বাংলাদেশ ০৩:১০ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ০২ এপ্রিল ২০২৬, ১৮ চৈত্র ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

জুলাইয়ের নেপথ্য নায়ক বিএনপি, জুলাইয়ের ভয় দেখাবেন না, রাস্তায় নামলে টের পাবেন: বাচ্চু

মৌলভীবাজারের কুলাউড়া উপজেলার ১০ নং হাজীপুর ইউনিয়ন পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান ও বিএনপি নেতা আব্দুল বাছিত বাচ্চুর একটি ফেসবুক পোস্ট নিয়ে রাজনৈতিক অঙ্গনে তোলপাড় সৃষ্টি হয়েছে।

বুধবার (১ এপ্রিল) নিজের ব্যক্তিগত ফেসবুক আইডিতে দেওয়া এক স্ট্যাটাসে তিনি জুলাই অভ্যুত্থানের একক কৃতিত্ব দাবি করে হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করেন।

বুধবার দেওয়া ওই পোস্টে আব্দুল বাছিত বাচ্চু লেখেন, “চান্দুরা বিএনপি আওয়ামী লীগ না! জুলাইয়ের জন্মদান বাস্তবায়ন সবকিছুতে নেপথ্য নায়ক বিএনপি। জুলাইয়ের ভয় দেখাবেন না! রাস্তায় নামলে টের পাবেন।”

তার এই মন্তব্য সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে স্থানীয়দের মধ্যে মিশ্র প্রতিক্রিয়া দেখা দিয়েছে। অনেকে একে জুলাইয়ের ছাত্র-জনতার গণঅভ্যুত্থানের মূল চেতনাকে প্রশ্নবিদ্ধ করার অপচেষ্টা হিসেবে দেখছেন।

খোঁজ নিয়ে জানা যায়, আব্দুল বাছিত বাচ্চু ১০ নং হাজীপুর ইউনিয়ন পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান এবং সাবেক ইউনিয়ন বিএনপির একজন সদস্য। তবে এটিই তার প্রথম কোনো আজগুবি বা বিতর্কিত মন্তব্য নয়। ক’দিন আগে আলুর কেজি যখন ২৫ টাকা ছিল, তখনও তিনি ফেসবুকে “আলুর কেজি ১৩ টাকা” হওয়ার মতো ভিত্তিহীন ও অবাস্তব কথাবার্তা মন্তব্য করে ব্যাপক হাস্যরসের খোরাক হয়েছিলেন।

স্থানীয় সচেতন মহলের মতে, বিভিন্ন সময়ে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে এমন বিভ্রান্তিকর তথ্য ও উস্কানিমূলক পোস্ট দেওয়া তার পুরোনো অভ্যাস। বিশেষ করে জুলাইয়ের জনবিস্ফোরণকে একটি নির্দিষ্ট দলের একক কৃতিত্ব হিসেবে দাবি করার বিষয়টি নিয়ে জনমনে ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে।

এবিষয়ে আব্দুল বাছিত বাচ্চু বলেন, “আমি যাদেরকে মিন করে পোস্ট দিয়েছি, তারা অলরেডি বুঝেছে। আমি তাদেরকেই বলেছি, যারা বলতেছে জুলাই করে বিএনপিকে ক্ষমতা থেকে নামাবে। বিএনপির একজন কর্মী হিসেবে এবং জুলাই যুদ্ধা হিসেবে এটা আমার অপিনিয়ন। আমরা বিএনপিই এই আন্দোলনের নেপথ্যে ছিলাম।” একইসাথে আরও প্রশ্ন করলে কোনো উত্তর না দিয়েই ফোন কেটে দেন তিনি।

১০ নং হাজীপুর ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি মো: ইয়াকুব আলী বলেন, ” উনি জুলাই অভ্যুত্থানে ছিলেন না, উনি ১৮’ তে ছিলেন আওয়ামিলীগের দোসর। উনি নৌকা ও আওয়ামিলীগের সাথে ছিলেন। বিএনপি করলেও উনাকে আমাদের লোক বলে আমরা স্বীকার করিনা। এই জুলাই আন্দোলনে এনসিপি, বিএনপি, জামায়াত সবাই ছিল। কাউকে অস্বীকার করার কোনো সুযোগ নাই। সবার সহযোগিতায় এই জুলাই আন্দোলন সফল হয়েছে। আব্দুল বাছিত বাচ্চু কোন সময় কোন দলে থাকেন উনি নিজেই বলতে পারেন না। উনি কোন সময় কি কথা বলে তার ঠিক নাই তবে উনার কথা আমরা ডিনাই করলাম, এটা বিএনপির কথাবার্তা না।

তিনি বলেন, দ্বিচারিতা করার কারণে বাচ্চু সাহেবকে দল থেকে বহিষ্কার করা হয়েছিল, ২০২৪ এর আগষ্টের পরে তাকে আর আমরা কমিটিতে নেইনি। তবে জেলা থেকে বলা হয়েছিল এই নির্বাচনে যাতে উনি বিএনপির জন্য কাজ করেন।”

জানা যায়, আব্দুল বাছিত বাচ্চু কুলাউড়া উপজেলা বিএনপির প্রাক্তন প্রচার ও প্রকাশনা সম্পাদক ছিলেন (২০০২-২০০৪), হাজীপুর ইউনিয়ন বিএনপির সাবেক সদস্য সচিব ছিলেন (২০১০-২০১৬ পর্যন্ত) এবং মৌলভীবাজার সরকারি কলেজ ও এমসি কলেজ ছাত্রদলের সক্রিয় কর্মী ছিলেন। তাছাড়া বহিষ্কারাদেশ প্রত্যাহারের জন্য গেল নির্বাচনের আগে তিনি আবেদনও করেছেন।

