বাংলাদেশ ০৩:০৪ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ১৫ ফেব্রুয়ারী ২০২৬, ২ ফাল্গুন ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

মিয়ানমারে চলছে শেষ ধাপের ভোটগ্রহণ, নিরঙ্কুশ জয়ের আভাস সেনাসমর্থিত দলের

মিয়ানমারে মাসব্যাপী সাধারণ নির্বাচনের তৃতীয় ও শেষ ধাপের ভোটগ্রহণ আজ রোববার অনুষ্ঠিত হচ্ছে। সামরিক জান্তা সরকারের তত্ত্বাবধানে আয়োজিত এই নির্বাচনে সেনাবাহিনী-সমর্থিত দলটির বড় ধরনের বিজয় প্রায় নিশ্চিত বলে মনে করা হচ্ছে। তবে সমালোচকদের দাবি, এই ভোটের মাধ্যমে মূলত সেনাশাসন দীর্ঘায়িত করার জন্য একটি বেসামরিক বৈধতার পর্দা তৈরি করা হচ্ছে।

দীর্ঘ সময় সামরিক শাসনের অধীনে থাকার পর ২০১০-এর দশকে মিয়ানমার প্রায় এক দশক বেসামরিক সংস্কারের পথে এগিয়েছিল। কিন্তু ২০২১ সালের সামরিক অভ্যুত্থানে সেই প্রক্রিয়া থমকে যায়। ওই অভ্যুত্থানে গণতন্ত্রপন্থী নেত্রী অং সান সু চিকে আটক করা হলে দেশজুড়ে গৃহযুদ্ধ ছড়িয়ে পড়ে এবং ভয়াবহ মানবিক সংকটের সৃষ্টি হয়।

ইয়াঙ্গুন থেকে বার্তা সংস্থা এএফপি জানায়, সামরিক অভ্যুত্থানের পাঁচ বছর পূর্তির ঠিক এক সপ্তাহ আগে আজ রোববার ভোর ৬টা থেকে দেশের কয়েক ডজন আসনে শেষ দফার ভোটগ্রহণ শুরু হয়। তবে বিদ্রোহী গোষ্ঠীর নিয়ন্ত্রণে থাকা বিস্তীর্ণ এলাকায় নিরাপত্তাজনিত কারণে ভোট আয়োজন করা সম্ভব হয়নি।

সেনাবাহিনী জনগণের হাতে ক্ষমতা ফিরিয়ে দেওয়ার আশ্বাস দিলেও অং সান সু চিকে রাজনীতি থেকে দূরে রাখা এবং তার দল ন্যাশনাল লিগ ফর ডেমোক্রেসি (এনএলডি) বিলুপ্ত ঘোষণার কারণে গণতন্ত্রপন্থীরা বলছেন, পুরো নির্বাচনী প্রক্রিয়াই সেনাবাহিনীর মিত্রদের পক্ষে সাজানো।

নিরাপত্তার কারণে পরিচয় গোপন রেখে ইয়াঙ্গুনের এক বাসিন্দা এএফপিকে বলেন, “এই নির্বাচন থেকে আমার কোনো প্রত্যাশা নেই। আমার ধারণা, পরিস্থিতি আগের মতোই স্থবির থেকে যাবে।”

বিশ্লেষকদের মতে, ‘ইউনিয়ন সলিডারিটি অ্যান্ড ডেভেলপমেন্ট পার্টি’ (ইউএসডিপি) কার্যত সামরিক বাহিনীর নিয়ন্ত্রণাধীন একটি দল, যেখানে সাবেক সেনা কর্মকর্তাদের প্রভাব স্পষ্ট। নির্বাচনের প্রথম দুই ধাপে দলটি নিম্নকক্ষের প্রায় ৮৫ শতাংশ এবং উচ্চকক্ষের প্রায় দুই-তৃতীয়াংশ আসনে জয় পেয়েছে।

