বাংলাদেশ ০৭:১২ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ০২ এপ্রিল ২০২৬, ১৯ চৈত্র ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

মৌলভীবাজারে ‘আমেজহীন’ ভোটের মাঠ

মৌলভীবাজার—৩ (সদর ও রাজনগর) আসনে নির্বাচনী প্রচারণা আমেজহীন হয়ে
পড়েছে। দীর্ঘ কয়েক বছর মাঠ চষে বেড়ানো জামায়াতে ইসলামীর প্রার্থী আব্দুল
মান্নান জোটগত সিদ্ধান্তে নির্বাচনী দৌড় থেকে ছিটকে পড়ায়
মৌলভীবাজার—৩ আসনের ভোটারদের মধ্যে নির্বাচনী সেই আমেজ নেই।
নিরুত্তাপ ভোটের হাওয়া বইছে।
এ আসনে প্রার্থীরা হলেন, বিএনপি’র এম নাসের রহমান, খেলাফত মজলিসের (১১
দলীয় জোটের) মাওলানা আহমদ বিলাল ও বাংলাদেশ কমিউনিস্ট পার্টি’র জহর লাল দত্ত।
মনোনয়ন প্রত্যাহার না করলেও জোটগত সিদ্ধান্তে নির্বাচন থেকে সড়ে
দাঁড়িয়েছেন জামায়াত মনোনীত প্রার্থী মো: আব্দুল মান্নান।
রাজনগর উপজেলার মুন্সিবাজার, টেংরাবাজার ও রাজনগর সদরের সাধারণ ভোটারদের
সাথে কথা বলে জানা যায়, গত দেড় বছর ধরে আব্দুল মান্নান এই আসনের গ্রাম—
গঞ্জে গণসংযোগ করেছেন। সমাজসেবামূলক কর্মকাণ্ডের কারণে তিনি সাধারণ
মানুষের মধ্যে শক্ত অবস্থান তৈরি করেছিলেন। বিএনপির হেভিওয়েট প্রার্থী এম
নাসের রহমানের সাথে তিনি শক্তিশালী প্রতিদ্বন্দ্বি হিসেবে মাঠে ছিলেন।
তবে মনোনয়ন প্রত্যাহারের শেষ মুহূর্তে ‘১১ দলীয় জোটের’ আসন সমঝোতায়
বড় পরিবর্তন আসে। জোটের কারণে জামায়াতকে তাদের দীর্ঘদিনের পরিশ্রমের
এই আসনটি ছেড়ে দিতে হয়। সমঝোতা অনুযায়ী, এই আসনে জোটের শরিক দল
খেলাফত মজলিসের প্রার্থী আহমদ বেলালকে চুড়ান্ত মনোনয়ন দেওয়া হয়েছে। যদিও
শেষ মুহূর্তে জামায়াত প্রার্থী মো: আব্দুল মান্নান’কে ঘিরে স্থানীয়
নেতাকর্মীদের মধ্যে ব্যাপক অসন্তোষ তৈরি হয়েছিল। মনোনয়ন প্রত্যাহারের শেষ
দিন সাধারণ ভোটাররা তাকে বাসায় অবরুদ্ধ করে রাখায় আব্দুল মান্নান
প্রার্থিতা প্রত্যাহার করতে পারেননি।
জামায়াতের শক্তিশালী প্রার্থী মাঠ থেকে সরে যাওয়ায় ভোটারদের বড় একটি অংশ
মনে করছেন, লড়াই এখন পানসে হয়ে পড়েছে। জামায়াতের তৃণমূল নেতাকর্মীদের
মধ্যে ক্ষোভ আর সাধারণ ভোটারদের বড় অংশের নিরাসক্তি মিলিয়ে মৌলভীবাজারে
এখন বইছে ‘আমেজহীন’ নির্বাচনী হাওয়া।