জুলাইয়ের নেপথ্য নায়ক বিএনপি, জুলাইয়ের ভয় দেখাবেন না, রাস্তায় নামলে টের পাবেন: বাচ্চু

প্রকাশিত: ০৩:৫৯:০০ অপরাহ্ন, বুধবার, ১ এপ্রিল ২০২৬

মৌলভীবাজারের কুলাউড়া উপজেলার ১০ নং হাজীপুর ইউনিয়ন পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান ও বিএনপি নেতা আব্দুল বাছিত বাচ্চুর একটি ফেসবুক পোস্ট নিয়ে রাজনৈতিক অঙ্গনে তোলপাড় সৃষ্টি হয়েছে।

বুধবার (১ এপ্রিল) নিজের ব্যক্তিগত ফেসবুক আইডিতে দেওয়া এক স্ট্যাটাসে তিনি জুলাই অভ্যুত্থানের একক কৃতিত্ব দাবি করে হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করেন।

বুধবার দেওয়া ওই পোস্টে আব্দুল বাছিত বাচ্চু লেখেন, “চান্দুরা বিএনপি আওয়ামী লীগ না! জুলাইয়ের জন্মদান বাস্তবায়ন সবকিছুতে নেপথ্য নায়ক বিএনপি। জুলাইয়ের ভয় দেখাবেন না! রাস্তায় নামলে টের পাবেন।”

তার এই মন্তব্য সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে স্থানীয়দের মধ্যে মিশ্র প্রতিক্রিয়া দেখা দিয়েছে। অনেকে একে জুলাইয়ের ছাত্র-জনতার গণঅভ্যুত্থানের মূল চেতনাকে প্রশ্নবিদ্ধ করার অপচেষ্টা হিসেবে দেখছেন।

খোঁজ নিয়ে জানা যায়, আব্দুল বাছিত বাচ্চু ১০ নং হাজীপুর ইউনিয়ন পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান এবং সাবেক ইউনিয়ন বিএনপির একজন সদস্য। তবে এটিই তার প্রথম কোনো আজগুবি বা বিতর্কিত মন্তব্য নয়। ক’দিন আগে আলুর কেজি যখন ২৫ টাকা ছিল, তখনও তিনি ফেসবুকে “আলুর কেজি ১৩ টাকা” হওয়ার মতো ভিত্তিহীন ও অবাস্তব কথাবার্তা মন্তব্য করে ব্যাপক হাস্যরসের খোরাক হয়েছিলেন।

স্থানীয় সচেতন মহলের মতে, বিভিন্ন সময়ে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে এমন বিভ্রান্তিকর তথ্য ও উস্কানিমূলক পোস্ট দেওয়া তার পুরোনো অভ্যাস। বিশেষ করে জুলাইয়ের জনবিস্ফোরণকে একটি নির্দিষ্ট দলের একক কৃতিত্ব হিসেবে দাবি করার বিষয়টি নিয়ে জনমনে ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে।

এবিষয়ে আব্দুল বাছিত বাচ্চু বলেন, “আমি যাদেরকে মিন করে পোস্ট দিয়েছি, তারা অলরেডি বুঝেছে। আমি তাদেরকেই বলেছি, যারা বলতেছে জুলাই করে বিএনপিকে ক্ষমতা থেকে নামাবে। বিএনপির একজন কর্মী হিসেবে এবং জুলাই যুদ্ধা হিসেবে এটা আমার অপিনিয়ন। আমরা বিএনপিই এই আন্দোলনের নেপথ্যে ছিলাম।” একইসাথে আরও প্রশ্ন করলে কোনো উত্তর না দিয়েই ফোন কেটে দেন তিনি।

১০ নং হাজীপুর ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি মো: ইয়াকুব আলী বলেন, ” উনি জুলাই অভ্যুত্থানে ছিলেন না, উনি ১৮’ তে ছিলেন আওয়ামিলীগের দোসর। উনি নৌকা ও আওয়ামিলীগের সাথে ছিলেন। বিএনপি করলেও উনাকে আমাদের লোক বলে আমরা স্বীকার করিনা। এই জুলাই আন্দোলনে এনসিপি, বিএনপি, জামায়াত সবাই ছিল। কাউকে অস্বীকার করার কোনো সুযোগ নাই। সবার সহযোগিতায় এই জুলাই আন্দোলন সফল হয়েছে। আব্দুল বাছিত বাচ্চু কোন সময় কোন দলে থাকেন উনি নিজেই বলতে পারেন না। উনি কোন সময় কি কথা বলে তার ঠিক নাই তবে উনার কথা আমরা ডিনাই করলাম, এটা বিএনপির কথাবার্তা না।

তিনি বলেন, দ্বিচারিতা করার কারণে বাচ্চু সাহেবকে দল থেকে বহিষ্কার করা হয়েছিল, ২০২৪ এর আগষ্টের পরে তাকে আর আমরা কমিটিতে নেইনি। তবে জেলা থেকে বলা হয়েছিল এই নির্বাচনে যাতে উনি বিএনপির জন্য কাজ করেন।”

জানা যায়, আব্দুল বাছিত বাচ্চু কুলাউড়া উপজেলা বিএনপির প্রাক্তন প্রচার ও প্রকাশনা সম্পাদক ছিলেন (২০০২-২০০৪), হাজীপুর ইউনিয়ন বিএনপির সাবেক সদস্য সচিব ছিলেন (২০১০-২০১৬ পর্যন্ত) এবং মৌলভীবাজার সরকারি কলেজ ও এমসি কলেজ ছাত্রদলের সক্রিয় কর্মী ছিলেন। তাছাড়া বহিষ্কারাদেশ প্রত্যাহারের জন্য গেল নির্বাচনের আগে তিনি আবেদনও করেছেন।