বাংলাদেশ ০৬:০৫ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ১৫ ফেব্রুয়ারী ২০২৬, ৩ ফাল্গুন ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

তারেক রহমান পালিয়ে যাননি, ইতিহাস বিকৃত করা হচ্ছে—জামায়াত নেতার বক্তব্যের জবাবে এম নাসের রহমান

বিএনপির জাতীয় নির্বাহী কমিটির সদস্য ও মৌলভীবাজার–৩ (সদর–রাজনগর) আসনের বিএনপি মনোনীত সংসদ সদস্য প্রার্থী এম নাসের রহমান বলেছেন, বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান দেশ ছেড়ে পালিয়ে যাননি; বরং ওয়ান–ইলেভেনের সময় সেনা সমর্থিত সরকারের চাপের মুখে তাঁকে গুরুতর অসুস্থ অবস্থায় দেশ ছাড়তে বাধ্য করা হয়েছিল। এ বিষয়ে ভিন্ন বক্তব্য দিয়ে ইতিহাস বিকৃত করার চেষ্টা করা হচ্ছে বলে মন্তব্য করেন তিনি।
শনিবার রাতে মৌলভীবাজার পৌরসভার ৭ নম্বর ওয়ার্ড বিএনপির আয়োজনে ধানের শীষের প্রার্থীর নির্বাচনী উঠান বৈঠকে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। সাম্প্রতিক সময়ে জামায়াতে ইসলামীর আমীর ডা. শফিকুর রহমানের দেওয়া বক্তব্যের জবাবে এম নাসের রহমান এই প্রতিক্রিয়া জানান।
এম নাসের রহমান বলেন, “জামায়াতে ইসলামীর আমীর প্রায়ই বলে থাকেন, তাঁদের কোনো নেতা কখনো দেশ ছেড়ে পালিয়ে যাননি। তাহলে প্রশ্ন হচ্ছে—তারেক রহমান কি পালিয়ে গিয়েছিলেন? দেশবাসী জানে, তিনি পালিয়ে যাননি।”
তিনি বলেন, ওয়ান–ইলেভেনের সময় তৎকালীন সেনা সমর্থিত মইন ফখরুদ্দিন সরকারের অধীনে সেনা গোয়েন্দা সংস্থার পক্ষ থেকে বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়ার মুক্তির শর্ত হিসেবে তারেক রহমানকে বিদেশে পাঠানোর প্রস্তাব দেওয়া হয়। “বেগম জিয়া অনেক শর্ত প্রত্যাখ্যান করেছিলেন। তবে গুরুতর অসুস্থ ছেলের কথা বিবেচনা করে একটি শর্ত মেনে নিতে বাধ্য হন,” বলেন তিনি।
নাসের রহমানের ভাষ্য অনুযায়ী, ৮ সেপ্টেম্বর বেগম খালেদা জিয়া মুক্তি পান এবং পরদিন পিজি হাসপাতালে গিয়ে তারেক রহমানের সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন। এর পরের দিনই গুরুতর অসুস্থ অবস্থায় তারেক রহমানকে বিদেশে পাঠানো হয়। “প্লেনে ওঠানোর পর তাঁকে একটি সাদা কাগজে স্বাক্ষর করতে চাপ দেওয়া হয়েছিল—রাজনীতি করবেন না বলে। এটি কোনো আইনগত চুক্তি ছিল না,” বলেন তিনি।
এম নাসের রহমান প্রশ্ন তুলে বলেন, “যদি তারেক রহমান পালিয়ে যেতেন, তাহলে আজ তাঁর জনসভাগুলোতে লক্ষ লক্ষ মানুষের উপস্থিতি দেখা যেত কি? দেশের মানুষের ভালোবাসা কি এমনিতেই পাওয়া যায়?”
জামায়াতে ইসলামীর নেতাদের অতীত প্রসঙ্গে তিনি বলেন, “জামায়াতের প্রতিষ্ঠাতা ও শীর্ষ নেতাদের অনেকেই বিভিন্ন সময়ে পাকিস্তান, সৌদি আরব ও ইউরোপে অবস্থান করেছেন। ব্যারিস্টার আব্দুর রাজ্জাক দীর্ঘদিন লন্ডনে ছিলেন। তাহলে ‘পালিয়ে যাওয়া’ নিয়ে একতরফা বক্তব্য দেওয়ার নৈতিকতা কোথায়?”
সভায় সভাপতিত্ব করেন পৌরসভার ৭ নম্বর ওয়ার্ড বিএনপির সভাপতি লোকমান আহমদ। সঞ্চালনা করেন পৌর বিএনপির সিনিয়র সহসভাপতি সারওয়ার মজুমদার ইমন।
বক্তব্য দেন জেলা বিএনপির আহ্বায়ক মো. ফয়জুল করিম ময়ূন, সদস্যসচিব আব্দুর রহিম রিপন, জেলা বিএনপির সাবেক সাধারণ সম্পাদক মিজানুর রহমান, সাবেক সহসভাপতি আব্দুল মুকিত, আয়াছ আহমেদ, সাবেক যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মো. ফখরুল ইসলাম, জমিয়তে উলামা ইসলামের কেন্দ্রীয় সহকারী মহাসচিব মাওলানা জামিল আহমেদ আনসারী, পৌর বিএনপির সভাপতি অলিউর রহমান, সাধারণ সম্পাদক মনোয়ার আহমদ রহমান, জেলা যুবদলের সভাপতি জাকির হোসেন উজ্জ্বল ও সাধারণ সম্পাদক এম এ মোহিত ও ৭ নং ওয়ার্ড বিএনপির সাধারণ সম্পাদক আজিজ খান প্রমূখ । এ উঠান বৈঠকে স্থানীয় বিএনপি,যুবদল,ছাত্রদল,স্বেচ্ছাসেবক দল ও এর অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনের বিপুল সংখ্যক নেতা–কর্মীসহ এলাকার প্রচুর নারী পুরুষ ছাত্র- যুবকরা উপস্থিত ছিলেন।

