বাংলাদেশ ১০:৩৭ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ০৩ এপ্রিল ২০২৬, ২০ চৈত্র ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

লাম্পি স্কিন রোগে মরছে গরু, আতঙ্কে খামারিরা

লাম্পি স্কিন রোগে মরছে গরু, আতঙ্কে খামারিরা।বিষেশ করে ক্ষতি গ্রস্ত হচ্ছেন প্রান্তিক ক্ষুদ্র ও মৌসুমী খামারিরা ।

মৌলভীবাজারে রাজনগর উপজেলায় লাম্পি স্কিন রোগের প্রার্দুভাবে থামছে না গরুর মৃত্যু। ইতোমধ্যেই উপজেলার পাঁচগাঁও ইউনিয়নে প্রায় ১০টি গরু মারা গেছে।মারা যাওয়া গরুদের মধ্যে বাছুরের সংখ্যা বেশি। এতে আতঙ্কিত হয়ে পড়ছেন প্রান্তিক ও ক্ষুদ্র খামারীরা অনেকে আবার কমদামে গরু বিক্রয় করছেন । উপজেলা প্রাণিসম্পদ বিভাগ বলছে, আতঙ্কিত না হয়ে চিকিৎসা নিলেই ভালো হবে গরু।

উপজেলার পশ্চিমভাগ এলাকার প্রান্তিক খামারি বুট্টু ঘোষ বলেন, আমি একজন প্রান্তিক খামারী আমার একটি অস্ট্রেলিয়ান দুধের গাভী ও দেশি প্রজাতির দুই তিনটা গরু রয়েছে। আমি গাভীর দুধ বিক্রয় করে ও গাভী বাছুর বিক্রয় করে করে আমার জীবিকা চলে।গত দুইদিন পূর্বে আমার একটি দুধের গাভীর বাছুর লাম্পি স্ক্রীন রোগে আক্রান্ত হয়ে মারা গেছে এতে আমি অনেক ক্ষতি সম্মুখীন হয়ে পড়েছি।

একই এলাকার ক্ষুদ্র খামারি সিয়াবালি বলেন,আমার একটা বকনা বাছুর প্রায় দশ দিন ধরে অসুস্থ লাম্পি স্কিন রোগে এ পর্যন্ত চিকিৎসা বাবদ প্রায় ১০ হাজার টাকা খরচ করেও শেষ মেষ বাচাতে পারিনি।

মৌসুমি খামারি আতিক বলেন, কুরবানীর ঈদকে সামনে রেখে তিনটি ষাঁড় গরু লালন পালন করেছিলাম হঠাৎ করে তিনটি গরুই মারা গেল।

উপজেলার আটটি ইউনিয়নের বিভিন্ন এলাকায় লাম্পি স্কিন রোগ ছড়িয়ে পড়েছে। এখনই গুরুত্ব না দিলে কৃষক ও খামারিরা সর্বস্বান্ত হবেন।খোঁজ নিয়ে জানা গেছে এমন চিত্র শুধু রাজনগর উপজেলা নয় জেলার সব উপজেলাতে লম্পি স্ক্রিন রোগের প্রাদুর্ভাব রয়েছে।

এ রোগের লক্ষণ হচ্ছে, আক্রান্ত গরুর শরীর চাকাচাকা হয়ে যায়, লোম উঠে যায়, ক্ষত হয়ে শরীরের চারদিকে ছড়িয়ে পড়ে। পা ফুলে যায়, শরীরে উচ্চ তাপমাত্রার জ্বর আসে। জ্বরের সঙ্গে নাক-মুখ দিয়ে লালা বের হয়। খাওয়া বন্ধ হয়ে যায়। ছটফট করতে করতে গরু মারা যায়।’

উপজেলা প্রাণিসম্পদ দপ্তর সূত্রে জানা যায়, উপজেলায় নিবন্ধিত গাভীর খামার রয়েছে ৪৫টি। এতে গাভী রয়েছে ৪৭৯টি। ১০৬টি অনিবন্ধিত খামারে গাভী রয়েছে ১ হাজার ৭৮৬টি। গরু হৃষ্টপুষ্টকরণ নিবন্ধিত ৬টি খামারে গরু রয়েছে ৪৬টি। ১৬২টি অনিবন্ধিত খামারে গরু রয়েছে এক হাজার ১৯২ টি।

উপজেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা ডা.এ কে এম মোস্তাকিম বিল্লা বলেন, ‘এটি ভাইরাসজনিত চর্মরোগ। আতঙ্কিত হওয়ার কিছু নেই, প্রাণিসম্পদ দপ্তরের চিকিৎসা নিলেই ভালো হবে গরু।’

