বাংলাদেশ ০৮:০২ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ১৫ ফেব্রুয়ারী ২০২৬, ৩ ফাল্গুন ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

হিন্দু-বৌদ্ধ-খ্রিস্টানসহ সবার জন্য ন্যায়বিচার নিশ্চিতের অঙ্গীকার জামায়াত আমিরের

বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান বলেছেন, হিন্দু, বৌদ্ধ ও খ্রিস্টানসহ সব নাগরিকের জন্য সমান ন্যায়বিচার নিশ্চিত করা হবে। শনিবার (২৪ জানুয়ারি) বিকেলে সিরাজগঞ্জের উল্লাপাড়ায় ১০ দলীয় নির্বাচনি ঐক্যের জনসভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ প্রতিশ্রুতি দেন।

ডা. শফিকুর রহমান বলেন, “আমাদের অবস্থান পরিষ্কার—আমরা দুর্নীতি করব না এবং দুর্নীতি সহ্যও করব না। বাংলাদেশের ৫৬ হাজার বর্গমাইলের কোথাও চাঁদাবাজি চলতে দেওয়া হবে না। মামলাবাজির মাধ্যমে মানুষকে হয়রানি করার সুযোগ আর থাকবে না। বিচার হবে ন্যায়ভিত্তিক—কারো মুখ, ধর্ম, বর্ণ বা প্রভাব দেখে নয়।”

তিনি আরও বলেন, “আমরা অতীতে কখনো চাঁদাবাজি, মামলাবাজি কিংবা কারো সম্মানহানির সঙ্গে জড়াইনি। আমরা কেমন মানুষ, তা বাজে লোকের কাছ থেকে শোনার প্রয়োজন নেই—দেশপ্রেমিক মানুষই আমাদের সাক্ষী। কেউ জাতিকে ওপরে তুলতে চাইলে কিছু লোক পা ধরে টেনে নামায়; তবে জনগণের ভালোবাসা নিয়েই আমরা জাতিকে এগিয়ে নেব, ইনশাআল্লাহ। এই জাতিকে চোরাবালিতে ডুবে যেতে দেব না।”

জামায়াত আমির বলেন, গত ১৫ বছরে ফ্যাসিবাদ মানুষের ওপর ভয়াবহ নির্যাতন চালিয়েছে—অসংখ্য মায়ের কোল খালি করেছে, বোনদের বিধবা করেছে, শিশুদের পিতৃহারা করেছে। তিনি স্পষ্ট করে বলেন, বাংলার মাটিতে সেই ফ্যাসিবাদের প্রত্যাবর্তন তারা চান না।

তিনি প্রশ্ন তুলে বলেন, “স্বাধীনতার ৫৪ বছরে কোনো সরকার কি বুক ফুলিয়ে বলতে পারবে যে তারা দুর্নীতিমুক্ত ছিল? কোনো দল কি দাবি করতে পারবে তারা চাঁদাবাজি করেনি, সুশাসন প্রতিষ্ঠা করেছে, সমাজে ন্যায়বিচার কায়েম করেছে বা বিশ্বমানের শিক্ষা ও স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করেছে?—তারা তা বলতে পারবে না।”

বিগত সরকারের সময় জামায়াতের শীর্ষ নেতৃত্ব ও শহীদ আমীরে জামায়াত সাবেক মন্ত্রী মাওলানা মতিউর রহমান নিযামীর উদাহরণ টেনে ডা. শফিকুর রহমান বলেন, “তার বিরোধীরাও সাহস পায়নি বলতে যে তার মন্ত্রণালয়ে দুর্নীতি বা স্বজনপ্রীতি হয়েছে।”

তিনি অভিযোগ করেন, ফ্যাসিবাদী সরকার অন্যায়ভাবে মাওলানা মতিউর রহমান নিযামীসহ একাধিক শীর্ষ নেতাকে হত্যা করেছে; পাশাপাশি হাজার হাজার মানুষকে হত্যা ও পঙ্গু করা হয়েছে।