এদিকে ১১ দলীয় জোটের চুড়ান্ত মনোনয়ন পাওয়ার পর থেকে দেয়াল ঘড়ি মার্কার
প্রার্থী আহমদ বিলাল পুরোদমে নির্বাচনী প্রচার প্রচারণায় নেমেছেন। মাঠে
ময়দানে নিজের অবস্থান জানান দিচ্ছেন।
ছাত্রনেতা শাহ মামুন বলেন, জামায়াত প্রার্থী বাদ পড়ায় নির্বাচনের আমেজ
কমে গেছে। এ আসনে বিএনপি’র প্রার্থী এম নাসের রহমান বিপুল ভোটে
বিজয়ী হবেন।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক জুলাই আন্দোলনে আহত হওয়া এক ছাত্রনেতা বলেন, আব্দুল
মান্নানকে বিএনপি শক্তিশালী প্রতিদ্বন্দ্বি ভেবে মাঠে সোচ্চার ছিলো। কিন্তু
১১ দলীয় জোটের প্রার্থী খেলাফত মজলিসের আহমদ বিলালকে চুড়ান্ত নমিনেশন
দেয়ায় বিএনপির প্রার্থীর মাঠে এফর্ট কমে গেছে। তারা নিশ্চিত বিজয় ধরে
নিয়েছে। তাই আগের চেয়ে নির্বাচনী আমেজ একদম কমে গেছে।
দেয়াল ঘড়ি মার্কার প্রার্থীর মিডিয়া উইং খিজির মুহাম্মাদ জুলফিকার বলেন,
আমরা মাঠে ব্যাপক সাড়া পাচ্ছি। নির্বাচনী আমেজ পূর্বের চেয়ে আরো
বেড়েছে। আমরা আশাবাদী জোটের সহযোগী দল জামায়াতে ইসলামীর নেতা
কর্মীরা শীঘ্রই আমাদেরকে সমর্থন দিয়ে মাঠে নামবেন। তখন পুরোদমে
নির্বাচনী আমেজ আসবে। আমরা এটাও আশাবাদী মো: আব্দুল মান্নান ভাইয়ের
ভোটাররা সবাই দেয়াল ঘড়ি মার্কায় ভোট দিবেন। আমরা সবাই মিলেমিশে
বিজয় ছিনিয়ে আনবো।
বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী মৌলোভীবাজার জেলা সেক্রেটারি ইয়ামির আলী
বলেন, কেন্দ্রের নির্দেশনা হচ্ছে জোটের প্রার্থী থাকবেন একজন। সে হিসেবে
খেলাফত মজলিসের প্রার্থী আহমদ বিলালকে চুড়ান্ত মনোনয়ন দেওয়া হয়েছে।
জোটের শরিক দল হিসেবে আমরা ১১ দলীয় জোটের প্রার্থী’র প্রচারণায়
সর্বোচ্চ সহযোগিতা করবো। কেন্দ্রের সহযোগিতায় আব্দুল মান্নানের
প্রার্থীতা প্রত্যাহারের চেষ্টা চলমান রয়েছে।

মৌলভীবাজারে ‘আমেজহীন’ ভোটের মাঠ

প্রকাশিত: ১২:১৬:০৬ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ৩০ জানুয়ারী ২০২৬

মৌলভীবাজার—৩ (সদর ও রাজনগর) আসনে নির্বাচনী প্রচারণা আমেজহীন হয়ে
পড়েছে। দীর্ঘ কয়েক বছর মাঠ চষে বেড়ানো জামায়াতে ইসলামীর প্রার্থী আব্দুল
মান্নান জোটগত সিদ্ধান্তে নির্বাচনী দৌড় থেকে ছিটকে পড়ায়
মৌলভীবাজার—৩ আসনের ভোটারদের মধ্যে নির্বাচনী সেই আমেজ নেই।
নিরুত্তাপ ভোটের হাওয়া বইছে।
এ আসনে প্রার্থীরা হলেন, বিএনপি’র এম নাসের রহমান, খেলাফত মজলিসের (১১
দলীয় জোটের) মাওলানা আহমদ বিলাল ও বাংলাদেশ কমিউনিস্ট পার্টি’র জহর লাল দত্ত।
মনোনয়ন প্রত্যাহার না করলেও জোটগত সিদ্ধান্তে নির্বাচন থেকে সড়ে
দাঁড়িয়েছেন জামায়াত মনোনীত প্রার্থী মো: আব্দুল মান্নান।
রাজনগর উপজেলার মুন্সিবাজার, টেংরাবাজার ও রাজনগর সদরের সাধারণ ভোটারদের
সাথে কথা বলে জানা যায়, গত দেড় বছর ধরে আব্দুল মান্নান এই আসনের গ্রাম—
গঞ্জে গণসংযোগ করেছেন। সমাজসেবামূলক কর্মকাণ্ডের কারণে তিনি সাধারণ
মানুষের মধ্যে শক্ত অবস্থান তৈরি করেছিলেন। বিএনপির হেভিওয়েট প্রার্থী এম
নাসের রহমানের সাথে তিনি শক্তিশালী প্রতিদ্বন্দ্বি হিসেবে মাঠে ছিলেন।
তবে মনোনয়ন প্রত্যাহারের শেষ মুহূর্তে ‘১১ দলীয় জোটের’ আসন সমঝোতায়
বড় পরিবর্তন আসে। জোটের কারণে জামায়াতকে তাদের দীর্ঘদিনের পরিশ্রমের
এই আসনটি ছেড়ে দিতে হয়। সমঝোতা অনুযায়ী, এই আসনে জোটের শরিক দল
খেলাফত মজলিসের প্রার্থী আহমদ বেলালকে চুড়ান্ত মনোনয়ন দেওয়া হয়েছে। যদিও
শেষ মুহূর্তে জামায়াত প্রার্থী মো: আব্দুল মান্নান’কে ঘিরে স্থানীয়
নেতাকর্মীদের মধ্যে ব্যাপক অসন্তোষ তৈরি হয়েছিল। মনোনয়ন প্রত্যাহারের শেষ
দিন সাধারণ ভোটাররা তাকে বাসায় অবরুদ্ধ করে রাখায় আব্দুল মান্নান
প্রার্থিতা প্রত্যাহার করতে পারেননি।
জামায়াতের শক্তিশালী প্রার্থী মাঠ থেকে সরে যাওয়ায় ভোটারদের বড় একটি অংশ
মনে করছেন, লড়াই এখন পানসে হয়ে পড়েছে। জামায়াতের তৃণমূল নেতাকর্মীদের
মধ্যে ক্ষোভ আর সাধারণ ভোটারদের বড় অংশের নিরাসক্তি মিলিয়ে মৌলভীবাজারে
এখন বইছে ‘আমেজহীন’ নির্বাচনী হাওয়া।

