বাংলাদেশ ০৬:১০ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ১৫ ফেব্রুয়ারী ২০২৬, ৩ ফাল্গুন ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

স্ত্রীকে কুপ্রস্তাবের ঘটনায় প্রতিবেশীকে হত্যা, ১৯ মাস পর উদ্ধার কঙ্কাল

নওগাঁর আত্রাই উপজেলায় নিখোঁজ হওয়ার প্রায় ১৯ মাস পর সুমন হোসেন (৩৯) নামে এক ব্যক্তির কঙ্কাল উদ্ধার করেছে পুলিশ। শুক্রবার (২৩ জানুয়ারি) বিকেলে উপজেলার কয়শা গ্রামের একটি ডোবার পানি সেচে এবং মাটি খুঁড়ে তার বিচ্ছিন্ন অস্থি উদ্ধার করা হয়।

নওগাঁর পুলিশ সুপার মোহাম্মদ তারিকুল ইসলাম জানান, ২০২৪ সালের ২০ জুন রাত আনুমানিক সাড়ে ১১টার দিকে কয়শা গ্রামের শাহাদত হোসেনের ছেলে সুমন হোসেন বাড়ি থেকে বের হয়ে আর ফিরে আসেননি। দুই দিন পর তার পরিবার আত্রাই থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করেন।

এরপর পরিবারের সদস্যরা বাড়ির পাশে পড়ে থাকা একটি ইটের টুকরায় রক্তের দাগ দেখতে পেয়ে পুলিশকে বিষয়টি জানান। ডিএনএ পরীক্ষায় ওই রক্ত সুমনের বলে শনাক্ত হয়। পরে গত ১৫ নভেম্বর সুমনের স্ত্রী বাদী হয়ে আত্রাই থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন। তবে মামলার প্রায় দুই মাস পেরিয়ে গেলেও তদন্তে উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি হয়নি।

পুলিশ সুপার আরও জানান, সম্প্রতি সুমনের পরিবারের সদস্যরা নতুন কিছু তথ্য নিয়ে তার সঙ্গে সাক্ষাৎ করলে মামলাটি নতুনভাবে তদন্তের নির্দেশ দেওয়া হয়। তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তায় এক সন্দেহভাজনকে চিহ্নিত করে জিজ্ঞাসাবাদ করলে তিনি হত্যাকাণ্ডে জড়িত থাকার কথা স্বীকার করেন।

স্বীকারোক্তিতে অভিযুক্ত জানান, সুমন তার স্ত্রীকে কুপ্রস্তাব দেন এবং হাত ধরে টানাটানি করেন। এতে ক্ষুব্ধ হয়ে ২০২৪ সালের ২২ জুন রাত আনুমানিক ১২টার দিকে তাকে বাড়ি থেকে ডেকে নেন। পরে ছোট ভাইয়ের সহায়তায় গ্রামের একটি নির্জন স্থানে নিয়ে গিয়ে ইট দিয়ে মাথায় আঘাত করে তাকে হত্যা করা হয়। হত্যার পর দুই ভাই মিলে মরদেহ পাশের একটি শুকনো ডোবায় মাটিচাপা দেন। অভিযুক্তের ছোট ভাই কয়েক মাস আগে আত্মহত্যা করেছেন বলেও জানান পুলিশ সুপার।

শুক্রবার বিকেলে গ্রেপ্তার হওয়া আসামির দেওয়া তথ্যমতে কয়শা গ্রামের রমজানের পুকুরসংলগ্ন একটি ডোবার পানি সেচে নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটের উপস্থিতিতে পুলিশ সুমনের কঙ্কাল উদ্ধার করে।

আত্রাই থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আব্দুল করিম বলেন, হত্যার পর অভিযুক্ত সুমনের মোবাইল ফোন নিজের কাছে রেখে সেটি বন্ধ করে দেন। পরে ফোনটি চালু করে ব্যবহার শুরু করলে প্রযুক্তিগত সূত্র ধরে তাকে শনাক্ত ও গ্রেপ্তার করা হয়। তার দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতেই কঙ্কাল উদ্ধার সম্ভব হয়েছে।

তিনি আরও জানান, উদ্ধার করা হাড়গোড় বর্তমানে থানায় সংরক্ষিত রয়েছে এবং ময়নাতদন্ত ও ফরেনসিক পরীক্ষার জন্য ঢাকায় পাঠানো হবে।

