মৌলভীবাজার জেলা পরিষদের সদ্য দায়িত্বপ্রাপ্ত প্রশাসক ও জেলা বিএনপির সাবেক সাধারণ সম্পাদক মো. মিজানুর রহমান মিজান বলেছেন, “আমার মূলত রাজনীতি শুরু এম সাইফুর রহমান স্যারের হাত ধরে। ছাত্রদলের কেন্দ্রীয় রাজনীতিতে পদার্পণও করেছিলাম তাঁর হাত ধরেই।”
মঙ্গলবার (১৭ মার্চ) বিকেলে সদর উপজেলার বাহামর্দানে সাবেক অর্থ ও পরিকল্পনা মন্ত্রী মরহুম এম সাইফুর রহমানের গ্রামের বাড়িতে কবর জিয়ারত শেষে তিনি এসব কথা বলেন। এ সময় তিনি প্রয়াত এই বর্ষীয়ান নেতার স্মৃতিচারণ করেন এবং তাঁর প্রতি গভীর শ্রদ্ধা জানান। এর আগে তিনি মৌলভীবাজার জেলা পরিষদের প্রশাসক হিসেবে মনোনীত হওয়ায় মরহুম এম সাইফুর রহমান এর কবরে ফুল দিয়ে শ্রদ্ধা নিবেদন করেন এবং তাঁর আত্মার মাগফিরাত কামনায় বিশেষ দোয়া ও মোনাজাতে অংশ নেন।
এছাড়া বিএনপি ও এর অঙ্গ সহযোগী সংগঠনের বিভিন্ন পর্যায়ের নেতাকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন এবং মরহুম নেতার স্মৃতির প্রতি গভীর শ্রদ্ধা জানান।
মিজানুর রহমান মিজান বলেন, “আজকে আমি জেলা পরিষদের প্রশাসক হিসেবে দায়িত্ব পাওয়ার পর প্রথমত আমরা এসেছি আমাদের প্রিয় নেতা বিএনপির জাতীয় স্থায়ী কমিটির দীর্ঘকালীন সদস্য, এদেশের সর্বজন শ্রদ্ধেয় নেতা, সাবেক অর্থ ও পরিকল্পনা মন্ত্রী, সারা বাংলাদেশের উন্নয়নের রূপকার মরহুম এম সাইফুর রহমান সাহেবের কবর জিয়ারত করতে।”
তিনি আরও বলেন, “আমার মূলত রাজনীতি শুরু এম সাইফুর রহমান স্যারের হাত ধরে। উনি আমাকে অত্যন্ত স্নেহ করতেন। উনি জীবিত থাকাবস্থায়ই আমার ছাত্রদলের রাজনীতির প্রায় পরিসমাপ্তি ঘটে। কেন্দ্রীয় রাজনীতির পদার্পণও করেছিলাম ছাত্রদলের উনার হাত ধরেই, উনার সহযোগিতার মধ্য দিয়ে। আমি উনাকে আজকে শ্রদ্ধার সাথে স্মরণ করি।”
মিজান বলেন, “মহান আল্লাহ তাআলার কাছে আজকে এসেছি যে মহান ব্যক্তির কবর জিয়ারত করতে। এই সাইফুর রহমানের দ্বারাই আমার ছাত্রদলের রাজনীতিতে পরিচিতি ঘটে সারা বাংলাদেশে তথা মৌলভীবাজারে। সেই সময়েও আমার তৃণমূলে যে বেইজ সৃষ্টি হয়েছিল, তা সাইফুর রহমানের হাত ধরেই।” বিগত দিনে সদর উপজেলার চেয়ারম্যান ছিলাম।
তিনি আরও বলেন, “আজকে মহান আল্লাহ তাআলার কাছে দোয়া করি, আল্লাহ যেন উনাকে জান্নাতুল ফেরদৌস নসীব করেন। পাশাপাশি উনার বেগম দূররে সামাদ রহমান, উনার স্ত্রী সহধর্মিণী অত্যন্ত একজন ভালো মহিলা ছিলেন। আমাকে অত্যন্ত স্নেহ করতেন, নিজের সন্তানের মতো মায়া করতেন। আমরা উনার জন্যও দোয়া করি।”
তিনি বলেন, “পাশাপাশি এখানে অনেকেই শায়িত আছেন, আমাদের আত্মীয়-স্বজন। সবার জন্য আমরা দোয়া করি, আল্লাহ যেন তাদেরকে মাফ করে জান্নাতুল ফেরদৌস নসীব করেন।”
জেলা পরিষদ প্রশাসক মিজান বলেন, “আমরা সবার দোয়া চাই। এ এলাকারসহ সমস্ত দেশের মানুষের কাছে দোয়া চাই, যাতে সুন্দরভাবে প্রশাসন চালাতে পারি, জেলা পরিষদের কার্যক্রম পরিচালনা করতে পারি এবং মানুষের চাহিদা বাস্তবায়ন করতে পারি।”
কবর জিয়ারতকালে উপস্থিত ছিলেন মৌলভীবাজার-৩ আসনের সংসদ সদস্য ও বিএনপির জাতীয় নির্বাহী কমিটির সদস্য এম নাসের রহমান।
কবর জিয়ারতে দলীয় নেতৃবৃন্দের মধ্যে আরও উপস্থিত ছিলেন -জেলা বিএনপির আহ্বায়ক কমিটির সদস্য আলহাজ মো. আব্দুল মুকিত, জেলা বিএনপির সদস্য মোশারফ হোসেন বাদশা, বকশি মিছবাহ উর রহমান, মো. হেলু মিয়া, মতিন বকস, মুহিতুর রহমান হেলাল, মাহমুদুর রহমান, অ্যাডভোকেট বকশী জুবায়ের, জেলা বিএনপির সাবেক সহ-সভাপতি মো. বদরুল আলম, সদর উপজেলা বিএনপির সভাপতি ও জেলা বিএনপির সদস্য মুজিবর রহমান মজনু, জেলা বিএনপির সদস্য সেলিম সালাউদ্দিন, আনিসুজ্জামান বায়েছ, পৌর বিএনপির ভারপ্রাপ্ত সভাপতি সওরয়ার মজুমদার ইমন, সাধারণ সম্পাদক মনোয়ার আহমেদ রহমান, জেলা যুবদলের সাধারণ সম্পাদক এমএ মুহিত, জেলা স্বেচ্ছাসেবক দলের সদস্য সচিব আহমেদ আহাদ, জেলা ছাত্রদলের সভাপতি রুবেল মিয়া, জেলা স্বেচ্ছাসেবক দলের যুগ্ম আহ্বায়ক আব্দুল হান্নান, জেলা যুবদলের যুগ্ম সম্পাদক জিল্লুর রহমান জিলু ও আলীম হোসেন মীরু, সাংগঠনিক সম্পাদক হাফেজ আহমেদ মাহফুজ, কানাডা বিএনপির নেতা সুহেলুজ্জামান খান, জেলা ছাত্রদলের সহ-সভাপতি মাজহারুল ইসলাম রকি, ইসহাক আহমেদ রাহিনসহ অনেকে।















