মৌলভীবাজার সদর উপজেলার সরকার বাজারে ব্যক্তির ইজারাকৃত জায়গা জোরপূর্বক দখল করে ভ্রাম্যমান দোকান বসানো হয়েছে। সদর উপজেলা নির্বাহী অফিসার ও মৌলভীবাজার সড়ক বিভাগ জায়গা ইজারাদার সোলেমান মিয়া’কে বুঝিয়ে দেয়ার পরেও একটি মহলের চত্রছায়ায় সেই জায়গায় ভ্রাম্যমান দোকান বসানো হয়েছে। এনিয়ে উত্তেজনা বিরাজ করছে।
জানা যায়, মৌলভীবাজার সড়ক বিভাগের আওতাধীন মৌলভীবাজার-সিলেট আঞ্চলিক মহাসড়কের সরকার বাজারে সোনাওর ম্যানশন-১ নামক ভবনের যাতায়াতের জন্য একটি বাণিজ্যিক প্রবেশপথ নির্মাণের জন্য ৩.৩০ শতাংশ ভুমি সরকারের কাছ থেকে ইজারা নেয়া হয়। ২০২৫ সালের ২৫ ডিসেম্বর চুক্তি স্বাক্ষরিত হয় এবং ২৯ মার্চ সকালে মাঠ পর্যায়ে ইজারাদারকে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ বুঝিয়ে দেন।
সরেজমিন দেখা যায়, ইজারাকৃত ৩.৩০ শতাংশ ভুমি বুঝিয়ে পাওয়ার পর রাস্তা নির্মাণের জন্য ঢালাই দেয়া হয়। শনিবার সকালে ইজারাকৃত জায়গায় ভ্রাম্যমান ব্যবসায়ীরা বসেন। ইজারাকৃত জায়গা থেকে সরে অন্যত্র দোকান বসানোর কথা বললেও তারা আমলে নেননি। ইজারার এ জায়গা নিয়ে উদ্বুদ্ধ পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে। ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীরা অনেকটা জোরপূর্বক এখানে বসতে চাচ্ছেন।
ইজারাদার সোলেমান মিয়া বলেন, “সরকারী নীতিমালা মেনে এবং ফি পরিশোধ করে আমি এ জায়গা ইজারা নিয়েছি। কিন্তু কয়েকজন লোকের ইন্ধনে ভ্রাম্যমান ব্যবসায়ীদেরকে আমার ইজারাকৃত জায়গায় বসানো হয়েছে। এ মহল ভ্রাম্যমান ব্যবসায়ীদেরকে নানাভাবে প্রভাবিত করে ঝামেলা সৃষ্টি করতে চাচ্ছে।
সরকার বাজার ব্যবসায়ী সমিতির সভাপতি আব্দুস সামাদ সুনু বলেন, “একটি প্রভাবশালী মহল ফুতপাত দখল করে হকারদের কাছ থেকে প্রতি মাসে দোকান প্রতি থেকে ৪/৫ হাজার টাকা ভাড়া নেয়। ৪০/৫০ হাজার টাকা সিকিউরিটি ভাবত আদায় করেন। অথচ একটা ভবন নির্মাণ করে অনেকেই খরচ তোলতে পারেন না। আবার হকাররা ভবনে যাতায়াতের রাস্তা বন্ধ করে বসে পড়েন। সোলেমান মিয়া’র ইজারাকৃত জায়গার বিষয়ে তিনি বলেন, হকাররা উনার ভবনের রাস্তা বন্ধ করে দেয়। আমিও কয়েকদিন হকারদের বলেছি ভবনের সামন ছেড়ে বসার জন্য। কিন্তু তাদের সরানো সম্ভব হয়নি। তবে একটা ভবনের যাতায়াতের জন্য এতো জায়গা ইজারা নেয়া প্রয়োজন নয়। ১২/১৫ ফুট হলেই চলে।
মৌলভীবাজার সড়ক বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী মো: কায়সার হামিদ বলেন, “নিয়ম মেনেই বাণিজ্যিক ভবনের যাতায়াতের জন্য ইজারা দেয়া হয়েছে। ইজারাকৃত জায়গায় ভ্রাম্যমান ব্যবসায়ী বসা ঠিক হবে না। কেউ এরকম করলে তাদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেয়া হবে।
মৌলভীবাজার সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো: রাজীব হোসেন বলেন, “ দুই বার গিয়ে এই জায়গা ইজারাদারকে বুঝিয়ে আসছিলাম। তারপরেও শুনেছি কিছু লোক আবার বসেছে। প্রয়োজনে আবার গিয়ে তাদের সাথে কথা বলে সমাধান করা হবে।