ট্যাগ :

লাম্পি স্কিন রোগে মরছে গরু, আতঙ্কে খামারিরা

প্রকাশিত: ১০:০১:৫৯ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ৩ এপ্রিল ২০২৬

লাম্পি স্কিন রোগে মরছে গরু, আতঙ্কে খামারিরা।বিষেশ করে ক্ষতি গ্রস্ত হচ্ছেন প্রান্তিক ক্ষুদ্র ও মৌসুমী খামারিরা ।

মৌলভীবাজারে রাজনগর উপজেলায় লাম্পি স্কিন রোগের প্রার্দুভাবে থামছে না গরুর মৃত্যু। ইতোমধ্যেই উপজেলার পাঁচগাঁও ইউনিয়নে প্রায় ১০টি গরু মারা গেছে।মারা যাওয়া গরুদের মধ্যে বাছুরের সংখ্যা বেশি। এতে আতঙ্কিত হয়ে পড়ছেন প্রান্তিক ও ক্ষুদ্র খামারীরা অনেকে আবার কমদামে গরু বিক্রয় করছেন । উপজেলা প্রাণিসম্পদ বিভাগ বলছে, আতঙ্কিত না হয়ে চিকিৎসা নিলেই ভালো হবে গরু।

উপজেলার পশ্চিমভাগ এলাকার প্রান্তিক খামারি বুট্টু ঘোষ বলেন, আমি একজন প্রান্তিক খামারী আমার একটি অস্ট্রেলিয়ান দুধের গাভী ও দেশি প্রজাতির দুই তিনটা গরু রয়েছে। আমি গাভীর দুধ বিক্রয় করে ও গাভী বাছুর বিক্রয় করে করে আমার জীবিকা চলে।গত দুইদিন পূর্বে আমার একটি দুধের গাভীর বাছুর লাম্পি স্ক্রীন রোগে আক্রান্ত হয়ে মারা গেছে এতে আমি অনেক ক্ষতি সম্মুখীন হয়ে পড়েছি।

একই এলাকার ক্ষুদ্র খামারি সিয়াবালি বলেন,আমার একটা বকনা বাছুর প্রায় দশ দিন ধরে অসুস্থ লাম্পি স্কিন রোগে এ পর্যন্ত চিকিৎসা বাবদ প্রায় ১০ হাজার টাকা খরচ করেও শেষ মেষ বাচাতে পারিনি।

মৌসুমি খামারি আতিক বলেন, কুরবানীর ঈদকে সামনে রেখে তিনটি ষাঁড় গরু লালন পালন করেছিলাম হঠাৎ করে তিনটি গরুই মারা গেল।

উপজেলার আটটি ইউনিয়নের বিভিন্ন এলাকায় লাম্পি স্কিন রোগ ছড়িয়ে পড়েছে। এখনই গুরুত্ব না দিলে কৃষক ও খামারিরা সর্বস্বান্ত হবেন।খোঁজ নিয়ে জানা গেছে এমন চিত্র শুধু রাজনগর উপজেলা নয় জেলার সব উপজেলাতে লম্পি স্ক্রিন রোগের প্রাদুর্ভাব রয়েছে।

এ রোগের লক্ষণ হচ্ছে, আক্রান্ত গরুর শরীর চাকাচাকা হয়ে যায়, লোম উঠে যায়, ক্ষত হয়ে শরীরের চারদিকে ছড়িয়ে পড়ে। পা ফুলে যায়, শরীরে উচ্চ তাপমাত্রার জ্বর আসে। জ্বরের সঙ্গে নাক-মুখ দিয়ে লালা বের হয়। খাওয়া বন্ধ হয়ে যায়। ছটফট করতে করতে গরু মারা যায়।’

উপজেলা প্রাণিসম্পদ দপ্তর সূত্রে জানা যায়, উপজেলায় নিবন্ধিত গাভীর খামার রয়েছে ৪৫টি। এতে গাভী রয়েছে ৪৭৯টি। ১০৬টি অনিবন্ধিত খামারে গাভী রয়েছে ১ হাজার ৭৮৬টি। গরু হৃষ্টপুষ্টকরণ নিবন্ধিত ৬টি খামারে গরু রয়েছে ৪৬টি। ১৬২টি অনিবন্ধিত খামারে গরু রয়েছে এক হাজার ১৯২ টি।

উপজেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা ডা.এ কে এম মোস্তাকিম বিল্লা বলেন, ‘এটি ভাইরাসজনিত চর্মরোগ। আতঙ্কিত হওয়ার কিছু নেই, প্রাণিসম্পদ দপ্তরের চিকিৎসা নিলেই ভালো হবে গরু।’