ডা. শফিকুর রহমান বলেন, জামায়াতে ইসলামী একটি নির্যাতিত রাজনৈতিক দল। “আমাদের প্রতীক দাঁড়িপাল্লা ইনসাফের প্রতীক। আমাদের অফিস তালাবদ্ধ করা হয়েছে, দল নিষিদ্ধ করা হয়েছে, প্রতীক কেড়ে নেওয়া হয়েছে, নেতাদের ঘরবাড়ি গুঁড়িয়ে দেওয়া হয়েছে—এ ধরনের আচরণ আর কারো সঙ্গে করা হয়নি।” তিনি অভিযোগ করেন, যাদের সঙ্গে এসব হয়নি, তারা পরে চাঁদাবাজি ও মামলাবাণিজ্যে জড়িয়েছে—যা জামায়াতের রাজনৈতিক শিক্ষার সঙ্গে সাংঘর্ষিক।

তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করে বলেন, আল্লাহর রহমত ও জনগণের ভালোবাসায় ভবিষ্যতে ১০ দল দেশ পরিচালনার সুযোগ পাবে।

জামায়াত আমির বলেন, “২০২৪ সালের ৫ আগস্ট আমরা ঘোষণা দিয়েছি—কারো বিরুদ্ধে প্রতিশোধ নেব না। মুক্তি পাওয়ার পর আমরা সেজদায় আল্লাহর শুকরিয়া আদায় করেছি।”

তিনি জানান, জামায়াত নেতাকর্মীরা জনগণের সেবায় মাঠে নেমেছেন—চাঁদাবাজি প্রতিরোধ, বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান পাহারা, দুর্যোগে ত্রাণ বিতরণ, শহীদ পরিবার ও আহতদের পাশে দাঁড়ানোসহ নানা কার্যক্রমে তারা সক্রিয় ভূমিকা রেখেছেন।

জনসভায় আরও বক্তব্য রাখেন জামায়াতে ইসলামীর সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল মাওলানা রফিকুল ইসলাম খান, সিরাজগঞ্জ জেলা জামায়াতের আমীরসহ ১০ দলীয় নির্বাচনি ঐক্যের কেন্দ্রীয় ও স্থানীয় নেতৃবৃন্দ।

হিন্দু-বৌদ্ধ-খ্রিস্টানসহ সবার জন্য ন্যায়বিচার নিশ্চিতের অঙ্গীকার জামায়াত আমিরের

প্রকাশিত: ০৮:৪৬:২৩ অপরাহ্ন, শনিবার, ২৪ জানুয়ারী ২০২৬

বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান বলেছেন, হিন্দু, বৌদ্ধ ও খ্রিস্টানসহ সব নাগরিকের জন্য সমান ন্যায়বিচার নিশ্চিত করা হবে। শনিবার (২৪ জানুয়ারি) বিকেলে সিরাজগঞ্জের উল্লাপাড়ায় ১০ দলীয় নির্বাচনি ঐক্যের জনসভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ প্রতিশ্রুতি দেন।

ডা. শফিকুর রহমান বলেন, “আমাদের অবস্থান পরিষ্কার—আমরা দুর্নীতি করব না এবং দুর্নীতি সহ্যও করব না। বাংলাদেশের ৫৬ হাজার বর্গমাইলের কোথাও চাঁদাবাজি চলতে দেওয়া হবে না। মামলাবাজির মাধ্যমে মানুষকে হয়রানি করার সুযোগ আর থাকবে না। বিচার হবে ন্যায়ভিত্তিক—কারো মুখ, ধর্ম, বর্ণ বা প্রভাব দেখে নয়।”

তিনি আরও বলেন, “আমরা অতীতে কখনো চাঁদাবাজি, মামলাবাজি কিংবা কারো সম্মানহানির সঙ্গে জড়াইনি। আমরা কেমন মানুষ, তা বাজে লোকের কাছ থেকে শোনার প্রয়োজন নেই—দেশপ্রেমিক মানুষই আমাদের সাক্ষী। কেউ জাতিকে ওপরে তুলতে চাইলে কিছু লোক পা ধরে টেনে নামায়; তবে জনগণের ভালোবাসা নিয়েই আমরা জাতিকে এগিয়ে নেব, ইনশাআল্লাহ। এই জাতিকে চোরাবালিতে ডুবে যেতে দেব না।”