এদিকে ১১ দলীয় জোটের চুড়ান্ত মনোনয়ন পাওয়ার পর থেকে দেয়াল ঘড়ি মার্কার
প্রার্থী আহমদ বিলাল পুরোদমে নির্বাচনী প্রচার প্রচারণায় নেমেছেন। মাঠে
ময়দানে নিজের অবস্থান জানান দিচ্ছেন।
ছাত্রনেতা শাহ মামুন বলেন, জামায়াত প্রার্থী বাদ পড়ায় নির্বাচনের আমেজ
কমে গেছে। এ আসনে বিএনপি’র প্রার্থী এম নাসের রহমান বিপুল ভোটে
বিজয়ী হবেন।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক জুলাই আন্দোলনে আহত হওয়া এক ছাত্রনেতা বলেন, আব্দুল
মান্নানকে বিএনপি শক্তিশালী প্রতিদ্বন্দ্বি ভেবে মাঠে সোচ্চার ছিলো। কিন্তু
১১ দলীয় জোটের প্রার্থী খেলাফত মজলিসের আহমদ বিলালকে চুড়ান্ত নমিনেশন
দেয়ায় বিএনপির প্রার্থীর মাঠে এফর্ট কমে গেছে। তারা নিশ্চিত বিজয় ধরে
নিয়েছে। তাই আগের চেয়ে নির্বাচনী আমেজ একদম কমে গেছে।
দেয়াল ঘড়ি মার্কার প্রার্থীর মিডিয়া উইং খিজির মুহাম্মাদ জুলফিকার বলেন,
আমরা মাঠে ব্যাপক সাড়া পাচ্ছি। নির্বাচনী আমেজ পূর্বের চেয়ে আরো
বেড়েছে। আমরা আশাবাদী জোটের সহযোগী দল জামায়াতে ইসলামীর নেতা
কর্মীরা শীঘ্রই আমাদেরকে সমর্থন দিয়ে মাঠে নামবেন। তখন পুরোদমে
নির্বাচনী আমেজ আসবে। আমরা এটাও আশাবাদী মো: আব্দুল মান্নান ভাইয়ের
ভোটাররা সবাই দেয়াল ঘড়ি মার্কায় ভোট দিবেন। আমরা সবাই মিলেমিশে
বিজয় ছিনিয়ে আনবো।
বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী মৌলোভীবাজার জেলা সেক্রেটারি ইয়ামির আলী
বলেন, কেন্দ্রের নির্দেশনা হচ্ছে জোটের প্রার্থী থাকবেন একজন। সে হিসেবে
খেলাফত মজলিসের প্রার্থী আহমদ বিলালকে চুড়ান্ত মনোনয়ন দেওয়া হয়েছে।
জোটের শরিক দল হিসেবে আমরা ১১ দলীয় জোটের প্রার্থী’র প্রচারণায়
সর্বোচ্চ সহযোগিতা করবো। কেন্দ্রের সহযোগিতায় আব্দুল মান্নানের
প্রার্থীতা প্রত্যাহারের চেষ্টা চলমান রয়েছে।