বাংলাদেশ ১২:০০ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ১৭ জুন ২০২৬, ২ আষাঢ় ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

তামাবিল স্থলবন্দরে নিরাপত্তাহীনভাবে রাসায়নিক আমদানি চলছে

সিলেটের তামাবিল স্থলবন্দর দিয়ে ভারত থেকে অত্যন্ত দাহ্য রাসায়নিক পদার্থ মিথানল আমদানি করা হচ্ছে পর্যাপ্ত নিরাপত্তা ব্যবস্থা ছাড়াই। বন্দরে নেই অগ্নিনির্বাপণ ইউনিট কিংবা কেমিক্যাল পরীক্ষার ল্যাবরেটরি। ফলে বড় ধরনের দুর্ঘটনার আশঙ্কা থাকলেও প্রতিদিনই উচ্চ ঝুঁকি নিয়ে এই কেমিক্যাল আসছে বাংলাদেশে।

বন্দরে ল্যাব না থাকায় মিথানলের নমুনা পরীক্ষার জন্য পাঠাতে হয় শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে (শাবিপ্রবি)। রিপোর্ট হাতে পাওয়ার পরই ভারতীয় ট্যাংক লরি থেকে খালাসের অনুমতি মেলে। পরীক্ষার রিপোর্টের অপেক্ষায় অনেক সময় এসব লরি বন্দরে তিন দিন থেকে এক সপ্তাহ পর্যন্ত দাঁড়িয়ে থাকে, যা বাড়ায় দুর্ঘটনার ঝুঁকি।

আগেও তামাবিলে মিথানলবাহী ট্যাংক লরিতে আগুন লাগার ঘটনা ঘটেছে। গত বছরের ৯ নভেম্বর এমন এক দুর্ঘটনায় আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে পুরো বন্দরে। তখন স্থানীয়ভাবে ফায়ার সার্ভিস ইউনিট না থাকায় আগুন নেভাতে আসে ভারতের ডাউকি ফায়ার সার্ভিস, পরে জৈন্তাপুর ফায়ার সার্ভিস যোগ দিয়ে আগুন নিয়ন্ত্রণে আনে।

বন্দর এলাকায় দুর্ঘটনার ঝুঁকি কমাতে ব্যবসায়ীরা বহুবার ফায়ার সার্ভিস ইউনিট ও কেমিক্যাল টেস্টিং ল্যাব স্থাপনের দাবি জানিয়েছেন। এমনকি দুর্ঘটনার পর তামাবিল পাথর ও চুনাপাথর আমদানিকারক গ্রুপ সরকার ও সংশ্লিষ্ট দপ্তরের কাছে আনুষ্ঠানিক আবেদনও করে। কিন্তু এতদিনেও দাবি বাস্তবায়ন হয়নি।

সিলেট চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রির সাবেক ভারপ্রাপ্ত সভাপতি ফালাহ উদ্দিন আলী আহমদ বলেন, তামাবিলে ফায়ার সার্ভিস ইউনিট ও ল্যাব স্থাপন করা এখন সময়ের দাবি। দীর্ঘদিন ধরে ব্যবসায়ীরা এ নিয়ে আন্দোলন করলেও কোনো বাস্তব অগ্রগতি দেখা যাচ্ছে না।

এ বিষয়ে তামাবিল স্থলবন্দরের সহকারী পরিচালক রায়হান আহমদ জানান, বন্দরের নিরাপত্তা ও অবকাঠামো উন্নয়নে একটি প্রকল্প হাতে নেওয়া হয়েছে। প্রকল্পটি বাস্তবায়িত হলে ফায়ার সার্ভিস ইউনিট ও ল্যাব স্থাপনের সমস্যার সমাধান হবে।

কাস্টমস সুপারিনটেনডেন্ট আলমগীর হোসেন বলেন, পরীক্ষার রিপোর্ট না পাওয়া পর্যন্ত ট্যাংক লরিগুলো বন্দরে অপেক্ষা করে। সতর্কতার সাথে মিথানল আমদানি কার্যক্রম চালানো হচ্ছে বলে তিনি দাবি করেন।