তারেক রহমান পালিয়ে যাননি, ইতিহাস বিকৃত করা হচ্ছে—জামায়াত নেতার বক্তব্যের জবাবে এম নাসের রহমান

প্রকাশিত: ১০:৩৬:৩৬ অপরাহ্ন, রবিবার, ১ ফেব্রুয়ারী ২০২৬

বিএনপির জাতীয় নির্বাহী কমিটির সদস্য ও মৌলভীবাজার–৩ (সদর–রাজনগর) আসনের বিএনপি মনোনীত সংসদ সদস্য প্রার্থী এম নাসের রহমান বলেছেন, বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান দেশ ছেড়ে পালিয়ে যাননি; বরং ওয়ান–ইলেভেনের সময় সেনা সমর্থিত সরকারের চাপের মুখে তাঁকে গুরুতর অসুস্থ অবস্থায় দেশ ছাড়তে বাধ্য করা হয়েছিল। এ বিষয়ে ভিন্ন বক্তব্য দিয়ে ইতিহাস বিকৃত করার চেষ্টা করা হচ্ছে বলে মন্তব্য করেন তিনি।
শনিবার রাতে মৌলভীবাজার পৌরসভার ৭ নম্বর ওয়ার্ড বিএনপির আয়োজনে ধানের শীষের প্রার্থীর নির্বাচনী উঠান বৈঠকে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। সাম্প্রতিক সময়ে জামায়াতে ইসলামীর আমীর ডা. শফিকুর রহমানের দেওয়া বক্তব্যের জবাবে এম নাসের রহমান এই প্রতিক্রিয়া জানান।
এম নাসের রহমান বলেন, “জামায়াতে ইসলামীর আমীর প্রায়ই বলে থাকেন, তাঁদের কোনো নেতা কখনো দেশ ছেড়ে পালিয়ে যাননি। তাহলে প্রশ্ন হচ্ছে—তারেক রহমান কি পালিয়ে গিয়েছিলেন? দেশবাসী জানে, তিনি পালিয়ে যাননি।”
তিনি বলেন, ওয়ান–ইলেভেনের সময় তৎকালীন সেনা সমর্থিত মইন ফখরুদ্দিন সরকারের অধীনে সেনা গোয়েন্দা সংস্থার পক্ষ থেকে বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়ার মুক্তির শর্ত হিসেবে তারেক রহমানকে বিদেশে পাঠানোর প্রস্তাব দেওয়া হয়। “বেগম জিয়া অনেক শর্ত প্রত্যাখ্যান করেছিলেন। তবে গুরুতর অসুস্থ ছেলের কথা বিবেচনা করে একটি শর্ত মেনে নিতে বাধ্য হন,” বলেন তিনি।