জামায়াত আমির বলেন, গত ১৫ বছরে ফ্যাসিবাদ মানুষের ওপর ভয়াবহ নির্যাতন চালিয়েছে—অসংখ্য মায়ের কোল খালি করেছে, বোনদের বিধবা করেছে, শিশুদের পিতৃহারা করেছে। তিনি স্পষ্ট করে বলেন, বাংলার মাটিতে সেই ফ্যাসিবাদের প্রত্যাবর্তন তারা চান না।

তিনি প্রশ্ন তুলে বলেন, “স্বাধীনতার ৫৪ বছরে কোনো সরকার কি বুক ফুলিয়ে বলতে পারবে যে তারা দুর্নীতিমুক্ত ছিল? কোনো দল কি দাবি করতে পারবে তারা চাঁদাবাজি করেনি, সুশাসন প্রতিষ্ঠা করেছে, সমাজে ন্যায়বিচার কায়েম করেছে বা বিশ্বমানের শিক্ষা ও স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করেছে?—তারা তা বলতে পারবে না।”

বিগত সরকারের সময় জামায়াতের শীর্ষ নেতৃত্ব ও শহীদ আমীরে জামায়াত সাবেক মন্ত্রী মাওলানা মতিউর রহমান নিযামীর উদাহরণ টেনে ডা. শফিকুর রহমান বলেন, “তার বিরোধীরাও সাহস পায়নি বলতে যে তার মন্ত্রণালয়ে দুর্নীতি বা স্বজনপ্রীতি হয়েছে।”

তিনি অভিযোগ করেন, ফ্যাসিবাদী সরকার অন্যায়ভাবে মাওলানা মতিউর রহমান নিযামীসহ একাধিক শীর্ষ নেতাকে হত্যা করেছে; পাশাপাশি হাজার হাজার মানুষকে হত্যা ও পঙ্গু করা হয়েছে।

ডা. শফিকুর রহমান বলেন, জামায়াতে ইসলামী একটি নির্যাতিত রাজনৈতিক দল। “আমাদের প্রতীক দাঁড়িপাল্লা ইনসাফের প্রতীক। আমাদের অফিস তালাবদ্ধ করা হয়েছে, দল নিষিদ্ধ করা হয়েছে, প্রতীক কেড়ে নেওয়া হয়েছে, নেতাদের ঘরবাড়ি গুঁড়িয়ে দেওয়া হয়েছে—এ ধরনের আচরণ আর কারো সঙ্গে করা হয়নি।” তিনি অভিযোগ করেন, যাদের সঙ্গে এসব হয়নি, তারা পরে চাঁদাবাজি ও মামলাবাণিজ্যে জড়িয়েছে—যা জামায়াতের রাজনৈতিক শিক্ষার সঙ্গে সাংঘর্ষিক।

তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করে বলেন, আল্লাহর রহমত ও জনগণের ভালোবাসায় ভবিষ্যতে ১০ দল দেশ পরিচালনার সুযোগ পাবে।

জামায়াত আমির বলেন, “২০২৪ সালের ৫ আগস্ট আমরা ঘোষণা দিয়েছি—কারো বিরুদ্ধে প্রতিশোধ নেব না। মুক্তি পাওয়ার পর আমরা সেজদায় আল্লাহর শুকরিয়া আদায় করেছি।”

তিনি জানান, জামায়াত নেতাকর্মীরা জনগণের সেবায় মাঠে নেমেছেন—চাঁদাবাজি প্রতিরোধ, বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান পাহারা, দুর্যোগে ত্রাণ বিতরণ, শহীদ পরিবার ও আহতদের পাশে দাঁড়ানোসহ নানা কার্যক্রমে তারা সক্রিয় ভূমিকা রেখেছেন।

জনসভায় আরও বক্তব্য রাখেন জামায়াতে ইসলামীর সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল মাওলানা রফিকুল ইসলাম খান, সিরাজগঞ্জ জেলা জামায়াতের আমীরসহ ১০ দলীয় নির্বাচনি ঐক্যের কেন্দ্রীয় ও স্থানীয় নেতৃবৃন্দ।