইহসান মোঃ শাকির ইসলামী ছাত্র শিবিরের সাবেক নেতা, ১৭নং আসামী মোজাক্কির আহমদ সাধারণ সম্পাদক লামাকাজী ইউনিয়ন ছাত্র লীগ, ১৮নং আসামী জাবের হোসাইন ইসলামী ছাত্র শিবিরের সাবেক নেতা, ১৯নং আসামী মোঃ মঈন উদ্দিন ইসলামী ছাত্র শিবিরের সাধারণ সম্পাদক, সুরমা অঞ্চল, সিলেট, ২০নং আসামী আশরাফুল ইসলাম নোবেল ইসলামী ছাত্র শিবিরের সাবেক নেতা, ২১নং শেখ সুলতান মাহমুদ রাব্বি সিলেট মহানগর ছাত্র লীগের সাবেক যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক, ২২নং আসামী মোঃ সাজন মিয়া সাংবাদিক ও রাজনৈতিক এক্টিভিস্ট। ২৩নং আসামী মোঃ আব্দুল কাইয়ুম অনলাইন এক্টিভিষ্ট, ২৪নং আসামী আব্দুল কাদির জিলানী অনলাইন এক্টিভিষ্ট, ২৫নং আসামী মোহাম্মদ মেহেদী হাসান অনলাইন এক্টিভিষ্ট।
মামলায় আরো উল্লেখ করা হয়, আসামীগণ তাহাদের নিজস্ব ফেইসবুক আইডি হতে ঘটনার তারিখ ও ভিন্ন ভিন্ন সময়ে বিভিন্ন স্থানে অবস্থান করিয়া বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল বিএনপি’র চেয়ারম্যান ও গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের মাননীয় প্রধান মন্ত্রী জনাব তারেক রহমান ও গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের মাননীয় স্বরাষ্ট্র মন্ত্রী ও স্থানীয় সরকার পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রী বিএনপির মহাসচিব জনাব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর এর বিরুদ্ধে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে মানহানীকর উক্তি ও ব্যাঙ্গ চিত্র কার্টুন তৈরি প্রকাশ ও প্রচার করিয়াছে। আসামীগণের এহেন অন্যায় কাজে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল বিএনপি’র চেয়ারম্যান ও গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের মাননীয় প্রধান মন্ত্রী জনাব তারেক রহমান ও গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের মাননীয় স্বরাষ্ট্র মন্ত্রী ও স্থানীয় সরকার পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রী বিএনপির মহাসচিব জনাব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর এর হাজার হাজার কোটি টাকার মানহানী হইয়াছে। আমি ও বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলের নেতৃবৃন্দ দারুন ভাবে মনোকষ্ট নিয়া অসম্মানীতবোধ করছি। আমি আসামীগণকে তাহাদের নিজস্ব ফেইসবুক আইডি হতে প্রকাশিত প্রচারিত উল্লেখিত আপত্তিজনক মানহানীকর সকল পোষ্ট সমূহ প্রত্যাহার করিয়া নিঃশর্ত ক্ষমা প্রার্থনার অনুরোধ জানাই। কিন্তু আসামীগণ তাহাদের এহেন অন্যায়, বেআইনী, মানহানীকর, অসম্মানজনক স্ট্যাটাস প্রচার ও প্রকাশ হইতে বিরত হয় নাই বা প্রত্যাহার করে নাই। এমতাবস্থায় আমি একজন বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী স্বেচ্ছাসেবক দলের দায়িত্বশীল কর্মী হিসাবে আসামীগণের এহেন অন্যায় ও মারাত্মক অপরাধের সুষ্ঠু বিচার ও দৃষ্টান্ত মূলক শাস্তির ব্যবস্থার জন্য মাননীয় আদালতে অত্র নালিশ পেশ করিলাম। স্বাক্ষী প্রমাণে ঘটনা প্রমাণিত হইবে।
অতএব প্রার্থনা যে, আসামীগণের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ তথা সুষ্ঠু তদন্ত সাপেক্ষে তাহাদের প্রদত্ত প্রকাশিত ও প্রচারিত ফেইসবুক স্ট্যাটাসের রহস্য উদঘাটন ও মোবাইল জব্দ করিয়া প্রয়োজনীয় আইনানুগ আদেশ দানে বিজ্ঞ আদালতের দয়া হয়।
তারই প্রেক্ষিতে আদালত পেনাল কোড ১৮৬০ এর ৫০০/৫০১/১০৩ ধারায় মামলা রুজু করে।











