মৌলভীবাজার-৩ আসনের সংসদ সদস্য ও বিএনপির জাতীয় নির্বাহী কমিটির সদস্য এম নাসের রহমান বলেছেন, জনগণের নির্বাচিত প্রতিনিধি হিসেবে সংসদ সদস্যরা যদি কোনো অভিযোগ করেন, প্রশাসনের উচিত তা গুরুত্ব দিয়ে দেখা।
রোববার (৮ মার্চ) দুপুরে মৌলভীবাজার জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের সম্মেলন কক্ষে নবগঠিত জেলা আইন-শৃঙ্খলা কমিটির প্রথম সভায় তিনি একথা বলেন।
সভায় সভাপতিত্ব করেন জেলার জেলা প্রশাসক ও জেলা ম্যাজিস্ট্রেট তৌহিদুজ্জামান পাভেল।
সভায় জেলার সার্বিক আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি, জননিরাপত্তা জোরদার, মাদক ও অপরাধ প্রতিরোধ, ট্রাফিক ব্যবস্থাপনা, অবৈধ ভাবে বালু উত্তোলন, কিশোর গ্যাং, বাজার মনিটরিংসহ বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে বিস্তারিত আলোচনা করা হয়।
প্রশাসনের কর্মকর্তাদের উদ্দেশ্যে নাসের রহমান বলেন—
“জনগণের নির্বাচিত প্রতিনিধি হিসেবে এমপি যদি কমপ্লেইন করেন সেটা যেনো সাথে সাথে দেখেন। নিশ্চয়ই এমপি গণ অন্যায়ভাবে কোনো কমপ্লেইন দিবেন না।”
সভায় তিনি প্রশাসনকে মাদক ও কিশোর গ্যাং দমনে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশনা দেন। একই সঙ্গে শহরগুলোতে অবৈধ পার্কিংয়ের কারণে সৃষ্ট যানজট নিরসনে কার্যকর উদ্যোগ নেওয়ার তাগিদ দেন।
তিনি বলেন, “শহরের যানজটের মূল কারণ রাস্তার সংকট নয়, বরং ব্যবস্থাপনার ঘাটতি। আমরা রাজনৈতিক পরিচয়ে মানুষকে সচেতন করতে পারব। কিন্তু কাজের দায়িত্বটা আপনাদের নিতে হবে। আমি আশা করব আপনারা এখন থেকে আরও কঠোর হবেন।”
সভায় মৌলভীবাজার-১ (বড়লেখা- জুড়ী) আসনের সংসদ সদস্য নাসির উদ্দীন মিঠু বলেন—
“আমাদের সরকার এখন রাস্ট্র ক্ষমতায় সে হিসেবে আমরা প্রশাসন সহ সবাই কে সহযোগিতা করতে চাই। আমরা যেন সুন্দর ভাবে সমাজ রাষ্ট্র কে গড়তে পারি। আজকে আমরা চারজন জনপ্রতিনিধি এখানে উপস্থিত হয়েছি আমাদের সিনিয়র, আমাদের মুরব্বি সদরের মাননীয় এমপি মহোদয়ের নেতৃত্বে একথাটি বলতে চাই, আপনারা প্রশাসনিকভাবে সারা জেলা কে শান্ত করার জন্য যথাযথ ব্যবস্থা নেন আমরা এম নাসের রহমান সাহেবের নেতৃত্বে চারজন এমপি আপনাদের সাথে একাত্মতা ঘোষণা করে আমরা আমাদের অবস্থান থেকে সহযোগিতা করে যাবো।
মিঠু বলেন- রাজনীতিবিদদের ভাষা কিন্তু ব্যুরোক্রেটসরা কোন কোন সময় বুঝেন আবার কোন কোন সময় মনে হয় রাজনীতিবিদদের কথার ভাষা পুলিশ প্রশাসন বুঝেন না। আমাদের কথা গুলো আপনারা অনুধাবন করবেন।”
নিজের ব্যক্তিগত বিষয় তুলে ধরে তিনি বলেন—