এ ছাড়া সেনাবাহিনী প্রণীত সংবিধান অনুযায়ী সংসদের উভয় কক্ষের ২৫ শতাংশ আসন সরাসরি সামরিক বাহিনীর জন্য সংরক্ষিত। নবনির্বাচিত পার্লামেন্ট পরবর্তী রাষ্ট্রপতি নির্বাচন করবে, যেখানে জান্তা প্রধান মিন অং হ্লাইং নিজেও প্রার্থী হতে পারেন বলে ধারণা করা হচ্ছে।

বিশ্লেষকদের অভিমত, এই নির্বাচনের মাধ্যমে জান্তা সরকার নিজেদের শাসনব্যবস্থাকে বেসামরিক রূপ দেওয়ার চেষ্টা করছে। তবে কিছু ভোটার ভিন্নভাবে অসন্তোষ প্রকাশ করছেন। ইয়াঙ্গুনের এক নারী ভোটার জানান, তিনি ইউএসডিপি ছাড়া অন্য যে কোনো দলকে ভোট দেবেন।

তিনি বলেন, “আমি জানি শেষ পর্যন্ত ফল কী হবে। তারপরও আমার ভোট দিয়ে তাদের পরিকল্পনায় সামান্য হলেও বাধা দিতে চাই।”

নির্বাচনের আনুষ্ঠানিক ফল চলতি সপ্তাহের শেষ দিকে প্রকাশিত হওয়ার কথা থাকলেও, সোমবারই ইউএসডিপি তাদের বিজয় ঘোষণা করতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

উল্লেখ্য, ২০২০ সালের নির্বাচনে অং সান সু চির দল এনএলডি বিপুল জয় অর্জন করেছিল। তবে ২০২১ সালের ১ ফেব্রুয়ারি নির্বাচনী অনিয়মের অভিযোগ তুলে সেনাবাহিনী ক্ষমতা দখল করে। বর্তমানে ৮০ বছর বয়সী নোবেলজয়ী নেত্রী অং সান সু চি অজ্ঞাত স্থানে আটক রয়েছেন। মানবাধিকার সংস্থাগুলোর অভিযোগ, তাকে রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত মামলায় বন্দি করে রাখা হয়েছে।

মিয়ানমারে চলছে শেষ ধাপের ভোটগ্রহণ, নিরঙ্কুশ জয়ের আভাস সেনাসমর্থিত দলের

প্রকাশিত: ০২:০৯:৪৭ অপরাহ্ন, রবিবার, ২৫ জানুয়ারী ২০২৬

মিয়ানমারে মাসব্যাপী সাধারণ নির্বাচনের তৃতীয় ও শেষ ধাপের ভোটগ্রহণ আজ রোববার অনুষ্ঠিত হচ্ছে। সামরিক জান্তা সরকারের তত্ত্বাবধানে আয়োজিত এই নির্বাচনে সেনাবাহিনী-সমর্থিত দলটির বড় ধরনের বিজয় প্রায় নিশ্চিত বলে মনে করা হচ্ছে। তবে সমালোচকদের দাবি, এই ভোটের মাধ্যমে মূলত সেনাশাসন দীর্ঘায়িত করার জন্য একটি বেসামরিক বৈধতার পর্দা তৈরি করা হচ্ছে।

দীর্ঘ সময় সামরিক শাসনের অধীনে থাকার পর ২০১০-এর দশকে মিয়ানমার প্রায় এক দশক বেসামরিক সংস্কারের পথে এগিয়েছিল। কিন্তু ২০২১ সালের সামরিক অভ্যুত্থানে সেই প্রক্রিয়া থমকে যায়। ওই অভ্যুত্থানে গণতন্ত্রপন্থী নেত্রী অং সান সু চিকে আটক করা হলে দেশজুড়ে গৃহযুদ্ধ ছড়িয়ে পড়ে এবং ভয়াবহ মানবিক সংকটের সৃষ্টি হয়।

ইয়াঙ্গুন থেকে বার্তা সংস্থা এএফপি জানায়, সামরিক অভ্যুত্থানের পাঁচ বছর পূর্তির ঠিক এক সপ্তাহ আগে আজ রোববার ভোর ৬টা থেকে দেশের কয়েক ডজন আসনে শেষ দফার ভোটগ্রহণ শুরু হয়। তবে বিদ্রোহী গোষ্ঠীর নিয়ন্ত্রণে থাকা বিস্তীর্ণ এলাকায় নিরাপত্তাজনিত কারণে ভোট আয়োজন করা সম্ভব হয়নি।