নাসের রহমানের ভাষ্য অনুযায়ী, ৮ সেপ্টেম্বর বেগম খালেদা জিয়া মুক্তি পান এবং পরদিন পিজি হাসপাতালে গিয়ে তারেক রহমানের সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন। এর পরের দিনই গুরুতর অসুস্থ অবস্থায় তারেক রহমানকে বিদেশে পাঠানো হয়। “প্লেনে ওঠানোর পর তাঁকে একটি সাদা কাগজে স্বাক্ষর করতে চাপ দেওয়া হয়েছিল—রাজনীতি করবেন না বলে। এটি কোনো আইনগত চুক্তি ছিল না,” বলেন তিনি।
এম নাসের রহমান প্রশ্ন তুলে বলেন, “যদি তারেক রহমান পালিয়ে যেতেন, তাহলে আজ তাঁর জনসভাগুলোতে লক্ষ লক্ষ মানুষের উপস্থিতি দেখা যেত কি? দেশের মানুষের ভালোবাসা কি এমনিতেই পাওয়া যায়?”
জামায়াতে ইসলামীর নেতাদের অতীত প্রসঙ্গে তিনি বলেন, “জামায়াতের প্রতিষ্ঠাতা ও শীর্ষ নেতাদের অনেকেই বিভিন্ন সময়ে পাকিস্তান, সৌদি আরব ও ইউরোপে অবস্থান করেছেন। ব্যারিস্টার আব্দুর রাজ্জাক দীর্ঘদিন লন্ডনে ছিলেন। তাহলে ‘পালিয়ে যাওয়া’ নিয়ে একতরফা বক্তব্য দেওয়ার নৈতিকতা কোথায়?”
সভায় সভাপতিত্ব করেন পৌরসভার ৭ নম্বর ওয়ার্ড বিএনপির সভাপতি লোকমান আহমদ। সঞ্চালনা করেন পৌর বিএনপির সিনিয়র সহসভাপতি সারওয়ার মজুমদার ইমন।
বক্তব্য দেন জেলা বিএনপির আহ্বায়ক মো. ফয়জুল করিম ময়ূন, সদস্যসচিব আব্দুর রহিম রিপন, জেলা বিএনপির সাবেক সাধারণ সম্পাদক মিজানুর রহমান, সাবেক সহসভাপতি আব্দুল মুকিত, আয়াছ আহমেদ, সাবেক যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মো. ফখরুল ইসলাম, জমিয়তে উলামা ইসলামের কেন্দ্রীয় সহকারী মহাসচিব মাওলানা জামিল আহমেদ আনসারী, পৌর বিএনপির সভাপতি অলিউর রহমান, সাধারণ সম্পাদক মনোয়ার আহমদ রহমান, জেলা যুবদলের সভাপতি জাকির হোসেন উজ্জ্বল ও সাধারণ সম্পাদক এম এ মোহিত ও ৭ নং ওয়ার্ড বিএনপির সাধারণ সম্পাদক আজিজ খান প্রমূখ । এ উঠান বৈঠকে স্থানীয় বিএনপি,যুবদল,ছাত্রদল,স্বেচ্ছাসেবক দল ও এর অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনের বিপুল সংখ্যক নেতা–কর্মীসহ এলাকার প্রচুর নারী পুরুষ ছাত্র- যুবকরা উপস্থিত ছিলেন।