“১২ ফেব্রুয়ারি আমরা নির্বাচন করেছি, ২০১৮ সালেও নির্বাচন করেছিলাম সেই প্রতিকূল অবস্থায়ও আমাকে বিপুল ভোট দিয়েছিল। কিন্তু দুঃখের বিষয় ১২ ফেব্রুয়ারী এই নির্বাচনের ঠিক আগের দিন ষড়যন্ত্র করে বড়লেখা থানায় আমার নামে একটা মামলা করা হয়েছিল। এ বিষয়টি আমি কিন্তু আমার কলিগদেরকেও বলি নাই। বিষয়টা আমি নাসের রহমান সাহেব কেও বলি নাই। আমার নামে একমাত্র আসামী করে একটা মামলা করা হয়েছে এবং মামলা টি এফআইআরও করা হয়েছে ১২ তারিখ নির্বাচন ১১ তারিখ রাত্রে।
এফআইআর করার পরে এটা এমনভাবে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়ানো হয়েছে যে প্রার্থী তার নিজের অস্তিত্বই টিকিয়ে রাখতে পারছে না। আমার বিরুদ্ধে এ অবিচারটি কেন করা হল বলে তিনি জানতে চান।”
মৌলভীবাজার-২ (কুলাউড়া) আসনের সংসদ সদস্য শওকতুল ইসলাম শকু বলেন—
“কুলাউড়া উপজেলা প্রশাসন আমার সাথে সহযোগিতা করছেন আমরা সুন্দর ভাবে কাজ করতে পারছি। থানা পুলিশ প্রশাসন যেভাবে পরিবর্তন হওয়ার কথা ছিল সেই ভাবে পরিবর্তন হয়নি। ৫ আগস্টের যে থানা প্রশাসন আমরা দেখেছি যে অসহায়ত্ব দেখেছি পুলিশ প্রশাসনের। সতেরো বছরের যে দোসরা ছিল তাদের সময়কার যে পুলিশের অবস্থান ছিল আমি মনে করি সেটাতে না গেলেও কাছাকাছি আছে। যতো সম্ভব থানায় আড্ডা থানায় বিচার থানায় বসে থাকা এসব নতুন বাংলাদেশে আর থাকবে না। আমার কারো বিরুদ্ধে কোনো অভিযোগ নেই। তবে যতো সম্ভব এ অবস্থা থেকে যতো দ্রুত সম্ভব পরিবর্তন করা দরকার।”
মৌলভীবাজার-৪ (শ্রীমঙ্গল- কমলগঞ্জ) আসনের সংসদ সদস্য মো. মুজিবুর রহমান চৌধুরী বলেন—
“চোরাচালান নিয়ে বিশাল বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে আমার শ্রীমঙ্গলে। সিন্দুরখান ইউনিয়নের সীমান্ত দিয়ে। এটা একদল আনে আরেক দল টানিয়া নিয়ে যায় এটা নিয়ে দ্বন্দ্ব বিচার বৈঠকে এগুলো শুনতেছি। এমনকি কুরিয়ার সার্ভিসের মাধ্যমে শাড়ি কাপড় চোরাচালান করা হচ্ছে। এব্যাপারে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী কে তিনি সতর্ক দৃষ্টি দেয়ার অনুরোধ জানান।”
এছাড়া অবৈধ বালু উত্তোলন বন্ধে কঠোর হওয়ার আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন—
“আমি চাই যে বালু মহাল গুলো ইজারা দিয়ে দেন। যেহেতু বালু প্রয়োজন বালু উঠাক। ইজারা দিয়ে দিলে গভর্মেন্ট রেভিনিউ পাবে। যারা এলাকা ভিত্তিক পুলিশের দায়িত্বে থাকে অবৈধ বালু উত্তোলন কারীদের সাথে লিয়াজো হয়ে যায়। আমি চাই পুলিশে ঘন ঘন বদলি হলে ভালো হবে। শ্রীমঙ্গল এবং কমলগঞ্জ এই দুই থানায় এইটা একটা বিশেষ সমস্যা হয়ে দাঁড়িয়েছে। আমি এ ব্যাপারে প্রশাসনের সর্বাত্মক সহযোগিতা চাই। ইজারার মাধ্যমে যদি আসে অসুবিধা নাই।”
সভায় জেলা প্রশাসক তৌহিদুজ্জামান পাভেল বলেন—
