বাংলাদেশ ১১:১১ অপরাহ্ন, শনিবার, ১৪ ফেব্রুয়ারী ২০২৬, ২ ফাল্গুন ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

শেরপুরে নির্বাচনি কর্মসূচিতে বিএনপি–জামায়াত সংঘর্ষ, প্রাণ গেল জামায়াত নেতার

শেরপুর-৩ (শ্রীবরদী–ঝিনাইগাতী) সংসদীয় আসনে নির্বাচনি ইশতেহার পাঠের অনুষ্ঠানে মঞ্চের সামনের সারিতে চেয়ারে বসাকে কেন্দ্র করে বিএনপি ও জামায়াতে ইসলামীর কর্মী-সমর্থকদের মধ্যে তীব্র সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। এতে ঝিনাইগাতী উপজেলা জামায়াতের সেক্রেটারি নিহত হয়েছেন এবং উভয় পক্ষের অন্তত ৫০ জন আহত হয়েছেন। এ সময় কয়েকটি মোটরসাইকেল ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগের ঘটনাও ঘটে।

বুধবার (২৮ জানুয়ারি) দুপুরে ঝিনাইগাতী উপজেলা মিনি স্টেডিয়াম মাঠে ইশতেহার অনুষ্ঠান শুরুর আগেই সংঘর্ষটি ঘটে। জামায়াত নেতা নিহত হওয়ার বিষয়টি নিশ্চিত করে জামায়াত মনোনীত সংসদ সদস্য প্রার্থী নুরুজ্জামান বাদল জানান, গুরুতর আহত শ্রীবরদী উপজেলা জামায়াতের সেক্রেটারি রেজাউল করিমকে ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়ার পথে রাত ৯টা ৪৫ মিনিটে তার মৃত্যু হয়।

উপজেলা প্রশাসন ও স্থানীয় সূত্র জানায়, পূর্বঘোষণা অনুযায়ী ঝিনাইগাতী উপজেলা প্রশাসনের উদ্যোগে সব প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থীকে নিয়ে নির্বাচনি ইশতেহার পাঠের আয়োজন করা হয়। অনুষ্ঠানের সভাপতি উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও সহকারী রিটার্নিং কর্মকর্তা আশরাফুল আলম রাসেলসহ প্রার্থীরা মঞ্চে বসার পর সামনের সারির চেয়ার দখলকে কেন্দ্র করে বিএনপি ও জামায়াতের কয়েকজন কর্মী-সমর্থকের মধ্যে বাগ্‌বিতণ্ডা শুরু হয়। একপর্যায়ে তা সংঘর্ষে রূপ নেয়।

পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের বাইরে গেলে উভয় পক্ষের মধ্যে ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়া ও চেয়ার নিক্ষেপের ঘটনা ঘটে। এতে মঞ্চের সামনে রাখা কয়েকশ চেয়ার ভাঙচুর হয় এবং অন্তত ৫০ জন আহত হন। একইসঙ্গে উত্তেজিত জনতা অনুষ্ঠানস্থলে থাকা কয়েকটি মোটরসাইকেলে আগুন দেয় ও ভাঙচুর চালায়। পরে স্থানীয়দের সহায়তায় আহতদের উদ্ধার করে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স ও জেলা সদর হাসপাতালে ভর্তি করা হয়।

খবর পেয়ে পুলিশ ও সেনাবাহিনী ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে।

ঘটনার জন্য বিএনপিকে দায়ী করে জামায়াত প্রার্থী নুরুজ্জামান বাদল বলেন, এটি ছিল পূর্বপরিকল্পিত হামলা। এতে তাদের দলের অন্তত ৩০ জন নেতাকর্মী আহত হয়েছেন। তিনি ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত ও বিচার দাবি করেন।

অন্যদিকে বিএনপি মনোনীত প্রার্থী মাহমুদুল হক রুবেল অভিযোগ করেন, জামায়াত পরিকল্পিতভাবে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি করতে এই হামলা চালিয়েছে। এতে বিএনপিরও বহু নেতাকর্মী আহত হয়েছেন।

ঝিনাইগাতী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা আশরাফুল আলম রাসেল বলেন, সামনের সারিতে বসা নিয়ে সামান্য উত্তেজনা থেকে পরিস্থিতির অবনতি ঘটে। বিষয়টি ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানানো হয়েছে এবং প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

শেরপুরের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (প্রশাসন ও অর্থ) মো. মিজানুর রহমান ভূঞা জানান, বর্তমানে পরিস্থিতি স্বাভাবিক রয়েছে। এ ঘটনায় এখনো কোনো মামলা হয়নি, অভিযোগ পেলে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