সেনাবাহিনী জনগণের হাতে ক্ষমতা ফিরিয়ে দেওয়ার আশ্বাস দিলেও অং সান সু চিকে রাজনীতি থেকে দূরে রাখা এবং তার দল ন্যাশনাল লিগ ফর ডেমোক্রেসি (এনএলডি) বিলুপ্ত ঘোষণার কারণে গণতন্ত্রপন্থীরা বলছেন, পুরো নির্বাচনী প্রক্রিয়াই সেনাবাহিনীর মিত্রদের পক্ষে সাজানো।

নিরাপত্তার কারণে পরিচয় গোপন রেখে ইয়াঙ্গুনের এক বাসিন্দা এএফপিকে বলেন, “এই নির্বাচন থেকে আমার কোনো প্রত্যাশা নেই। আমার ধারণা, পরিস্থিতি আগের মতোই স্থবির থেকে যাবে।”

বিশ্লেষকদের মতে, ‘ইউনিয়ন সলিডারিটি অ্যান্ড ডেভেলপমেন্ট পার্টি’ (ইউএসডিপি) কার্যত সামরিক বাহিনীর নিয়ন্ত্রণাধীন একটি দল, যেখানে সাবেক সেনা কর্মকর্তাদের প্রভাব স্পষ্ট। নির্বাচনের প্রথম দুই ধাপে দলটি নিম্নকক্ষের প্রায় ৮৫ শতাংশ এবং উচ্চকক্ষের প্রায় দুই-তৃতীয়াংশ আসনে জয় পেয়েছে।

এ ছাড়া সেনাবাহিনী প্রণীত সংবিধান অনুযায়ী সংসদের উভয় কক্ষের ২৫ শতাংশ আসন সরাসরি সামরিক বাহিনীর জন্য সংরক্ষিত। নবনির্বাচিত পার্লামেন্ট পরবর্তী রাষ্ট্রপতি নির্বাচন করবে, যেখানে জান্তা প্রধান মিন অং হ্লাইং নিজেও প্রার্থী হতে পারেন বলে ধারণা করা হচ্ছে।

বিশ্লেষকদের অভিমত, এই নির্বাচনের মাধ্যমে জান্তা সরকার নিজেদের শাসনব্যবস্থাকে বেসামরিক রূপ দেওয়ার চেষ্টা করছে। তবে কিছু ভোটার ভিন্নভাবে অসন্তোষ প্রকাশ করছেন। ইয়াঙ্গুনের এক নারী ভোটার জানান, তিনি ইউএসডিপি ছাড়া অন্য যে কোনো দলকে ভোট দেবেন।

তিনি বলেন, “আমি জানি শেষ পর্যন্ত ফল কী হবে। তারপরও আমার ভোট দিয়ে তাদের পরিকল্পনায় সামান্য হলেও বাধা দিতে চাই।”

নির্বাচনের আনুষ্ঠানিক ফল চলতি সপ্তাহের শেষ দিকে প্রকাশিত হওয়ার কথা থাকলেও, সোমবারই ইউএসডিপি তাদের বিজয় ঘোষণা করতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

উল্লেখ্য, ২০২০ সালের নির্বাচনে অং সান সু চির দল এনএলডি বিপুল জয় অর্জন করেছিল। তবে ২০২১ সালের ১ ফেব্রুয়ারি নির্বাচনী অনিয়মের অভিযোগ তুলে সেনাবাহিনী ক্ষমতা দখল করে। বর্তমানে ৮০ বছর বয়সী নোবেলজয়ী নেত্রী অং সান সু চি অজ্ঞাত স্থানে আটক রয়েছেন। মানবাধিকার সংস্থাগুলোর অভিযোগ, তাকে রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত মামলায় বন্দি করে রাখা হয়েছে।