“জেলা প্রশাসনের তরফ থেকে আমরা নিরপেক্ষ ও যথাযথ ভাবে কাজ করছি। এই জেলার মাননীয় সংসদ সদস্য গণ নির্বাচিত জনপ্রতিনিধি। জনগণের প্রত্যাশা অনুযায়ী নির্বাচিত জনপ্রতিনিধিগণের পরামর্শ অনুযায়ী নতুন বাংলাদেশ বিনির্মাণে জেলা ও উপজেলা প্রশাসনের কর্মকর্তাগণ কাজ করে যাবে । সেক্ষেত্রে তিনি সকল সংসদ সদস্য গণের সার্বিক সহযোগিতা চান।
পুলিশ সুপার মোহাম্মদ বিল্লাল হোসেন সংসদ সদস্যদের উদ্দেশ্যে বলেন—
“মৌলভীবাজার জেলার আপনারা অভিভাবক জনগণের প্রতিনিধি। আপনারা যা যা বলেছেন সেটা আমারা অক্ষরে অক্ষরে পালন করবো। এবং সেটা আইনের ভিত্তিতে এবং প্রফেনালিজম মেনটেইন করেই। আপনাদের দেওয়া জনগণের জন্য কল্যাণকর যে কাজ গুলো আমরা কনফার্ম করবো।”
তিনি বলেন—
“আজকে এমন একটা মিটিং সেটা সবচেয়ে শক্তি শালী মিটিং। আজ থেকে আমরা সবাই শক্তি শালী। আজ আমরা কর্তৃপক্ষ পেয়েছি এ জেলায়। আজকের পরে দেখেন আমরা আর অসহায়ত্ব বোধ করি কি না। এটা আপনারা অবজারভেশনে ওয়াচে রাখবেন। আমি বিশ্বাস করি এই শক্তিশালী জনপ্রতিনিধি গণের মাধ্যমেই আমাদের মৌলভীবাজার জেলায় সরকারি কর্মচারী যারা আছি খুবই স্বতঃস্ফূর্ত ভাবে দায়িত্ব পালন করতে পারবো ইনশাআল্লাহ।”
মাদক ও কিশোর গ্যাং প্রসঙ্গে তিনি বলেন—
“মাদক এবং কিশোর গ্যাংয়ের বিষয়টা আমি এর প্রতিরোধ করবো। কারণ এখন আমরা কিন্তু গনতান্ত্রয়নের পথে সুস্পষ্ট এবং সুষ্ঠু ধারার রাজনীতিতে যাচ্ছি আমাদের দেশ। আপনার ফিরে আসছেন।”
তিনি আরও বলেন—
“শুধু দমন নিপীড়ন দিয়ে কিন্তু আইন প্রয়োগ করে কিন্তু আসলে এগুলো নিয়ন্ত্রণ করা কঠিন। সামাজিক আন্দোলনের মাধ্যমে আমাদের এগিয়ে যেতে হবে।”
শহরের ফুটপাত দখল প্রসঙ্গে এসপি বলেন—
“শহরের যেসব ফুটপাত দখলের যে বিষয়টি আছে আমরা সবাই মিলে কাজ করবো। আমি প্রথমেই বলেছি আমরা আজ থেকে শক্তি শালী। আজ আমরা টোটাল মৌলভীবাজারের অভিভাবকদের সঙ্গে আমরা কথা বলছি। আজকে আইনশৃঙ্খলা মিটিং এ আলোচনায় যে কথা গুলো আসছে এটা আমাদের জন্য আইন। এগুলো মাইনোটসে আসবে। অতএব আপনারা এখন থেকে আমাদেরকে অন্যভাবে দেখবেন ইনশাআল্লাহ।”
সভায় জেলা প্রশাসন, পুলিশ প্রশাসন, বিজিবি, আনসার ও ভিডিপি, ফায়ার সার্ভিসসহ বিভিন্ন সরকারি দপ্তরের কর্মকর্তাবৃন্দ ও জেলা বিএনপির আহবায়ক কমিটির সদস্য মো. আব্দুল মুকিত, মিজানুর রহমান,বকসী মিসবাউর রহমান,মো. ফখরুল ইসলাম উপস্থিত ছিলেন। সভা শেষে জেলার আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি আরও সুদৃঢ় ও জনবান্ধব রাখতে সংশ্লিষ্ট সব দপ্তরকে সমন্বিতভাবে কাজ করার ওপর গুরুত্বারোপ করা হয়।
এই মাত্র পাওয়া
জনপ্রতিনিধিদের অভিযোগ প্রশাসনকে গুরুত্ব দিয়ে দেখতে হবে: নাসের রহমান
-
মৌলভীবাজার প্রতিনিধি:
- প্রকাশিত: ০৯:৩৬:৪১ অপরাহ্ন, সোমবার, ৯ মার্চ ২০২৬
- 17
জনপ্রিয়