শেরপুরে নির্বাচনি কর্মসূচিতে বিএনপি–জামায়াত সংঘর্ষ, প্রাণ গেল জামায়াত নেতার

প্রকাশিত: ১১:৩৩:৩২ অপরাহ্ন, বুধবার, ২৮ জানুয়ারী ২০২৬

শেরপুর-৩ (শ্রীবরদী–ঝিনাইগাতী) সংসদীয় আসনে নির্বাচনি ইশতেহার পাঠের অনুষ্ঠানে মঞ্চের সামনের সারিতে চেয়ারে বসাকে কেন্দ্র করে বিএনপি ও জামায়াতে ইসলামীর কর্মী-সমর্থকদের মধ্যে তীব্র সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। এতে ঝিনাইগাতী উপজেলা জামায়াতের সেক্রেটারি নিহত হয়েছেন এবং উভয় পক্ষের অন্তত ৫০ জন আহত হয়েছেন। এ সময় কয়েকটি মোটরসাইকেল ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগের ঘটনাও ঘটে।

বুধবার (২৮ জানুয়ারি) দুপুরে ঝিনাইগাতী উপজেলা মিনি স্টেডিয়াম মাঠে ইশতেহার অনুষ্ঠান শুরুর আগেই সংঘর্ষটি ঘটে। জামায়াত নেতা নিহত হওয়ার বিষয়টি নিশ্চিত করে জামায়াত মনোনীত সংসদ সদস্য প্রার্থী নুরুজ্জামান বাদল জানান, গুরুতর আহত শ্রীবরদী উপজেলা জামায়াতের সেক্রেটারি রেজাউল করিমকে ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়ার পথে রাত ৯টা ৪৫ মিনিটে তার মৃত্যু হয়।

উপজেলা প্রশাসন ও স্থানীয় সূত্র জানায়, পূর্বঘোষণা অনুযায়ী ঝিনাইগাতী উপজেলা প্রশাসনের উদ্যোগে সব প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থীকে নিয়ে নির্বাচনি ইশতেহার পাঠের আয়োজন করা হয়। অনুষ্ঠানের সভাপতি উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও সহকারী রিটার্নিং কর্মকর্তা আশরাফুল আলম রাসেলসহ প্রার্থীরা মঞ্চে বসার পর সামনের সারির চেয়ার দখলকে কেন্দ্র করে বিএনপি ও জামায়াতের কয়েকজন কর্মী-সমর্থকের মধ্যে বাগ্‌বিতণ্ডা শুরু হয়। একপর্যায়ে তা সংঘর্ষে রূপ নেয়।

পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের বাইরে গেলে উভয় পক্ষের মধ্যে ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়া ও চেয়ার নিক্ষেপের ঘটনা ঘটে। এতে মঞ্চের সামনে রাখা কয়েকশ চেয়ার ভাঙচুর হয় এবং অন্তত ৫০ জন আহত হন। একইসঙ্গে উত্তেজিত জনতা অনুষ্ঠানস্থলে থাকা কয়েকটি মোটরসাইকেলে আগুন দেয় ও ভাঙচুর চালায়। পরে স্থানীয়দের সহায়তায় আহতদের উদ্ধার করে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স ও জেলা সদর হাসপাতালে ভর্তি করা হয়।

খবর পেয়ে পুলিশ ও সেনাবাহিনী ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে।

ঘটনার জন্য বিএনপিকে দায়ী করে জামায়াত প্রার্থী নুরুজ্জামান বাদল বলেন, এটি ছিল পূর্বপরিকল্পিত হামলা। এতে তাদের দলের অন্তত ৩০ জন নেতাকর্মী আহত হয়েছেন। তিনি ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত ও বিচার দাবি করেন।

অন্যদিকে বিএনপি মনোনীত প্রার্থী মাহমুদুল হক রুবেল অভিযোগ করেন, জামায়াত পরিকল্পিতভাবে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি করতে এই হামলা চালিয়েছে। এতে বিএনপিরও বহু নেতাকর্মী আহত হয়েছেন।

ঝিনাইগাতী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা আশরাফুল আলম রাসেল বলেন, সামনের সারিতে বসা নিয়ে সামান্য উত্তেজনা থেকে পরিস্থিতির অবনতি ঘটে। বিষয়টি ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানানো হয়েছে এবং প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

শেরপুরের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (প্রশাসন ও অর্থ) মো. মিজানুর রহমান ভূঞা জানান, বর্তমানে পরিস্থিতি স্বাভাবিক রয়েছে। এ ঘটনায় এখনো কোনো মামলা হয়নি, অভিযোগ পেলে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।