সূত্রঃ সিলেটভিউ ২৪

তামাবিল স্থলবন্দরে নিরাপত্তাহীনভাবে রাসায়নিক আমদানি চলছে

প্রকাশিত: ১২:৪০:১৯ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২৩ অক্টোবর ২০২৫

সিলেটের তামাবিল স্থলবন্দর দিয়ে ভারত থেকে অত্যন্ত দাহ্য রাসায়নিক পদার্থ মিথানল আমদানি করা হচ্ছে পর্যাপ্ত নিরাপত্তা ব্যবস্থা ছাড়াই। বন্দরে নেই অগ্নিনির্বাপণ ইউনিট কিংবা কেমিক্যাল পরীক্ষার ল্যাবরেটরি। ফলে বড় ধরনের দুর্ঘটনার আশঙ্কা থাকলেও প্রতিদিনই উচ্চ ঝুঁকি নিয়ে এই কেমিক্যাল আসছে বাংলাদেশে।

বন্দরে ল্যাব না থাকায় মিথানলের নমুনা পরীক্ষার জন্য পাঠাতে হয় শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে (শাবিপ্রবি)। রিপোর্ট হাতে পাওয়ার পরই ভারতীয় ট্যাংক লরি থেকে খালাসের অনুমতি মেলে। পরীক্ষার রিপোর্টের অপেক্ষায় অনেক সময় এসব লরি বন্দরে তিন দিন থেকে এক সপ্তাহ পর্যন্ত দাঁড়িয়ে থাকে, যা বাড়ায় দুর্ঘটনার ঝুঁকি।

আগেও তামাবিলে মিথানলবাহী ট্যাংক লরিতে আগুন লাগার ঘটনা ঘটেছে। গত বছরের ৯ নভেম্বর এমন এক দুর্ঘটনায় আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে পুরো বন্দরে। তখন স্থানীয়ভাবে ফায়ার সার্ভিস ইউনিট না থাকায় আগুন নেভাতে আসে ভারতের ডাউকি ফায়ার সার্ভিস, পরে জৈন্তাপুর ফায়ার সার্ভিস যোগ দিয়ে আগুন নিয়ন্ত্রণে আনে।

বন্দর এলাকায় দুর্ঘটনার ঝুঁকি কমাতে ব্যবসায়ীরা বহুবার ফায়ার সার্ভিস ইউনিট ও কেমিক্যাল টেস্টিং ল্যাব স্থাপনের দাবি জানিয়েছেন। এমনকি দুর্ঘটনার পর তামাবিল পাথর ও চুনাপাথর আমদানিকারক গ্রুপ সরকার ও সংশ্লিষ্ট দপ্তরের কাছে আনুষ্ঠানিক আবেদনও করে। কিন্তু এতদিনেও দাবি বাস্তবায়ন হয়নি।

সিলেট চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রির সাবেক ভারপ্রাপ্ত সভাপতি ফালাহ উদ্দিন আলী আহমদ বলেন, তামাবিলে ফায়ার সার্ভিস ইউনিট ও ল্যাব স্থাপন করা এখন সময়ের দাবি। দীর্ঘদিন ধরে ব্যবসায়ীরা এ নিয়ে আন্দোলন করলেও কোনো বাস্তব অগ্রগতি দেখা যাচ্ছে না।

এ বিষয়ে তামাবিল স্থলবন্দরের সহকারী পরিচালক রায়হান আহমদ জানান, বন্দরের নিরাপত্তা ও অবকাঠামো উন্নয়নে একটি প্রকল্প হাতে নেওয়া হয়েছে। প্রকল্পটি বাস্তবায়িত হলে ফায়ার সার্ভিস ইউনিট ও ল্যাব স্থাপনের সমস্যার সমাধান হবে।

কাস্টমস সুপারিনটেনডেন্ট আলমগীর হোসেন বলেন, পরীক্ষার রিপোর্ট না পাওয়া পর্যন্ত ট্যাংক লরিগুলো বন্দরে অপেক্ষা করে। সতর্কতার সাথে মিথানল আমদানি কার্যক্রম চালানো হচ্ছে বলে তিনি দাবি করেন।

সূত্রঃ সিলেটভিউ ২৪