স্ত্রীকে কুপ্রস্তাবের ঘটনায় প্রতিবেশীকে হত্যা, ১৯ মাস পর উদ্ধার কঙ্কাল

প্রকাশিত: ১১:১৮:০৭ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ২৪ জানুয়ারী ২০২৬

নওগাঁর আত্রাই উপজেলায় নিখোঁজ হওয়ার প্রায় ১৯ মাস পর সুমন হোসেন (৩৯) নামে এক ব্যক্তির কঙ্কাল উদ্ধার করেছে পুলিশ। শুক্রবার (২৩ জানুয়ারি) বিকেলে উপজেলার কয়শা গ্রামের একটি ডোবার পানি সেচে এবং মাটি খুঁড়ে তার বিচ্ছিন্ন অস্থি উদ্ধার করা হয়।

নওগাঁর পুলিশ সুপার মোহাম্মদ তারিকুল ইসলাম জানান, ২০২৪ সালের ২০ জুন রাত আনুমানিক সাড়ে ১১টার দিকে কয়শা গ্রামের শাহাদত হোসেনের ছেলে সুমন হোসেন বাড়ি থেকে বের হয়ে আর ফিরে আসেননি। দুই দিন পর তার পরিবার আত্রাই থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করেন।

এরপর পরিবারের সদস্যরা বাড়ির পাশে পড়ে থাকা একটি ইটের টুকরায় রক্তের দাগ দেখতে পেয়ে পুলিশকে বিষয়টি জানান। ডিএনএ পরীক্ষায় ওই রক্ত সুমনের বলে শনাক্ত হয়। পরে গত ১৫ নভেম্বর সুমনের স্ত্রী বাদী হয়ে আত্রাই থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন। তবে মামলার প্রায় দুই মাস পেরিয়ে গেলেও তদন্তে উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি হয়নি।

পুলিশ সুপার আরও জানান, সম্প্রতি সুমনের পরিবারের সদস্যরা নতুন কিছু তথ্য নিয়ে তার সঙ্গে সাক্ষাৎ করলে মামলাটি নতুনভাবে তদন্তের নির্দেশ দেওয়া হয়। তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তায় এক সন্দেহভাজনকে চিহ্নিত করে জিজ্ঞাসাবাদ করলে তিনি হত্যাকাণ্ডে জড়িত থাকার কথা স্বীকার করেন।

স্বীকারোক্তিতে অভিযুক্ত জানান, সুমন তার স্ত্রীকে কুপ্রস্তাব দেন এবং হাত ধরে টানাটানি করেন। এতে ক্ষুব্ধ হয়ে ২০২৪ সালের ২২ জুন রাত আনুমানিক ১২টার দিকে তাকে বাড়ি থেকে ডেকে নেন। পরে ছোট ভাইয়ের সহায়তায় গ্রামের একটি নির্জন স্থানে নিয়ে গিয়ে ইট দিয়ে মাথায় আঘাত করে তাকে হত্যা করা হয়। হত্যার পর দুই ভাই মিলে মরদেহ পাশের একটি শুকনো ডোবায় মাটিচাপা দেন। অভিযুক্তের ছোট ভাই কয়েক মাস আগে আত্মহত্যা করেছেন বলেও জানান পুলিশ সুপার।

শুক্রবার বিকেলে গ্রেপ্তার হওয়া আসামির দেওয়া তথ্যমতে কয়শা গ্রামের রমজানের পুকুরসংলগ্ন একটি ডোবার পানি সেচে নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটের উপস্থিতিতে পুলিশ সুমনের কঙ্কাল উদ্ধার করে।

আত্রাই থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আব্দুল করিম বলেন, হত্যার পর অভিযুক্ত সুমনের মোবাইল ফোন নিজের কাছে রেখে সেটি বন্ধ করে দেন। পরে ফোনটি চালু করে ব্যবহার শুরু করলে প্রযুক্তিগত সূত্র ধরে তাকে শনাক্ত ও গ্রেপ্তার করা হয়। তার দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতেই কঙ্কাল উদ্ধার সম্ভব হয়েছে।

তিনি আরও জানান, উদ্ধার করা হাড়গোড় বর্তমানে থানায় সংরক্ষিত রয়েছে এবং ময়নাতদন্ত ও ফরেনসিক পরীক্ষার জন্য ঢাকায় পাঠানো হবে।